ঢাকা,  মঙ্গলবার  ২৮ মে ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

শ্রীপুরে কাঁঠালের বাম্পার ফলন, কাঁঠাল চাষীদের মুখে হাসি

প্রকাশিত: ২২:৪৭, ১৫ মে ২০২৪

শ্রীপুরে কাঁঠালের বাম্পার ফলন, কাঁঠাল চাষীদের মুখে হাসি

সংগৃহিত ছবি

শ্রীপুরে জাতীয় ফল কাঁঠালের বাম্পার ফলন চাষীদের মুখে হাসি। গাছের গোড়া থেকে মগডাল পর্যন্ত শোভা পাচ্ছে কাঁঠাল। সপ্তাহখানেকের মাধ্যমে কাঁঠাল পাকতে শুরু করবে পুরোদমে।

যেদিকে চোখ যাচ্ছে শুধু গাছে গাছে কাঁঠাল আর কাঁঠাল দেখা মিলছে। কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। কাঁঠাল ভালোবাসে না এমন লোক পাওয়া খুবই দুষ্কর। তারপরও যদি হয় মিষ্টি ও সুস্বাদু তাহলে তো আর কিছু” বলারই থাকে না। কাঁঠাল এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘Artocarpus heterophyllus’। কাঁঠাল শুধুমাত্র একটি মৌসুমী ফলই নয়- সহায়ক খাদ্য ও অর্থকরী ফসল হিসেবে স্বকীয় গুণাগুনের কারণেই নিজের জায়গা করে নিয়েছে।

কাঁঠালে আছে প্রচুর ভিটামিন। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে পুষ্টিমান হিসেবে মোট কার্বোহাইড্রেট ২৪ গ্রাম, বায়াটারি ফাইবার ২ গ্রাম, প্রোটিন ১ গ্রাম, ভিটামিন এ ২১৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৬.৭ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০৩ মিলিগ্রাম এবং ক্যালরি পাওয়া যায় ৯৪ মিলিগ্রাম।

কচি কাঁঠাল তরকারি হিসেবে চ্যাপা শুটকি দিয়ে রান্না করে খাওয়া যায়, এর বিচি ভেজে খাওয়া যায়। কাঁঠালের পিঠাও তো অতুলনীয় স্বাদ। গাজীপুরের শ্রীপুর কে কাঁঠালের রাজধানী বলা হয় দেশের কাঁঠালের চাহিদা পূরণের পর এখান থেকে কাঁঠাল বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।

তেমনি লক্ষ্য করা গেছে এ বছর উপজেলার প্রতিটি কাঠাল গাছের গোড়া থেকে মগডাল পর্যন্ত কাঁঠালের ভরে গেছে। কাঁঠাল পাকে মূলত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে এখানকার কাঁঠাল চাষীদের আশা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি না হলে এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হবে।

শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে ও তার আশেপাশে সর্বত্র এখন কাঁঠাল গাছগুলিতে ঝুলন্ত কাঁঠালে ছেঁয়ে আছে। কোন কোন আগাম জাতের কাঁঠালগুলি পাকতে শুরু করেছে। পাকা কাঠালের মিষ্টি গন্ধে কীট পতঙ্গরা ভিড় করছে গাছে গাছে।

সপ্তাহখানেকের মধ্যে উপজেলার হাট বাজার গুলোতে পাকা কাঁঠাল উঠতে শুরু করবে। এই উপজেলায় কাঁঠালের বাজারের মধ্যে অন্যতম জৈনার বাজার, বরমী বাজার, কাওরাইদ ও গড়গড়িয়া মাষ্টার বাড়ি।

তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের সুজন মিয়া বলেন, ১৫টি কাঁঠাল গাছের সমান তালে কাঁঠাল ধরেছে। তিনি এবার ৩ লাখ টাকার কাঠাল বিক্রি করবেন আশা করছেন। এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়ায় কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে।

শ্রীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কেওয়া এলাকার আনিছ মিয়া জানান, গাজীপুরের শ্রীপুরের কাঁঠাল দেশের চাহিদা পূরণের পরেও বিদেশে রপ্তানি করা হয় প্রতিবছর। তার বাড়ির আশেপাশে নিজের ১৪টি কাঁঠাল গাছ আছে। তার গাছে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। এ বছর তার কাঁঠাল বিক্রির আশা ৪ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকার।

এদিকে এখানকার অধিকাংশ কাঁঠাল গাছগুলো বাগান ভিত্তিক না হলেও বাড়ীর আঙিনায়, রাস্তার দুধারে, আর এসব গাছে ঝুলে থাকা কাঁঠলের দৃশ্য অনেকের নজর কাড়ে। অন্যান্য ফল ও গাছ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যত তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় কাঁঠাল নিয়ে তার সিকি ভাগও হয় না। কোন কোন পরিবার ফল মৌসুমে কাঁঠাল বিক্রি করে সারা বছরের আয় করে। ২ থেকে ৩ মাস কাঁঠালের ভরা মৌসুম এ সময় পাইকার ও শ্রমিক শ্রেনীর লোকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কাঁঠালের ফলন ভাল হয়েছে। তবে ফলন বেশি হলে দাম না পাওয়ার আশংকাও রয়েছে। কারণ, বেশি ফলনে দাম পড়ে যাওয়ার রেওয়াজ আদিকালের।

সরেজমিনে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে কাঁঠলে ভরে গেছে। প্রতিটি গাছে ২০০ থেকে ৩০০ বেশির পর্যন্ত ফল ধরেছে।

প্রসঙ্গত, কৃষিপণ্য কাঁঠাল মুলত একটি মৌসুমী সুস্বাদু ফল। কাঁঠালের বিচি তরকারীতেও সমান জনপ্রিয়। এলাকায় কোন কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করার বাবস্থা না থাকায় কৃষকরা তাদের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবিলম্বে অত্র এলাকায় একটি কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত ব্যবস্থা গড়ে তুললে এ উপজেলার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে বলে মন্তব্য সচেতন মহলের।