ঢাকা,  মঙ্গলবার  ২৮ মে ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

বাংলাদেশ ও ভুটানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে মানবতার ছোঁয়া

প্রকাশিত: ২৩:৫৫, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বাংলাদেশ ও ভুটানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে মানবতার ছোঁয়া

বাংলাদেশ ও ভুটানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে মানবতার ছোঁয়া

মানবতার সেবাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে চিকিৎসা সহযোগিতার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কূটনীতির মাধ্যমে ভুটানে মানব সেবার অনন্য নজির স্থাপন করছেন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দেশ ভুটানের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই নিবিড় কূটনৈতিক সহযোগিতা বিদ্যমান রয়েছে। স্বাস্থ্যখাতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা। করোনা মহামারির সময়ে বাংলাদেশ ভুটানকে ঔষধ ও স্যানিটারি সামগ্রী প্রদান করে। ভুটানের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে এমবিবিএস ও বিডিএস পড়াশুনার জন্য প্রতি বছর স্কলারশিপ প্রদান করা হচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈঠকে ভুটানের রাজা এবং প্রধানমন্ত্রীকে ভুটানের স্বাস্থ্যখাতে সম্ভাব্য সকল রকম বিষয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক সার্জারি ক্যাম্প’। এ উপলক্ষে শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এর ১২ জন চিকিৎসক ভুটানের জিগমে দর্জি ওয়াংচুক ন্যাশনাল রেফারেল হাসপাতালে বিশেষ সার্জারি ক্যাম্প পরিচালনা করছেন। চিকিৎসকদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডা. সামন্ত লাল সেন। বাংলাদেশের চিকিৎসকগণ ভুটানের অগ্নিদগ্ধ এবং প্লাস্টিক সার্জারি সংক্রান্ত জটিল অপারেশনের মাধ্যমে মানবিক সেবা প্রদান করছেন। 

ভুটানের জনগণের জন্য মানবিক সহযোগিতার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সাথে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে বিশেষ বৈঠক করেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক। এ উপলক্ষে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং দু’দেশের জনগণের কল্যাণে স্বাস্থ্যসেবাসহ মানবিকতার সকল দিক ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন নতুন মাইলফলক উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। রাজা ওয়াংচুক এই মানবিক আয়োজনের জন্য থিম্পুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শিবনাথ রায়, চিকিৎসকদলের প্রধান ডা. সামন্ত লাল সেন এবং বাংলাদেশের চিকিৎসকগণকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।  

‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক সার্জারি ক্যাম্প’ উপলক্ষে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে থিম্পুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভুটানের জাতীয় সংসদের স্পিকার নামগিয়েল ওয়াংচুক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শিবনাথ রায় বলেন, এই ক্যাম্পের মাধ্যমে ‘মানবতার জননী’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে ভুটান-বাংলাদেশের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার যে অনন্য নজির স্থাপিত হলো, তা দু’দেশের সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায় সূচিত করবে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জীবনের মানবিক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে এই মহতী উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ভুটান সরকার এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের চিকিৎসকবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক সার্জারি ক্যাম্প’ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ করেন ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি ভুটানে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান এবং থিম্পুতে একটি বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগের কথা ভুটানের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রের নেতৃবৃন্দের কাছে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ‘শেখ হাসিনা অন ইন্টারন্যাশনাল স্টেজ’ বিষয়ে বিশেষ প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর সুজন দেবনাথ। ভুটানের স্পিকার এই মহৎ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আয়োজনের সাথে জড়িত সকলকে বিশেষ ধন্যবাদ দেন। ভুটানের স্বাস্থ্য সচিব এবং দু’দেশের চিকিৎসকগণ চিকিৎসা বিষয়ক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।     

এ উপলক্ষে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থিম্পুস্থ জিগমে দর্জি ওয়াংচুক হাসপাতালে বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলাদেশের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ক চিকিৎসার ইতিহাস ও সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতা স্মরণ করে বাংলাদেশ চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা আঞ্চলিক পর্যায়ে সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। ভুটানের থিম্পুতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং ভবিষ্যতে একটি বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সহযোগিতা আরো টেকসই হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ে কয়েকটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় বাংলাদেশের চিকিৎসকরা বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন।