ঢাকা,  মঙ্গলবার  ২৮ মে ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

মা আমার শ্রেষ্ঠ উপহার

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৪, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মা আমার শ্রেষ্ঠ উপহার

প্রতীকী ছবি

ভালোবাসার আরেক নাম মা। পৃথিবীতে আল্লাহর প্রদত্ত বড় নেয়ামত হলো মা। মা না থাকলে, হয়তো পৃথিবীতে ভালোবাসা শব্দটির সৃষ্টিই হতো না। সন্তানের জন্য সব ধরনের শখ আহ্লাদ উৎসর্গ করেন তিনি। সন্তান যখন মায়ের পেটে আসে, তখন থেকেই মায়ের মনে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। কী খাবার খেলে বাচ্চার ক্ষতি হবে তা খেতে মন চাইলেও না খাওয়া, অনেক নিয়ম কানুন মেনে চলা। সন্তান জন্মানোর পর কত রাত যে মায়েরা না ঘুমিয়ে কাটান তা একমাত্র তারাই ভালো জানেন। স্বর-অ, স্বর-আ, এবিসিডি বা গুণের নামতা সব তো মায়ের থেকেই শেখা। আমাদের প্রথম শিক্ষক মা।  

মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম আমার। আব্বুর চাকরির সুবাদে ভালো বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হয়েছিল কিন্তু আব্বুর নামমাত্র বেতনের কারণে অনেক সময়ই প্রাইভেট টিচার পাওয়ার সুযোগ হতো না। যখন আমার সহপাঠীদের বাসায় প্রাইভেট টিউটর থাকতো, তখন আমার প্রাইভেট টিউটর ছিলেন আমার মা। আমার সব সাধারণ জ্ঞান আমার আম্মুর থেকে পাওয়া। আমি যখন ক্লাস নাইন এ পড়ি আব্বুর তখন রিটায়ারমেন্ট ছিল। সেই সময়, আমার বয়ঃসন্ধিকালে বিদ্যালয় পরিবর্তন করলে আমার পড়ালেখার ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে এই ভেবে আম্মু আমার সঙ্গে ঢাকায় বাসা ভাড়া করে থেকে গেলেন। আমার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাকে প্রিয় সঙ্গীর থেকেও অনেকদিন দূরে থাকতে হলো।

আমি বিবিএ সেকেন্ড ইয়ারে থাকতে আব্বু ভীষণ অসুস্থ হয় পরে। তার চিকিৎসা করানো, সব টেস্ট করানো, হাসপাতালে দিনের পর দিন থাকা, প্রতিদিন আব্বুকে গোছল করানো, কিছু সময় পরপর পোশাক পরিবর্তন করে দেওয়া, সবই আম্মুকে একাই করতে হতো, যেহেতু আমি তখন পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরিও করতাম। এভাবে আম্মু আমাকে সমর্থন না জোগালে আমি হয়তো আমার পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারতাম না। আব্বুকে আমরা ধরে রাখতে পারিনি, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে তিনি আমাদের রেখে আল্লাহর মেহমান হয়ে চলে গেলেন।

সেন্টমার্টিন একবার ঘুরতে গিয়েছিলাম আম্মুর সঙ্গে। রাত ১২ তার সময় আম্মু এসে বললো যে চলো বীচে যাই। হাঁটতে হাঁটতে জেটি ঘাটে পৌঁছালাম তখন চারদিকে সুনসান নীরবতা, বাতাসে ছোট নৌকাগুলো দোল খাচ্ছে। গুগল ম্যাপে আমাদের দেখাচ্ছে যে, আমরা বঙ্গপোসাগর পানির উপরে আছি। তখন আম্মুকে কেমন যেন অন্য মনস্ক দেখাচ্ছিল। বললাম, আম্মু আপনি কী কিছু মিস করছেন? আম্মু উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ, তোমার আব্বুকে মিস করছি’। তখন আমার মনে হলো এই মানুষটা আমার জন্য আব্বুকে ছেড়ে কত দিন দূরে ছিল। মায়ের ভালোবাসার কাছে সব ভালোবাসা হেরে যায়। 

আমাদের পরিবারকে একেবারে পরিপাটি করে রেখেছেন আমার মা। বাসা ভাড়া দেয়া, বাসায় কী লাগবে, সবতো আমার আম্মুই সামলে নেন। আমার কাপড় পরিষ্কার করে আবার ইস্ত্রি করার দোকানে দিয়ে তা আমার পরার জন্য তৈরি করে রাখা, এমনকী আমার টুথপেস্ট বা ফেসওয়াশ শেষ হয়ে গেলে তা আবার কিনে রাখার দায়িত্বও আম্মুর। সকালে আমি ঘুমিয়ে থাকলে আমার মোবাইল ফোন চার্জে দেয়া, ভোরে তিনটা বা চারটার সময়ও যদি আমি কোথাও যাই তাহলে সকালের নাস্তা তৈরি করে রাখা। সন্তানের জন্য মায়েরা কখনো ক্লান্ত হয় না। একবার হুট করে মনে হলো কুয়াকাটা যাবো। আম্মু আগে একবার গিয়েছিলেন সেখানে, আমি সেসময় অফিস থেকে ছুটি নিতে পারিনি তাই যেতে পারি নি। আমি কুয়াকাটা যাবো শুনে আম্মু তাড়াতাড়ি করে আমার ব্যাগ গুছিয়ে দিলেন।

বাসায় যেতে রাত যতই হোক না কেন, না খেয়ে বসে থাকেন আমার মা। পৃথিবীতে কারো সঙ্গে যখন কোনো ছোট অন্যায় করে ফেলি, তখন তারা তাদের প্রতি আমাদের সব অবদানকে ভুলে গিয়ে আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। কিন্তু আম্মুর সঙ্গে যতই অন্যায় করি না কেন, আম্মু সবসময় ছায়ার মতো থেকে যায়। সব ভুলকে ক্ষমা করে বুকে জড়িয়ে নেন। বরং আমাদের সুখের জন্য রাতের পর রাত জেগে নামাজ পড়ে আমাদের জন্য দোয়া করেন। 

এটা ভেবেই খারাপ লাগে যে, আমাদের বাবা মা যেখানে আমাদের জন্য সারা জীবন উৎসর্গ করেন সেখানে আমরা বড় হলে তাদের কথা শুনতে চাই না, মনে করি যে আমাদের জীবন আমাদের সিদ্ধান্ত। আল্লাহ আমাদের সঠিক জ্ঞান দান করুক আর ভালো থাকুক আমাদের সবার মা-বাবা।