বৃহস্পতিবার  ১১ আগস্ট ২০২২,   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯,  ১৩ মুহররম ১৪৪৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

পাকিস্তান টেলিভিশনে, সামরিক আদালতে বঙ্গবন্ধুর বিচারের ঘোষণা

প্রকাশিত: ২২:১৩, ৩ আগস্ট ২০২২

পাকিস্তান টেলিভিশনে, সামরিক আদালতে বঙ্গবন্ধুর বিচারের ঘোষণা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে (২৬ তারিখ, শুক্রবার) তাঁর ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী গ্রেপ্তার করে এবং পরে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায় ও আটক করে (ডিটেনশন) রাখে। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছিল ও তিনি কেমন আছেন তা কেউ জানত না।

এমনকি তিনি জীবিত আছেন কি না সে খবরটিও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। যদিও স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে বলা হতো যে তিনি ভালো আছেন এবং আমাদের সঙ্গেই আছেন; স্বাধীনতাযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ বাঙালি জাতি কোনোক্রমেই যাতে মনোবল না হারায় সে কারণেই ঘোষণাটি বারবার দেওয়া হতো। যাহোক পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু যে জীবিত আছেন এ তথ্য মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায় যখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য গোপনে পাকিস্তানের কোনো এক সামরিক আদালতে বিচারের ঘোষণা দেন।

৩ আগস্ট পাকিস্তান টেলিভিশনে এক সাক্ষাত্কারে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দেশের আইন অনুসরণ করেই তাঁর বিচার করা হবে। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া আরো বলেন, শেখ মুজিব দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহই করেননি, তিনি সশস্ত্র সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছেন। তবে যে সত্যটি জেনারেল ইয়াহিয়া উচ্চারণ করেছেন তা হলো, শেখ মুজিব নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা এবং ওই দলটি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এরপর ১৯৭১ সালের ৯ আগস্ট প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের সদর দপ্তর একটি প্রেসনোট জারি করে, যেখানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই নোটে আরো বলা হয়, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ১১ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের বিচারকার্য শুরু হবে। 

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক সরকার কেন বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছিল? ২৬ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া পাকিস্তানের সব রেডিও ও টেলিভিশনে প্রচারিত তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, ‘Sheikh Mujibur Rahman’s action of starting his non-cooperation movement is an act of treason...’। কেন জেনারেল ইয়াহিয়া খান বলেছিলেন, শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন বলে সামরিক আদালতে তাঁর বিচার করা হবে? ১৯৭১ সালের ৩ আগস্ট  পাকিস্তান টেলিভিশনে এক সাক্ষাত্কারে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করার কারণ হিসেবে বলেছিলেন, acts of treason, acts of open rebellion and incited armed rebellion against the state| এর কয়েক দিন পর ৯ আগস্ট পাকিস্তান সরকারের দেওয়া প্রেসনোটে বলা হয়, Sheikh Mujibur Rahman, President of the defunct Awami League, will be tried by a Special Military Court for waging war against Pakistan…| বঙ্গবন্ধু কি জেনারেল ইয়াহিয়ার ব্যক্তিগত শত্রু ছিলেন যে এই কথাগুলো বলেছিলেন? তাহলে তো ৩ আগস্টের টেলিভিশন সাক্ষাত্কারে ইয়াহিয়া বলতেন না, Sheikh Mujibur Rahman is not his opponent at all. I am only a caretaker and has nothing to oppose Sheikh Mujibur Rahman as a politician| ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশের আর কারো সম্পর্কে ওই ধরনের মন্তব্য করেননি বা ধরে নিয়ে পাকিস্তানের জেলে রেখে সামরিক আদালতে গোপন বিচারের আয়োজন করেননি? বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্দেশনা প্রত্যেক বাঙালির কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই।