ঢাকা,  শনিবার  ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

গাজীপুর সিটি করপোরেশন : নানামুখী কার্যক্রম নিয়ে তৎপর সম্ভাব্য প্রার্থীরা

প্রকাশিত: ১৫:১৩, ১৮ মার্চ ২০২৩

আপডেট: ২৩:০৩, ১৮ মার্চ ২০২৩

গাজীপুর সিটি করপোরেশন : নানামুখী কার্যক্রম নিয়ে তৎপর সম্ভাব্য প্রার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২৩ মে থেকে ২৯ জুনের মধ্যে ৫টি সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। ইসির এই ঘোষণার পরই নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে গাজীপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী নগরীতে। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এলাকায় গণসংযোগে ব্যস্ত। এ নিয়েই ভোরের কাগজের ধারাবাহিক প্রতিবেদন-

এম নজরুল ইসলাম, গাজীপুর থেকে : দেশের বৃহত্তম সিটি করপোরেশন গাজীপুর। এই সিটি করপোরেশনের তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। আর নির্বাচন উপলক্ষে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। বিশেষ করে সরকারি দলের অন্তত হাফ ডজন নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। ওয়াজ মাহফিল তথা ধর্মীয় সভা, জানাজায় অংশগ্রহণ, বিভিন্ন স্কুল, কলেজের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সমাজ সেবামূলক নানা কাজে অংশ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন তারা। আর বর্তমান মেয়র এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমও দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগের একাধিক নেতা আলোচনায় রয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে সাধারণ নেতাকর্মীরা

কাজ করবে। দলীয়প্রধান হিসেবে তার সিদ্ধান্তই তৃণমূল নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন নেতা-কর্মীরা।
আগামী নির্বাচনে এরই মধ্যে আলোচনায় রয়েছে বর্তমান মেয়র এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্লা খান, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মন্ডলসহ বেশ কয়েকজন নেতার নাম। এছাড়া জাতীয় পার্টির এম এম নিয়াজ উদ্দিন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তবে এ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কোনো নেতার তেমন তৎপরতা দৃশ্যমান নেই।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও অলিগলি ছেয়ে গেছে রঙ বেরঙের পোস্টারে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল, বিয়ে সাদীসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের সরব উপস্থিতি বেড়েছে আগের তুলনায়।
সিটি নির্বাচনের অংশ নেয়ার ব্যাপারে গাজীপুর মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ছাত্রজীবন থেকে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করেছি। সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ব্যক্তি উদ্যোগে দুঃস্থ অসহায়দের ঘর নির্মাণ, গভীর নলকূপের ব্যবস্থা করেছি। আমি মনে করি, এসব বিবেচনায় আমি মেয়র মনোনয়ন পাব।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল বলেন, নগর পিতা নয়, তাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছেন, আমি স্মার্ট গাজীপুর সিটি গড়তে চাই। আমি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। করোনাকালে ৫৭টি ওয়ার্ডে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করেছি, খাদ্য সহায়তা করেছি। এছাড়া রমজান মাসে খাবার বিতরণসহ নানাভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন ও পঙ্গু ব্যক্তিদের হুইল চেয়ার দিয়েছি। আমি মনে করি, এসব কাজকে আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে মেয়র হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দেবেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খানের কর্মী সমর্থকরা বলেছেন, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে দীর্ঘ দিন সভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন আজমত উল্লা খান। এছাড়া তিনি সাবেক টঙ্গী পৌরসভার একাধিকবার নির্বাচিত পৌর মেয়র। বয়স এবং অভিজ্ঞতার বিবেচনায় তাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেবেন বলে তারা আশাবাদী।
এদিকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারীদের দাবি, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জাহাঙ্গীর আলম সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। তবে মেয়র থাকাকালীন সময়ে বিপুলসংখ্যক রাস্তাঘাট করেছেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছেন। ময়লা-আবর্জনা মুক্ত গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়তে তিনি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে তাকে মেয়র মনোনয়ন দেয়া হলে নগরীর অসমাপ্ত কাজ শেষ হবে, নগরবাসীর কষ্ট, দুর্ভোগ দূর হবে। সাধারণ মানুষ জাহাঙ্গীরকে মেয়র হিসাবে চাচ্ছেন সেটা যেকোন চা স্টল, রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন আড্ডার আলোচনা শুনলেই বোঝা যায়।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের পর প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন বিএনপির প্রয়াত নেতা অধ্যাপক এম এ মান্নান। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। অধ্যাপক এম এ মান্নান কারাগারে ও জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্তের কারণে দুই মেয়াদে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আসাদুর রহমান।