ঢাকা,  শনিবার  ২২ জুন ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

প্রকাশিত: ১৪:১৯, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

হাইকোর্ট । ফাইল ছবি

বাসস্ট্যান্ড, কর্মস্থল, এয়ারপোর্ট, রেলওয়ে স্টেশন, শপিং মলের মতো জনসমাগমস্থলে এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত, পরিচালিত ও ব্যবস্থাপনায় বিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের নির্দেশনা দিয়ে রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৭ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করেছেন। রায়ের অনুলিপি সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। 

রায়ে আদালত আরও বলেন, ব্রেস্ট ফিডিং রুমগুলো আলোবাতাসের সুব্যবস্থাসহ নিরাপদ ও সুসজ্জিত হতে হবে এবং মায়েরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে করতে পারে। রায়ে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করে বলেন, তারা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে যা এই কোর্ট প্রশংসা করে। যদিও ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় ব্রেস্ট ফিডিং রুম করা হয়েছে তবুও অন্যান্য পাবলিক প্লেসে তা করে যেতে হবে। আদালত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ দ্রুততম যৌক্তিক সময়ের মধ্যে মায়েদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং রুম স্থাপনের সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

পর্যবেক্ষণে আদালত আরও বলেন, শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পানের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ। এটা কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই যে, একটি শিশুর জন্মের পর থেকে ২ বছর পর্যন্ত তার মাতৃদুগ্ধ প্রয়োজন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, মায়েরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্ট ফিডিং রুমের ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। শপিং মল, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চ ঘাটসহ সকল পাবলিক প্লেসে ব্রেস্ট ফিডিং রুম থাকা প্রয়োজন, যাতে সকল মা তার শিশুদের মাতৃদুগ্ধের ব্যবস্থা করতে পারেন। কোনো মা ও শিশু যেন এই রিটের পিটিশনারদের মতো পীড়াদায়ক পরিস্থিতিতে না পরেন।

রিট দায়েরকারি ৯ মাসের শিশুর মা আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, মা ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় এটি একটি যুগান্তকারী রায়। আমাদের সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত অন্যতম মৌলিক অধিকার জীবনের অধিকার বিষয়ে এ রায় নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক রায়। উচ্চ আদালতে আমার ও আমার শিশু সন্তানের চার বছরের আইনি লড়াই সার্থক হয়েছে। আদালত রায়ে আমাদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি দিয়েছেন।