বুধবার  ০৫ অক্টোবর ২০২২,   আশ্বিন ১৯ ১৪২৯,  ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

যে সময় ঘুমালে জীবনের বরকত কমে যায়

প্রকাশিত: ১৮:১৩, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

যে সময় ঘুমালে জীবনের বরকত কমে যায়

যে সময় ঘুমালে জীবনের বরকত কমে যায়

আমাদের দৈহিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুম অপরিহার্য। পর্যাপ্ত ও আরামদায়ক ঘুম আমাদেরকে সক্রিয় ও সতেজ করে তোলে। সাধারণভাবে স্বাস্থ্যকর ঘুম বলতে প্রতি রাতে একটি নির্দিষ্ট সময় ঘুমকে বুঝানো হয়।

সারা দিনের ক্লান্তি-শ্রান্তিতে বিপর্যস্ত হয়ে রাতে ঘুমানোর মাধ্যমে আবার উদ্যমতা ফিরে আসে। ঘুম থেকে জেগে নবোদ্যমে নতুন দিন শুরু করা যায়। মহান আল্লাহ বান্দার আরাম ও শান্তির জন্য ঘুমের নেয়ামত দান করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম, করেছি রাতকে আবরণ।’-(সুরা: নাবা, আয়াত: ৯-১০) 

ঘুম থেকে জেগে ফজরের নামাজের মাধ্যমে দিন শুরু হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সকালকে এই উম্মতের জন্য বরকতময় করার দোয়া করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উন্মাতের ভোরবেলাতে তাদেরকে বরকত ও প্রাচুর্য দান করুন।’-(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১২১২)

সুতরাং সকালে কাজ শুরু করলে বরকত পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই ফজরের পরে ঘুমিয়ে থাকেন। কেউ আবার ফজর নামাজই পড়েন না। অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) একাধিক হাদিসে এশার পর তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যেতে বলেছেন।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এশার নামাজের পূর্বে ঘুমানো এবং নামাজের পর অহেতুক গল্প-গুজব করাকে খুব অপছন্দ করতেন। -সহিহ বোখারি: ৫১৪

তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অনেকগুলো উপরকারিতা রয়েছে। এর অন্যতম হলো, ফজর নামাজের জন্য খুব সহজে পূর্ণ শক্তি ও চাঞ্চল্যতার সঙ্গে জাগ্রত হওয়া যায়। শরীরে আরামবোধ হয়, কেননা দিনের ঘুম রাত্রের ঘুমের ঘাটতি পূরণ করতে পারে না। 

পূর্ববর্তী আলেমরা ফজরের পর ঘুমানোকে মাকরুহ মনে করতেন। হজরত উরওয়া ইবনে যুবাইর (রহ.) বলেন, যুবাইর (রা.) তার সন্তানদের ভোরবেলা ঘুমানোর ব্যাপারে নিষেধ করতেন।

হজরত উরওয়া (রহ.) বলেন, ‘আমি যখন কারও সম্পর্কে শুনি, সে ভোরবেলা ঘুমায় তখন তার প্রতি আমি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।’ -মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৫/২২২

সকাল বেলা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে রিজিক বন্টন করা হয় তাই এই সময় ঘুমিয়ে থাকলে আল্লাহ তায়ালার বন্টন থেকে বঞ্চিত থেকে যেতে হয়। এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে,

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) তার এক সন্তানকে ভোরবেলা ঘুমাতে দেখে বলেছিলেন, ‘ওঠো! তুমি কি এমন সময়ে ঘুমিয়ে আছ, যখন রিজিক বণ্টন করা হচ্ছে?’ -যাদুল মায়াদ: ৪/২৪১

সকালের ঘুমের ব্যাপারে সতর্ক করে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘তোমরা সকালের ঘুম থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা তা জ্বরের প্রকোপ বাড়ায়, যৌন ক্ষমতা কমায় এবং শারীরের সজীবতা নষ্ট করে। ’ (আন-নিহায়াতু ফি গারিবিল আহাদিস)