শনিবার  ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩,   মাঘ ২১ ১৪২৯,  ১৩ রজব ১৪৪৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

হৃদ্‌রোগ-স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটুকু জানিয়ে দেবে চোখ

প্রকাশিত: ১২:৫৬, ৫ ডিসেম্বর ২০২২

হৃদ্‌রোগ-স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটুকু জানিয়ে দেবে চোখ

হৃদ্‌রোগ-স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটুকু জানিয়ে দেবে চোখ

তথ্যপ্রযুক্তি আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নের এই যুগে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বিশ্ব। এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে বিপদ ঘটার আগেই শনাক্ত করা যাবে সংবহনতন্ত্রের সমস্যা। ফলে কমবে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি। আটকানো যাবে স্ট্রোকও। এমনই আশার কথা শোনালেন ব্রিটিশ গবেষকরা।

লন্ডনের কিংস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক গবেষণায় দেখেছেন, ‘এআই’-চালিত স্ক্যান সফলভাবে হৃদ্‌রোগের সমস্যা চিহ্নিত করতে সক্ষম।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গবেষকরা দাবি করেছেন, ‘এআই’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে চোখ স্ক্যান করেই দ্রুত এবং সঠিকভাবে নির্ণয় করা যেতে পারে স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি। একজন ব্যক্তির স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি রয়েছে নাকি নেই কিংবা থাকলে তা কতটুকু তাও বলে দেবে এই নতুন প্রযুক্তি। যার মাধ্যমে রোগী সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাবে।

এ প্রযুক্তিতে ‘কোয়ার্ৎজ’ অ্যালগরিদম কাজে লাগিয়ে কাজ করা হবে। অ্যালগরিদম পদ্ধতি হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সাজিয়ে একটি বিধি তৈরি করা হয়। আর সেই পূর্বনির্দিষ্ট বিধিনিয়মের ওপর ভিত্তি করে গাণিতিকভাবে সমস্যার সমাধান এবং তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।

এই পদ্ধতিতে রেটিনার রক্তপ্রবাহগুলো পরীক্ষা করা হয়। এক মিনিটেরও কম সময়ে এই পদ্ধতি একটি একক রেটিনার চিত্র মূল্যায়ন করতে সক্ষম।

এ গবেষণায় পরীক্ষামূলকভাবে ব্রিটেনের ৪০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী ৮৮,০৫২ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তির চোখের রেটিনার ছবি নেয়া হয়।

পাশাপাশি তাদের বয়স, লিঙ্গ, ধূমপানের অভ্যাস, চিকিৎসার ইতিহাসও যাচাই-বাছাই করা হয়। এসব তথ্যের সঙ্গে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং সংবহনতন্ত্রজনিত রোগের পরিসংখ্যান তুলনা করে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেন গবেষকরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তথ্য বিশ্লেষণের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্ক্যানের মাধ্যমে। এর মা্যেমেই চোখের ধমনীর প্রস্থ, ধমনীর ক্ষেত্রফল এবং বক্রতার মাপ পরীক্ষা করে বলে দেওয়া যাবে আসন্ন শারীরিক ঝুঁকির কথা।

বিজ্ঞানীদের আশা, যেহেতু এই অত্যাধুনিক পরীক্ষা সহজে ও খুব অল্প সময়ে করা যেতে পারে তাই ভবিষ্যতে স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগের সমস্যা আগেই চিহ্নিত করতে বিশেষভাবে কাজে লাগবে এই নতুন পদ্ধতি।