ঢাকা,  শনিবার  ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

লুটপাট-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বন্ধ হয়েছে, দারিদ্র্য দ্রুত হ্রাস পেয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২০:২৩, ১৩ জুলাই ২০২৩

লুটপাট-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বন্ধ হয়েছে, দারিদ্র্য দ্রুত হ্রাস পেয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

লুটপাট-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বন্ধ হয়েছে, দারিদ্র্য দ্রুত হ্রাস পেয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানুষ তার অধিকার ফিরে পায়। লুটপাট-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বন্ধ হয়েছে, দারিদ্র্য দ্রুত হ্রাস পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা ওয়াসার ‘দাসেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার’ প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

পঁচাত্তর পরবর্তী সময় থেকে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করা পর্যন্ত স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি হিসাব নিই ২০০৫-০৬ অর্থবছর; বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায়। ঢাকা শহরে শুধুমাত্র ৬০ ভাগ মানুষ সুপেয় পানি পেত। সেটাও সায়েদাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট আমরা করেছি বলেই সেই সুযোগটা হয়েছিল। তাছাড়া অনেক জায়গায় আমরা ডিপ টিউবওয়েল প্রতিষ্ঠা করে দিই। সে সময় ঢাকার জনসংখ্যাও ছিল মাত্র ১ কোটি ২০ লাখের মতো। পানি উৎপাদন হতো ১২০ কোটি লিটার আর ঢাকা ওয়াসার পানির বিলের মাত্র ৬৪ শতাংশ আদায় হতো। মোট রাজস্ব আয় ছিল মাত্র ৩০০ কোটি টাকা।’

রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেই সময় আমরা “ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা” কর্মসূচি আমরা হাতে নেই এবং মানুষের সেবাটা যাতে ওয়াসা দিতে পারে সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছিলাম। ফলে আজকে অতিদ্রুত পানি উৎপাদন ও সরবরাহের শতভাগ সক্ষমতা লাভ করে। ঢাকা ওয়াসা এখন ৪৭/৭ পানি সরবরাহ করছে, বর্তমানে ঢাকা শহরের প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ পানি পাচ্ছে। এখানে দৈনিক ২৬০ কোটি লিটারের বিপরীতে ঢাকা ওয়াসা ২৭০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন ও সরবরাহের সক্ষমতা অর্জন করেছে। চাহিদার থেকেও বেশি পানি উৎপাদন হয়। তাছাড়া ঢাকার পানির বিল ১০০ ভাগই আদায় করতে সক্ষম হয়।’

‘২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে। এই ঈর্শ্বনীয় সাফল্যের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ঢাকা ওয়াসাকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সেবাদানকারী সংস্থা হিসেবে রোল মডেল বিবেচনা করে। এটা আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্য, জনগণের সাফল্য এবং জনগণের বৃহত্তর কল্যাণে এই কাজগুলো করা হচ্ছে,’ যোগ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের আমলে মানুষ তার অধিকার ফিরে পায়; তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন অধিকার মানুষ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।’

‘আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। সাড়ে ১৪ বছর আগের বাংলাদেশ কেমন ছিল, এটা যাদের হয়তো একটু বয়স হয়েছে তারা স্মরণ করতে পারবেন। যারা একেবারে হয়তো সে সময় ছোট ছিল তারা হয়তো ভাবতেই পারবে না। মনে করবে ওই হাতে মোবাইল অথবা ইন্টারনেট—এ সবই বুঝি ছিল। তা কিন্তু ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে ১৯৯৬ থেকে ২০০১, এরপর ২০০৯ থেকে ২০২৩ আমরা কিন্তু মানুষের জীবনমান বদলে দিতে সক্ষম হয়েছি। আজকে কোনো মানুষ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না এবং প্রত্যেকটা মানুষের জীবনমান উন্নত হবে, ‘বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘লুটপাট-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বন্ধ হয়েছে, দারিদ্র্য দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। হত দারিদ্র্যের হার যেটা ২৫ দশমিক ১ ভাগ ছিল, তা আমরা ৫ দশমিক ৬ নামিয়ে এনেছি। দারিদ্র্যের হার ৪১ ভাগ থেকে আজকে আমরা ১৮ দশমিক ৭ ভাগে নামিয়ে এনেছি। ইনশাল্লাহ এটা আমরা আরও কমাতে পারব।’