শনিবার  ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩,   মাঘ ২১ ১৪২৯,  ১৩ রজব ১৪৪৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

ভোলা ও নরসিংদীতে ইকোনমিক জোন করার প্রস্তাব

প্রকাশিত: ২২:৫৮, ২৪ জানুয়ারি ২০২৩

ভোলা ও নরসিংদীতে ইকোনমিক জোন করার প্রস্তাব

ভোলা ও নরসিংদীতে ইকোনমিক জোন করার প্রস্তাব

জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে ভোলা ও নরসিংদীতে ইকোনমিক জোন করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান এ তথ্য জানান। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত ডিসি সম্মেলনের আজ (মঙ্গলবার) প্রথম দিন। 

মসিউর রহমান বলেন, ডিসিদের পক্ষ থেকে বরিশালের ভোলা ও অন্য কোনো স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার প্রস্তাবনা ছিল। এছাড়া নরসিংদীতেও ইকোনমিক জোন করার প্রস্তাবনা ছিল। সবগুলো প্রস্তাবই সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 

নওগাঁর সাপাহারে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার একটি শুল্ক স্টেশন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সাপাহারে কাছাকাছি দুইটি শুল্ক স্টেশন রয়েছে। সে কারণে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে এ প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এতে সেই প্রস্তাব নাকচ করা হয়েছে।  

রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ে কিংবা জেলা পর্যায়ের ব্যয় সংকোচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছু জানাননি।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নিজ কার্যালয়ের শাপলা হলের ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বেলা সোয়া ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ডিসিরা। 

এরপর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত ১৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ডিসিদের তিনটি কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৬টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসিদের নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। 

সরকারের নীতি-নির্ধারক ও ডিসিদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতি বছর এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এর আগে, এবারের ডিসি সম্মেলন নিয়ে গত রোববার (২২ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। সেখানে তিনি জানান, সম্মেলনকে সামনে রেখে এবার ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে ২৪৫টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়, এবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং নির্দেশনা গ্রহণের পাশাপাশি স্পিকার ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে জেলা প্রশাসকরা সৌজন্য সাক্ষাৎ, নির্দেশনা গ্রহণ ও মতবিনিময় করবেন। তাছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় বিষয়ক অধিবেশন সংযুক্ত করা হয়েছে সম্মেলনে।

এবার সম্মেলনে মোট ২৬টি অধিবেশন হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে কার্য অধিবেশন ২০টি। এছাড়া একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে একটি, স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে একটি ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে হবে দুটি অধিবেশন।

সম্মেলনে মোট ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশগ্রহণ করবে। কার্য অধিবেশনগুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

এ বছর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রস্তাব পাওয়া গেছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সংক্রান্ত। এ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রস্তাব ২৩টি। এরপর ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত ১৫টি প্রস্তাব ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত ১৩টি, সুরক্ষা সেবা বিভাগ সংক্রান্ত ১১টি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত ১০টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে।

এবার ডিসি সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম জোরদারকরণ; ভূমি ব্যবস্থাপনা; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম; স্থানীয় পর্যায়ে কর্ম-সৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন; সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভর্নেন্স; শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ; স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ; পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ; ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন; এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়।