ঢাকা,  মঙ্গলবার  ২৮ মে ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

খন্দকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুজিজা

প্রকাশিত: ২০:৩৮, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

খন্দকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুজিজা

খন্দকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুজিজা

ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে মক্কার কুরাইশ, মদিনার ইহুদি, বেদুইন, পৌত্তলিকেরা সম্মিলিতভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছিল।

খন্দক শব্দের অর্থ পরিখা বা গর্ত। যেহেতু এ যুদ্ধে অনেক পরিখা খনন করা হয়, তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে খন্দকের যুদ্ধ। এ যুদ্ধ আহজাব নামেও পরিচিত। আহজাব অর্থ সম্মিলিত বাহিনী।

হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)-এর বরাতে এ হাদিসের বর্ণনা আছে।

(খন্দকের যুদ্ধে) যখন পরিখা খনন করা হচ্ছে, তখন আমি নবী (সা.)-কে ভীষণ ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখতে পেলাম। স্ত্রীর কাছে ফিরে গিয়ে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার কাছে কি কিছু আছে? রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে দারুণ ক্ষুধার্ত দেখতে পেলাম।

সে একটি চামড়ার পাত্র এনে তা থেকে এক সা পরিমাণ যব বের করে দিল।

আমার বাড়িতে একটা বকরির বাচ্চা ছিল। আমি সেটা জবাই করলাম। আর সে (আমার স্ত্রী) যব পিষে দিল। আমার কাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে সে-ও তার কাজ শেষ করল। গোশত কেটে কেটে ডেকচিতে ভরে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ফিরে চললাম। (লোকের তুলনায় খাবার অনেক কম ছিল বলে) সে (স্ত্রী) বলল, ‘আমাকে রাসূলুল্লাহ (সা.) আর তার সাহাবিদের কাছে লজ্জিত করবেন না।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গিয়ে চুপে চুপে আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আমাদের একটি বকরির বাচ্চা জবাই করেছি। আর আমাদের ঘরে এক সা যব ছিল, আমার স্ত্রী পিষে দিয়েছে। আপনি আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আসুন’।

নবী (সা.) উচ্চস্বরে সবাইকে বললেন, ‘হে পরিখা খননকারীরা! জাবির খাবারের ব্যবস্থা করেছে। এসো, তোমরা সবাই এসো’।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আমি আসার আগে তোমাদের ডেকচি নামাবে না। খামির থেকে রুটিও তৈরি করবে না’।

আমি (বাড়িতে) এলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.)–ও সাহাবিদের নিয়ে এলেন। এরপর আমি আমার স্ত্রীর কাছে এলে সে বলল, ‘আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন’।

আমি বললাম, ‘তুমি যা বলেছ, আমি তা-ই করেছি’।

তখন সে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে আটার খামির বের করে দিলে তিনি (রাসূল সা.) তাতে মুখের লালা মিশিয়ে দিলেন এবং বরকতের জন্য দোয়া করলেন। এরপর ডেকচির কাছে এগিয়ে গিয়ে তাতে লালা মিশিয়ে সেটির বরকতের জন্য দোয়া করলেন।

এর পর বললেন, ‘রুটি প্রস্তুতকারিণীকে ডাকো। সে আমার কাছে বসে রুটি প্রস্তুত করুক, আর ডেকচি থেকে পেয়ালা ভরে গোশত বেড়ে দিক। তবে (চুলা থেকে) ডেকচি নামাবে না’।

সংখ্যায় তারা ছিলেন এক হাজার। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তারা সবারই তৃপ্তির সঙ্গে খেয়ে বাকি খাবার রেখে চলে গেলেন। অথচ আমাদের ডেকচি আগের মতোই টগবগ করছিল আর আমাদের আটার খামির থেকেও আগের মতোই রুটি তৈরি হচ্ছিল। (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৪১০২)