ঢাকা,  বুধবার  ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের ওপরে

প্রকাশিত: ২১:৩০, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের ওপরে

ফাইল ছবি

বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি টানা তিন মাস দুই অঙ্কের নিচে ছিল। অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ১০ দশমিক ০৯ শতাংশে উঠেছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এর আগে গত জুনে ১০ শতাংশের ঘরে ছিল প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

খাতসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বছরের শুরুতে ধীরগতিতে বাড়লেও শেষের দিকে তা বৃদ্ধি পায়। মূলত ব্যাংকগুলো বছর শেষে আর্থিক প্রতিবেদন ভালো দেখাতে ঋণের গতি বাড়িয়ে থাকে। কারণ বছর শেষে সব ব্যাংকেরই ঋণের একটা লক্ষ্যমাত্রা থাকে। এছাড়া বড় প্রকল্পের কাজগুলো বর্ষাকালের চেয়ে এ মৌসুমে বেড়ে যায়। তাই এ খাতেও ঋণ যায়। এজন্য শেষের দিকে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের শুরু থেকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমছে। গত বছরের নভেম্বরে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এর পরের মাস ডিসেম্বরে কমে দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৮৯ শতাংশে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি হয় ১২ দশমিক ৬২, ফেব্রুয়ারিতে ১২ দশমিক ১৪, মার্চে ১২ দশমিক ০৩, এপ্রিলে ১১ দশমিক ২৮, মে মাসে ১১ দশমিক ১০ এবং জুনে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে যায়। এরপর জুলাইয়ে গিয়ে দুই অঙ্কের নিচে নেমে গেছে। ঐ মাসে প্রবৃদ্ধি হয় ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। আগস্টে ৯ দশমিক ৭৫, সেপ্টেম্বর ৯ দশমিক ৬৯, যা ২৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল। এর আগে ২০২১ সালের অক্টোবরে বেসরকারি খাতের ঋণে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এরপর কখনোই তা ১০ শতাংশের নিচে নামেনি। চলতি বছরের অক্টোবরে আগের মাসের তুলনায় কিছুটা বেড়ে হয় ১০ দশমিক ০৯ শতাংশ। যদিও তা বর্তমান মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার নিচে। ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ।

ব্যাংকাররা জানান, রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রচুর টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে গেছে। আবার রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ক্রমাগত কমছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের ঋণের বড় অংশ ব্যয় হয় আমদানিতে। তবে ডলার-সংকটের কারণে চাহিদামতো ঋণপত্র (এলসি) খোলা যাচ্ছে না। পাশাপাশি ডলারের ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় এখন কেউ নতুন করে প্রকল্প নিতে চাইছেন না। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি টানা কমছিল।