বৃহস্পতিবার  ১১ আগস্ট ২০২২,   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯,  ১৩ মুহররম ১৪৪৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

আশুরায় রাসুল (সা.)-এর রোজা পালনের কারণ ও ফজিলত

প্রকাশিত: ২০:১৫, ৫ আগস্ট ২০২২

আশুরায় রাসুল (সা.)-এর রোজা পালনের কারণ ও ফজিলত

ফাইল ছবি

মহান আল্লাহর মাস হিসেবে পরিচিত আরবি হিজরির প্রথম মাস মহররম। এটি  এ মাসের গুরুত্ব ও মর্যাদার কারণে বিশেষ আমল ও ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।  

মহররম মাস নফল রোজা ও ইবাদত-বন্দেগির মাস। এই মাসে রোজা পালনের বিশেষ ফজিলত আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রমজানের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ রোজা হচ্ছে মহররম মাসের রোজা। আর ফরজ সালাতের পর উত্তম সালাত হলো গভীর রাতের সালাত।’ (মুসলিম : ২৬৪৫)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১০ মহররম উম্মতকে রোজা রাখতে বলেছেন। 

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরতের পর দেখেন, ইহুদিরা (মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্তির স্মরণে) এদিন রোজা পালন করছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরা মুসার (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করার ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার। তিনি নিজে সেই (আশুরার) দিনের রোজা পালন করলেন এবং সাহাবাদেরও (এই আশুরার দিন রোজা) নির্দেশ দিলেন।’ (বুখারি)

ইহুদিদের অনুসরণ যেন না হয় সেজন্য দুই দিন রোজা পালনের নির্দেশ দেন তিনি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তাহলে ৯ এবং ১০ মহররম দুই দিনই রোজা রাখব।’ (মুসলিম : ২৭২২)

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাতে এলেন; তখন মদিনার ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করত। তারা জানাল, এ দিন মুসা (আ.) ফেরাউনের ওপর বিজয় লাভ করেছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের বললেন, মুসা (আ.) এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে তাদের চেয়ে তোমরাই অধিক হকদার। কাজেই তোমরা রোজা রাখো।’ (মুসলিম : ২৭১৪)

মানুষ স্বভাবতই গুনাহ করে। মহররম তথা আশুরার রোজা এতই মর্যাদাপূর্ণ যে, এটি বিগত এক বছরের (সগিরা) গুনাহ ক্ষমার ব্যবস্থা করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি বিগত এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম : ২৮০৪)