ঢাকা,  মঙ্গলবার  ১৮ জুন ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ

‘হার্টের ডাক্তার’ ছাড়াই যেভাবে সামলাবেন স্নায়ুচাপ

প্রকাশিত: ১১:৩১, ১০ জুন ২০২৪

আপডেট: ১১:৩৭, ১০ জুন ২০২৪

‘হার্টের ডাক্তার’ ছাড়াই যেভাবে সামলাবেন স্নায়ুচাপ

ফাইল ছবি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ। নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিবারের মতোই এবারও টাইগারদের ম্যাচের আগে ক্রীড়াপ্রেমীরা বেশ স্নায়ুচাপে থাকবেন এটুকু অনুমেয়।

টাইগারদের খেলা নিয়ে বিসিবি কর্তারাও পড়ে যান ভীষণ চিন্তায়। এর আগে ‘হার্টের ডাক্তার’ পাশে রেখে খেলা দেখেছেন তারা। গেল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দেখতে গিয়ে বেশ মানসিক চাপে ছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও। চাপমুক্ত ছিলেন না টাইগার সমর্থকরাও।

তবে খেলা দেখার আগে কিছু টিপস অনুসরণ করলে এমন মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কীভাবে মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন জানা যাক।

আপনার জীবন থেকে অবাঞ্ছিত স্ট্রেস এবং উদ্বেগ কমানোর জন্য সেরা উপায় যোগ ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিকতা। যোগব্যায়াম একটি শৃঙ্খলাবোধ জন্ম দেয়, যা মননশীলতাকে উৎসাহিত করে। সারা বিশ্বের তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি গবেষণায় বলা হচ্ছে, মননশীলতা একজন ব্যক্তির সুস্থতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য একটি বিষয়।

যোগাসনের কৌশল

যোগব্যায়াম আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে সাথে অভ্যন্তরীণ শারীরিক ওঠা-নামা নিয়ন্ত্রণ করে। সপ্তাহে ন্যূনতম তিনবার নিয়মিত যোগাসন অনুশীলন করলে কোনও ব্যক্তি শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিকভাবে উপকৃত হবেন। প্রতিদিনের ওয়ার্কআউট করার পাশাপাশি এই প্রাথমিক আসনগুলো অনুশীলন করুন। ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত প্রতিটি অবস্থান ধরে রাখুন, তারপর একইভাবে তিনবার অনুশীলন করুন।

সুস্থভাবে চলুন

হাঁটা, জগিং, যোগব্যায়াম ইত্যাদির মতো ব্যায়াম আমাদের প্রতিদিনের শারীরিক কার্যকলাপ উদ্বেগ, দুঃখ এবং অন্যান্য অপ্রীতিকর অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সুস্থতা, জীবনের সন্তুষ্টি, স্বনির্ভরতা, আত্মতুষ্টি, ব্যক্তিগত অগ্রগতির অনুভূতি ইত্যাদি ইতিবাচক অনুভূতিগুলিকে জাগাতে সাহায্য করে। ভাল শারীরিক স্বাস্থ্য আমাদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করে এবং আপনার পরিপূর্ণতার অনুভূতি জাগাতে সাহায্য করে। 

ধ্যানের সাহায্যে ধৈর্যশীল হয়ে উঠুন

রোপণ ধ্যান, স্থিতি ধ্যান, সুপার পাওয়ার মেডিটেশন, আরম্ভ ধ্যান এবং শ্বাস ধ্যান, যেগুলি সহজে শেখা যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেগুলি অনুশীলনের মাধ্যমে চিন্তা ও নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। আপনি যদি দিনে মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্যও ধ্যান অনুশীলন করেন, সেক্ষেত্রেও এর ফলে প্রেরণা, পরিকল্পনা এবং সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আপনার মানসিক উন্নতি ঘটবে। স্ট্রেস বা, মানসিক চাপ এড়িয়ে ভাল মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য পেতে পারেন ধ্যান অনুশীলনের মাধ্যমে।

আসনের মাধ্যমে চাপ কমান

১. সুখাসন
দণ্ডাসনা ভঙ্গিতে, আপনার পা প্রসারিত করে সোজা হয়ে বসুন। বাম পা ভাঁজ করে ডান উরুর মধ্যে আটকে রাখতে হবে। তারপর, ডান পা ভাঁজ করে বাম উরুর পেছনে টেনে দিতে হবে। আপনার হাতের তালু আপনার হাঁটুতে থাকতে হবে। এবার শিরদাঁড়া সোজা করে বসুন। 

২. দণ্ডাসন
বসার সময় আপনার পা আপনার সামনে প্রসারিত করুন। আপনার পা যোগ করার সময় এবং আপনার গোড়ালি একসাথে টানার সময় আপনার পিঠ সোজা রাখুন। আপনার উরু, কালভস এবং পেলভিক পেশীগুলিকে শক্ত করতে হবে। এবার, আপনার মেরুদণ্ডকে সোজ রাখার জন্য নিতম্বের পাশে আপনার তালুগুলো মাটিতে রাখুন।

৩. নৌকাসন
পিছনে হেলে শুয়ে পড়ুন। এবার, মাটি থেকে আপনার শরীর ৪৫ ডিগ্রি উপরে তুলুন। আপনার পায়ের আঙুল এবং চোখ একই লাইনে থাকতে হবে। এরপর আপনার বাহুগুলিকে মাটির সমান্তরাল রাখুন।

৪. সান্তোলানাসন
যখন আপনি উপুড় হয়ে শুয়ে থাকবেন তখন আপনার হাতের তালুগুলো আপনার কাঁধের নিচে রাখতে হবে। হাঁটু, শ্রোণি এবং শরীরের উপরের অংশগুলিকে উঁচু করে রাখতে হবে। এবার নিশ্চিত করুন যে আপনার মেরুদণ্ড, শ্রোণি এবং হাঁটু সব একই সারিবদ্ধভাবে আছে। আপনার বাহু অবশ্যই সোজা হতে হবে এবং আপনার কব্জি অবশ্যই আপনার কাঁধের নিচে থাকতে হবে।

এভাবে নিজেকে চাপমুক্ত থাকার ব্যায়ামগুলোর মাধ্যমে নিজের মনকে ফুরফুরে রাখতে পারেন। বাংলাদেশের খেলা হোক কিংবা থাকুক ব্যক্তিগত সমস্যা। ভড়কে না গিয়ে নিজের মন ও শরীরের খেয়াল নেওয়াটা সবার জন্যই জরুরি।