ঢাকা,  বুধবার  ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

ভারতকে হারিয়ে ১৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন

প্রকাশিত: ২২:৫৭, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ভারতকে হারিয়ে ১৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন

সংগৃহিত ছবি

দীর্ঘ ১৪ বছর পর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতলো অস্ট্রেলিয়া। আজ রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেনোনিতে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে ৭৯ রানে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া আগে ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান তোলে। জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই ধুকতে থাকা ভারত শেষ পর্যন্ত ৪৩.৫ ওভারে অলআউট হয় ১৭৪ রানে। ৭৯ রানের জয়ে অস্ট্রেলিয়ান যুবারা শিরোপা শোকেসে তোলে। এবারের আসরে কেবল ফাইনালে এসে হারলো ভারত।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার যুবারা। এরপর ২০০২ সালে চতুর্থ আসরে তারা জিতে দ্বিতীয় শিরোপা। সবশেষ ২০১০ সালে অষ্টম আসরে শিরোপা জিতেছিল জুনিয়র ক্যাঙ্গারুরা। এরপর আজ ভারতকে হারিয়ে ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটালো তারা। বড়দের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ছোটরাও বিশ্বকাপের ফাইনালে হারালো ভারতকে।

ফাইনালে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৬ রানেই স্যাম কন্সটাসের উইকেট হারায় অজি যুবারা। ৮ বল মোকাবিলা করে তিনি কোনো রান করতে পারেননি। সেখান থেকে হ্যারি ডিক্সন ও হাগ ওয়েইবজেন দ্বিতীয় উইকেটে ৭৮ রানের জুটি গড়েন। এরপর দ্রুত তারা দুজন সাজঘরে ফেরেন। দলীয় ৯৪ রানের মাথায় হাগ ফিরেন ৫ চারে ৪৮ রান করে। আর ৯৯ রানের সময় হ্যারি ফিরেন ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ রান করে।

সেখান থেকে হারজাস সিং ও রায়ান হিকস দলীয় সংগ্রহকে টেনে নেন ১৬৫ পর্যন্ত। এরপর এই দুজনও অল্পরানের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন। ১৬৫ রানের মাথায় হিকস ২ চারে ব্যক্তিগত ২০ রানে আউট হন। আর ১৮১ রানের সময় হারজাস ৩ চার ও সমান সংখ্যক ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫৫ রান করে ফিরেন।

নতুন ব্যাটসম্যান রাফ ম্যাকমিলান ১৮৫ রানের সময় ব্যক্তিগত ২ রানে আউট হলে আবার কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু অলিভার পিয়েকে অপরাজিত ৪৬ রানের ইনিংস খেলে দলীয় সংগ্রহকে ২৫৩ পর্যন্ত নিয়ে যান। তিনি ২ চার ও ১ ছক্কায় এই ইনিংস খেলেন। তার সঙ্গে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন টম স্ট্রাকার। আর চার্লি অ্যান্ডারসন তাদের আগে ১ ছক্কায় ১৩ রান করে আউট হন।

বল হাতে ভারতের রাজ লিমবানি ১০ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। ৯ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন নামান তিওয়ারি।

জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই ধুকতে থাকে ভারত। ৯১ রানে যেতেই হারিয়ে বসে ৬ উইকেট। সেখানেই তাদের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে মুরুগান অভিষেক ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ রানের ইনিংস খেলে হারের ব্যবধান কমান। তার ৪২ ও তিওয়ারির অপরাজিত ১৪ রানের ইনিংসে ভর করে ভারত ১৭৪ পর্যন্ত যেতে পারে। অভিষেকের আগে আদর্শ সিং ৪টি চার ও ১ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন। আর ৩ চারে ২২ রান করেন মুশির খিান। বাকিদের কেউ দুই অঙ্কের কোটা ছুঁতে পারেননি।

বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার মাহলি বিয়ার্ডম্যান ৭ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। ফাইনালে ম্যাচসেরাও হন তিনি। রাফ ম্যাকমিলানও অবশ্য ৩টি উইকেট নেন। কিন্তু তিনি ১০ ওভারে রান দেন ৪৩টি। এছাড়া কালাম ভিদলার ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ ৩৫ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট।

৬ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডিয়াম পেসার কোয়েনা মাফাকা। এর মধ্যে দুই ম্যাচে ফাইফার ও এক ম্যাচে সিক্স-ফরও নেন তিনি।