ঢাকা,  শনিবার  ২২ জুন ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

বিশ্বজুড়ে ‘আধুনিক দাসত্বে’ বন্দি অন্তত ৫ কোটি মানুষ

প্রকাশিত: ২২:৩৮, ২৪ মে ২০২৩

বিশ্বজুড়ে ‘আধুনিক দাসত্বে’ বন্দি অন্তত ৫ কোটি মানুষ

প্রতীকী ছবি

শত শত বছর আগে পৃথিবী থেকে দাসপ্রথা বিদায় নিলেও বিশ্বের কয়েকটি দেশে এখনও নীরবে প্রচলিত আছে এই নিষ্ঠুর সামাজিক প্রথাটি। সেসব দেশে এখনও কোটি কোটি মানুষ ‘আধুনিক দাসপ্রথা’র শেকলে বন্দি এবং দিন দিন বাড়ছে এই আধুনিক দাসদের সংখ্যা।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ওয়াক ফ্রি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ৭টি দেশে ৫ কোটিরও বেশি মানুষ দাস হিসেবে শ্রমদানে বাধ্য হচ্ছেন।

এই দেশগুলো হলো উত্তর কোরিয়া, ইরিত্রিয়া, মৌরিতানিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েত। এসব দেশের মধ্যে উত্তর কোরিয়া ও ইরিত্রিয়ায় আধুনিক দাসত্বের হার সর্বোচ্চ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ বছরে বিশ্বে আধুনিক দাসদের সংখ্যা বেড়েছে অন্তত ১ কোটি। অর্থাৎ প্রতিদিনই এই সংখ্যায় যোগ হচ্ছেন হাজার হাজার নতুন মুখ।

যেসব অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাহের হার বেশি কিংবা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যেসব অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির হার বেশি— মূলত সেসব স্থানেই আধুনিক দাসপ্রথা বাড়ছে বলে জানাচ্ছে ওয়াক ফ্রি’র গবেষণা প্রতিবেদন। এছাড়া ২০২০ সালের করোনা মহামারিতে এর উল্লম্ফন ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

আধুনিক দাসত্ব কী

কাউকে বা কোনো জনসমষ্টিকে জোরপূর্বক শ্রমদানে বাধ্য করা, ঋণের জালে বন্দি করা, জোর করে বিয়ে করা, মানবপাচার এবং ক্ষমতাবানদের দাসমালিকদের মতো আচরণ— এসবই আধুনিক দাসত্বের অন্তর্ভূক্ত।

ওয়াক ফ্রি’র গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমাদের সাদা-সরল দৃষ্টিভঙ্গির আড়ালেই লুকিয়ে আছে আধুনিক দাসত্ব এবং বিশ্বের প্রতিটি কোণে জীবনের সঙ্গে এটি গভীরভাবে সম্পর্কিত। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে মানুষ প্রতারণা,জবরদস্তি অথবা শোষনমূলক পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছে এবং সামাজিক পরিস্থিতিগত কারণে সেসব মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে।’

আধুনিক বিশ্বও পরোক্ষোভাবে এই প্রথাকে টিকিয়ে রেখেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রতিদিন আমরা বিভিন্ন পণ্য বা পরিষেবা ক্রয় করছি বা জীবনধারণের জন্য ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছি; কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা অনুভব করতে ভুলে যাচ্ছি— কতখানি মানবিক মূল্য এসব পণ্য বা পরিষেবার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।’

ওয়াক ফ্রি’র গবেষণা প্রতিবেদনে তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক শ্রমদানে বাধ্য হচ্ছেন অন্তত ২ কোটি ৭৬ লাখ মানুষ এবং জোরপূর্বক বিবাহে বাধ্য হয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ, এদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

‘এক হিসেবে দেখা গেছে বিশ্বের প্রতি ১৫০ জন নারী ও মেয়ে শিশুর মধ্যে ১ জন জোরপূর্বক বিবাহের শিকার,’ বলা হয় প্রতিবেদনে।

সবচেয়ে বেশি দাসত্ব যেসব দেশে

ওয়াক ফ্রি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী উত্তর কোরিয়া আধুনিক দাসত্বের হার সবচেয়ে বেশি। দেশটির প্রতি ১ হাজার মানুষের মধ্যে ১০৬ দশমিক ৬ জনই এই শেকলে বন্দি। তার পরে আছে ইরিত্রিয়া ও মৌরি তানিয়া। এই দুটি দেশে প্রতি ১ হাজার জনের মধ্যে দাসের সংখ্যা যথাক্রমে ৯০ দশমিক ৩ জন এবং ৩২ জন।

এছাড়া সৌদি, তুরস্ক, আমিরাত ও কুয়েতে প্রতি একহাজার জনে অন্তত ১০ বা তারও বেশি দাসত্বের শিকার।

‘এই দেশগুলোর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্রে সাদৃশ্য আছে। এছাড়া এই তালিকার প্রতিটি দেশের মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার চিত্র অনেকটা এক,’ বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে কেবল এই ৭টি দেশই নয়, বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি ২০ ভুক্ত অনেক দেশেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আধুনিক দাস রয়েছেন। যেমন— ভারতে অন্তত ১ কোটি ১০ লাখ, চীনে ৫০ লাখ এবং  রাশিয়ায় ১৮ লাখ মানুষ দাসত্বের শিকার বলে জানিয়েছে ওয়াক ফ্রি।

সূত্র : ডয়েচে ভেলে