ঢাকা,  মঙ্গলবার  ১৮ জুন ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

শ্রীপুরে নবজাতককে বিক্রির অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ১২:২৮, ২৫ মে ২০২৩

শ্রীপুরে নবজাতককে বিক্রির অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে হাসপাতালের খরচ দিতে না পারায় গরিব মা-বাবার কাছ থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যাসন্তানকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের পরিচালক কাম ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম ওই নবজাতককে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির হাতে তুলে দেন। প্রসূতিকে ১৪ হাজার টাকা হাতে দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়েছেন। 

আর এ ঘটনা ঘটেছে শ্রীপুর পৌরসভার নিউ এশিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে। 

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা সাংবাদিকদের খবর দেয়। তথ্য সংগ্রহ করতে গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালে গেলে মালিকপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। 

এ ঘটনা প্রিয়া আক্তার (২২) নামের এক প্রসূতির সঙ্গে। তিনি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার মালিডাঙ্গা গ্রামের মো. রাসেল মিয়ার স্ত্রী। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার শ্রীপুর গ্রামের কাপাসিয়া সড়কের পাশে বাবুল সরকারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। 

প্রিয়া আক্তার আজকের পত্রিকাকে জানান, তাঁর স্বামী একজন দিনমজুর। তাঁর সংসারে দেড় বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। গত রোববার প্রসবব্যথা নিয়ে শ্রীপুর চৌরাস্তার নিউ এশিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। সেখানে জাহাঙ্গীর আলম নামে একজন নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দেন। জাহাঙ্গীর তাঁকে জানান, দ্রুত সিজার না করলে মা ও সন্তান দুজনেরই সমস্যা হবে। অপারেশন করতে ১৫-১৬ হাজার টাকা লাগবে। 

ওই প্রসূতি বলেন, ‘আমার স্বামী চেষ্টা করেও টাকা জোগাড় করতে পারে নাই। পরে জাহাঙ্গীর আমাকে প্রস্তাব দেয় বাচ্চাকে তাঁর কথামতো তুলে দিলে নগদ টাকা দেবে। ছেলে হলে ৫০ হাজার, মেয়ে হলে ৩০ হাজার টাকা। হাসপাতালের বিলও লাগবে না। পরে আমরা রাজি হইছি।’ 

সেদিন রাতেই প্রিয়া সিজারের মাধ্যমে কন্যাসন্তান জন্ম দেন। পরদিন সোমবার সদ্য প্রসব হওয়া সন্তানের মায়ের কাছ থেকে কাগজে টিপসই নিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বাচ্চাটিকে। অজ্ঞাত কোনো এক ব্যক্তির হাতে নবজাতককে তুলে দেন জাহাঙ্গীর। তবে কার কাছে তাঁদের সন্তানকে তুলে দেওয়া হয়েছে, জানতে পারেননি প্রিয়া-রাসেল দম্পতি। পরে জাহাঙ্গীর প্রিয়াকে ১৪ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে জানান, নবজাতকের জন্য ৩০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তা থেকে ১৬ হাজার টাকা হাসপাতালের বিল কেটে রেখেছেন। 

নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দেওয়া অভিযুক্ত ম্যানেজার কাম পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর সন্তান বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘রাসেল দম্পতি নিজেরাই তাঁদের সন্তান দত্তক দিয়েছে।’ 

এ বিষয়ে হাসপাতালের মালিক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি তাঁর জানা নেই দাবি করেন। 

এ ঘটনার বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রণয় ভূষণ দাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ 

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম নাসিম আজকের পত্রিকাকে জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। কেউ অভিযোগও করেনি। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।