ঢাকা,  মঙ্গলবার  ২৮ মে ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

কৃষকের ধানের জমিতে দৃশ্যমান জাতীয় পতাকা

প্রকাশিত: ২১:৫৯, ৮ মার্চ ২০২৩

কৃষকের ধানের জমিতে দৃশ্যমান জাতীয় পতাকা

কৃষকের ধানের জমিতে দৃশ্যমান জাতীয় পতাকা

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কৃষক এনামুল হক। মায়ের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে গত বছর নিজের ধানের জমিতে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ‘মা’ লেখা। এবার দেশের প্রতি ভালোবাসায় ধানের জমিতে ধানের চারা দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন জাতীয় পতাকার আদলে শস্যচিত্র। তার ধানের জমিতে এখন দৃশ্যমান জাতীয় পতাকা।

কৃষক এনামুল হকের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের বেকাসহারা গ্রামে। মাওনা-গফরগাঁও-বরমী আঞ্চলিক সড়কের টেংরা বাজারের পাশে ধানের জমিতে ধান গাছ দিয়ে তৈরি জাতীয় পতাকা দেখে চোখ আটকে যায় পথচারীদেরও। গত বছর একই সময়ে তিনি তার এ জমিতেই ধান গাছ দিয়ে লিখেছিলেন ‘মা’। এনামুল হক কৃষি কাজের পাশাপাশি শ্রীপুর পৌরশহরে পান সুপারির ব্যবসা করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জমিতে ধান গাছ দিয়ে তৈরি করা জাতীয় পতাকার চতুর্ভুজের বেশিরভাগ জায়গাজুড়ে বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতের সবুজ রঙের ধান গাছ লাগানো হয়েছে। মধ্যে জাতীয় পতাকার বৃত্ত তৈরি করা হয়েছে জিঙ্ক সমৃদ্ধ বেগুনি রংয়ের ধান গাছ দিয়ে। পতাকার খুঁটিতে ব্যবহার করা হয়েছে সবুজ রঙের ধান গাছ। এরপর পতাকার অংশটুকু নজরকাড়া ও দৃশ্যমান রাখতে পুরো জমিতে বেগুনি ধান রোপণ করা হয়েছে। স্বাধীনতার মাসে জাতীয় পতাকা দৃশ্যমান হওয়ায় অনেকেই তা দেখতে আসছেন। ছবি তুলে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। 

এনামুল হক জানান, দুই বছর আগে তিনি তার এক বিঘা জমিতে জিঙ্ক সমৃদ্ধ বেগুনি ধান রোপণ করেন। সে বছর ফলনও ভালো হয়। এটা দেখে তার মাথায় ভিন্নধর্মী চিন্তা আসে। এরপর তিনি মায়ের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে ধানক্ষেতে নান্দনিকভাবে ফুঁটিয়ে তুলেন ‘মা’। সে সময়  দর্শনার্থীরা সেই মা লেখা শস্যচিত্র দেখে প্রশংসাও করেন। সেই উৎসাহ থেকে এ বছর জাতীয় পতাকার শস্যচিত্র তৈরির উদ্যোগ নেন।

তিনি জানান, প্রথমে সুতা দিয়ে মেপে জমিতে জাতীয় পতাকার গঠন তৈরি করেন। এরপর সেই অনুযায়ী রোপণ করেন দুই জাতের ধানের চারা। তিনি এ শস্যচিত্র তৈরি করতে বঙ্গবন্ধু ধান-১০০ ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধানের চারা ব্যবহার করেছেন। দেশ ও জাতীয় পতাকার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে তার এই আয়োজন।

কৃষক এনামুল হক বলেন, এখন স্বাধীনতার মাস, বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে অনুষ্ঠান করে জাতীয়ভাবে স্বাধীনতা দিবসটি পালন করবে। একজন কৃষক হিসেবে এই মাসটি আমার কাছে মর্যাদাপূর্ণ ও গৌরবের। তাই ধানক্ষেত জাতীয় পতাকার আদলে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি। মাঠটি সড়কের পাশে হওয়ায় দূর থেকে দেখে দেশের প্রতি মানুষের মমত্ববোধের জাগ্রত হবে, একটু হলেও হৃদয়ে দোলা দেবে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, একজন কৃষক দেশের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে তার জমিতে জাতীয় পতাকার আদলে শস্যচিত্র ফুটিয়ে তুলে সত্যিই প্রশংসার কাজ করেছেন। ইতিপূর্বেও তিনি শস্যচিত্র তৈরি করে প্রশংসিত হয়েছিলেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।