বুধবার  ০৫ অক্টোবর ২০২২,   আশ্বিন ১৯ ১৪২৯,  ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

বঙ্গবন্ধুর প্রহসন মূলক বিচার শুরু (১৯৭১)

প্রকাশিত: ২১:২৩, ১০ আগস্ট ২০২২

বঙ্গবন্ধুর প্রহসন মূলক বিচার শুরু (১৯৭১)

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

১৯৭১ সালের ৯ আগস্ট প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের সদর দপ্তর একটি প্রেসনোট জারি করে, যেখানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই নোটে আরো বলা হয়, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ১১ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের বিচারকার্য শুরু হবে।

আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আমেরিকার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বক্তব্য প্রদানকালে কংগ্রেসম্যান কর্নেলিয়াস গালাঘর বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের সামরিক সরকারকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।

আগস্ট মাসের ৯ তারিখে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে শেখ মুজিবের জীবন নিয়ে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এতে পাকিস্তানই ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বিশ্বের সব গণতন্ত্রমনা, স্বাধীনতাকামী ও ন্যায়বিচারপ্রত্যাশী দেশের ও জনগণের প্রতি শেখ মুজিবকে বিচারের নামে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের ওই প্রহসন বন্ধ করার জন্য আকুল আবেদন জানান।

আগস্ট মাসে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ১৩০ জন সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির জন্য সংসদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। লেবার পার্টির এমপি জন স্টোনহাউস প্রস্তাবটি উত্থাপনকালে বলেন, পূর্ব বাংলায় যে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটছে তা বন্ধ করতে হলে শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। এ ছাড়া লেবার পার্টির এমপি রেজিনাল্ড প্রেন্টিস ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার এলিস ডগলাসকে অনুরোধ করেন শেখ মুজিবুর রহমানের নিরাপত্তার বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য।

৯ আগস্ট ভারতের লোকসভায় দেওয়া বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বিচার প্রহসনকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, যা বিশ্ববাসীর নিন্দাই প্রাপ্য বলে উল্লেখ করেন। শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগের বিষয়টি বারবার বিশ্ববাসীকে জানানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের কোনো ক্ষতি করা হলে বাংলাদেশে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সেসবের দায়দায়িত্ব পাকিস্তানের শাসকদেরই নিতে হবে। এ ব্যাপারে লোকসভার ৫০০ সদস্য একই মত পোষণ করেন।

বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের গোপন সামরিক আদালতে বিচার শুরু করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের বিবৃতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১০ আগস্ট বিশ্বের সব দেশের সরকারপ্রধানের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির ব্যাপারে একটি বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় তিনি কথিত বিচারের আড়ালে শেখ মুজিবুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সবাইকে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে তাঁদের প্রভাব খাটাতে অনুরোধ করেন।    

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার শরণ সিং আগস্টের ১০ তারিখে জাতিসংঘের মহাসচিব উথান্টকে একটি বার্তা পাঠান। তাতে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার শুরুর ব্যাপারে পাকিস্তানের ঘোষণায় সবার মর্মাহত হওয়ার কথা বলেন। ওই দিনই জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে শেখ মুজিবের বিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘ মহাসচিবের ওই বিবৃতির প্রতিবাদে পাকিস্তান জাতিসংঘের এ বিষয়ে কিছু বলার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলে।