সোমবার  ০৫ ডিসেম্বর ২০২২,   অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৯,  ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

কাতার বিশ্বকাপ-২০২২

পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙতে মুখোমুখি কাতার ও সেনেগাল

প্রকাশিত: ১৯:০২, ২৪ নভেম্বর ২০২২

পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙতে মুখোমুখি কাতার ও সেনেগাল

ফাইল ছবি

গ্রুপ-এ’র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আল থুমামা স্টেডিয়ামে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্বাগতিক কাতার ও আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল। দুই দলই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে। যে কারণে দুই দলেরই লক্ষ্য টুর্ণামেন্টের প্রথম পয়েন্ট সংগ্রহ করে পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা।

কনমেবল অঞ্চলের বাছাইপর্বের সবচেয়ে দূর্বল দল ইকুয়েডরের কাছে প্রথম ম্যাচে পাত্তাই পায়নি স্বাগতিক কাতার। কিন্তু এখনো কাতারের সামনে সুযোগ রয়েছে মানুষের ধারনাকে ভুল প্রমানের। টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত থেকে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিল কাতার। সেপ্টেম্বরে চিলির সাথে ২-২ গোলে ড্র  করার পর একে একে কাতার হারিয়েছিল গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পানাম ও আলবেনিয়াকে। এসবই কাতারকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে।

গত পাঁচ বছর ধরে স্প্যানিশ কোচ ফেলিক্স সানচেজের অধীনে কাতার নিজেদের ধীরে ধীরে প্রস্তুত করেছে। এত বড় আসরে অতীতে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেক কিছুতেই তাদের মানিয়ে নেয়াটাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যে কারনে প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে পরাজয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্বাগতিক দেশ হিসেবে কাতারই প্রথম উদ্বোধনী ম্যাচে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টুর্ণামেন্ট শুরু করেছে। শুধু তাই নয় ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পর প্রথম কোন স্বাগতিক দল হিসেবে ইকুয়েডরের পোস্টে কোন শট নিতে ব্যর্থ হয়েছে কাতার।

ম্যাচ শেষে সানচেজ দাবী করেছেন  তার দল ‘নার্ভাস’ ছিল। বড় আসরে মানিয়ে নিতে হলে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন। ২০১৯ সালে এশিয়ান কাপ জয়ী দলটিকে মাঠের পারফরমেন্সে খুব একটা পারদর্শী মনে হয়নি। মানসিকতার সমস্যাও এখানে বড় একটি কারন। এশিয়ান কাপে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোল করেছিল কাতার। ২০২১ গোল্ড কাপেও আমন্ত্রিত দল হিসেবে খেলতে নেমে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলে টুর্ণামেন্টের সর্বাধিক গোল দিয়েছিল। কিন্তু ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে দলের আক্রমনভাগের দুই কান্ডারি আলমোয়েজ আলি ও আকরাম আফিফকে খুঁজে পাওয়ান যায়নি।

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পরাজয়ে স্বাগতিক দল হিসেবে নিজেদের প্রমানের আর কিছুই বাকি থাকবে না কাতারের। বিশ্বকাপের মত বড় আসরে তাদের খেলার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

এদিকে কাতারের মতই পরাজয় দিয়ে টুর্ণামেন্ট শুরু করলেও সোমবার নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে অনেক দিক থেকেই নিজেদের যোগ্যতার যথার্থ প্রমান দিয়েছে আফ্রিকান নেশন্স কাপ বিজয়ী সেনেগাল। দলটির আক্রমনভাগ নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা ছিল, কিন্তু ডাচদের বিপক্ষে বেশী সড়ব ছিল তাদের রক্ষনভাগ। যদিও চেলসি গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডির দুই ভুলে দুটি গোল হজম করতে হয়েছে সেনেগালকে। মেন্ডি শেষ পর্যন্ত বাদ পড়লে তার স্থানে দেখা যেতে পারে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের সেনি ডিয়েংকে। 

৮৪ মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে প্রথম পিছিয়ে পড়ে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা। আর এতেই প্রমানিত হয় ডাচদের বিপরীতে সেনেগালের রক্ষনভাগ কতটা অপ্রতিরোধ্য ছিল।

আফ্রিকান নেশন্স কাপেও তাদের রক্ষনভাগের রেকর্ড ছিল চোখে পড়ার মত। বছরের শুরুতে শিরোপা জয়ের পথে তারা মাত্র দুটি গোল হজম করেছিল। এরপর বিশ্বকাপের আগে ছয় ম্যাচে হজম করেছে মাত্র তিন গোল। কোচ  আলিউ সিজের দলের জন্য মূল ভরসা সাদিও মানেকে না পাওয়াটা অনেক বড় দু:শ্চিন্তার বিষয়। 

এমনকি মানে ফিট হয়ে ফিরে এলেও সিজের জন্য নিয়মিত দলের আক্রমনভাগ সাজানো নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাবে। বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোলদাতা ফামিরো ডাইহিউও ইনজুরি সমস্যায় রয়েছেন।

এ দিকে কাতারের গোলরক্ষক সাদ আল শিব প্রথম ম্যাচে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। দলের ব্যাক-আপ দুই গোলরক্ষই প্রাক-টুর্নামেন্ট প্রীতি ম্যাচগুলোতে খেলেছেন। রোববার যে চারজন খেলোয়াড় হলুদ কার্ড পেয়েছেন তার মধ্যে আল শিব একজন। 

যে কারণে ডাচদের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে চারজনেরই নিষেধাজ্ঞা পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই তালিকায় অপর তিনজন হলেন দুই স্ট্রাইকার আলি ও আফিফ ও মিডফিল্ডার করিম বুডিয়াফ।

অধিনায়ক হাসান আল হেডস ক্যারিয়ারের ১৭১তম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবেন।

এদিকে সেনেগাল নিশ্চিত করেছে হল্যান্ডের বিপক্ষে পেশীর ইনজুরিতে পড়া আব্দু ডিয়ালো সুস্থ হয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন। ফোডে বালো-টুরের স্থানে ব্যাক-আপ লেফট-ব্যাক হিসেবে ডিয়ালো রয়েছেন, এটা সেনেগালের জন্য স্বস্তির খবর। তবে নটিংহ্যাম ফরেস্টের মিডফিল্ডার চিয়েকু কুয়াতে পেশীর সমস্যার কারনে শুক্রবারের ম্যাচটি মিস করছেন।