রোববার  ২৬ জুন ২০২২,   আষাঢ় ১২ ১৪২৯

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

জান্নাতের সরদার মা ফাতেমা (রা.)-এর জীবনী

প্রকাশিত: ১১:২০, ১৭ জুন ২০২২

আপডেট: ১১:২৪, ১৭ জুন ২০২২

জান্নাতের সরদার মা ফাতেমা (রা.)-এর জীবনী

ফাইল ছবি

যে নুরের আকর্ষণে সারা জাহান মাতোওয়ারা, সিরাজাম মুনীরা হিসেবে যে নুর উদ্ভাসিত, সে নুরের সরাসরি অংশ হজরত ফাতেমাতুয যাহরা বাতুল রাদিআল্লাহু আনহা। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশ ধারার কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। যত নারী জান্নাতে যাবেন, সবার নেত্রী ফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহা।

নবী পরিবারের উজ্জ্বল নক্ষত্র হজরত সৈয়্যদা ফাতেমাতুজ যাহরা (রা.)’র জন্ম সন সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে। এক বর্ণনা মতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একচল্লিশ বৎসর বয়সে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। আল্লামা ইবনে জওযী (র.)’র বর্ণনা মতে নবীজির নবুওয়ত প্রকাশের পাঁচ বৎসর পূর্বে ৬০৫ খ্রিস্টাব্দে বায়তুল্লাহ শরীফ সংস্কারের সময় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। হজরত জয়নাব, হজরত রুকাইয়া এবং উম্মে কুলসুম এর পর রাসূলুল্লাহর সবচেয়ে কনিষ্ঠ কন্যা হজরত ফাতেমাতুজ যাহরা (রা.)। তার মাতা হচ্ছে উম্মুল মুমেনীন হজরত খাদীজাতুল কোবরা রাদ্বিয়াল্লাহ তা’আলা আনহা।

পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে হজরত ফাতেমা (রা.)-এর মর্যাদা

আহলে বায়তের মধ্যমনি, নবীজির কলিজার টুকরা হজরত ফাতেমাতুজ যাহরা (রা.) ছিলেন সৃষ্টিগত ভাবেই পূতপবিত্র রমণী। আহলে বায়তের মর্যাদা বর্ণনায় আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে চান। (সূরা: আল আহযাব, পারা: ২২, আয়াত: ৩৩)

এ বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই যে, পৃথিবীতে সব নারীই ঋতুস্রাব কালীন মাসিক কিছু সময় অপবিত্র থাকেন, ব্যতিক্রম শুধু খাতুনে জান্নাত, হজরত ফাতেমাতুজ যাহরা (রা.)। ঋতুস্রাব, মাসিক ছাড়াই তিনি তার নূরানী সন্তান জান্নাতী যুবকদের সরদার হজরত ইমাম হাসান ও হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ সব সন্তান সন্তুতিদের জন্ম দিয়েছেন। তিনি ঋতুস্রাব মুক্ত ছিলেন, এ কারণে তার নামায কাজা হতো না। তার পবিত্র সত্তা ছিল পূতপবিত্র, একারণেই তিনি তৈয়্যবা, তাহেরা, যকীয়া, উপাধি অভিধায় ভূষিত। এভাবে সাদিকা (সত্য পরায়ণা) জীবনে কখনো তিনি মিথ্যাচার করেননি।

হাদীস শরীফে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই ফাতেমা পূতপবিত্র। আল্লাহ তা’আলা তার বংশধরগণের উপর জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন। (মুস্তাদরাক হাকেম, খন্ড: ৩, পৃ: ১৫২)
উম্মুল মুমেনীন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র ওফাতের শেষ দিনগুলোতে হজরত ফাতেমাতুজ যাহরার কানে কানে কিছু গোপন কথা ব্যক্ত করেছেন। যা শুনার পর হজরত ফাতেমা ক্রন্দন করছেন, কিছুক্ষণ পর তিনি (ফাতেমা) মুসকি হাসি দিলেন। ক্রন্দনের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাব দিলেন নবীজি কিছু দিনের মধ্যে ওফাত বরণ করবেন। মুসকি হাসির কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, (হে ফাতেমা) তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি হবে জান্নাতী নারীদের সরদার বা তুমি হবে সব মুমীন নারীদের সরদার। (বুখারী, খন্ড: ১ম, পৃ: ৫১২, মুসলিম, খন্ড:২, পৃ: ৫৯১)

হজরত ফাতেমা (রা.)-এর সন্তুষ্টিতে রসূলুল্লাহর সন্তুষ্টি

হজরত মিসওয়ার বিন মাখরামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ফাতেমা আমার কলিজার টুকরা, যে তাকে অসন্তুষ্ট করল সে আমাকে অসন্তুষ্ট করল। (বুখারী, খন্ড: ২য়, পৃ: ৫৩২, মুসলিম, খন্ড:২য়, পৃ: ২৯০)

হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, উম্মুল মুমেনীন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হজরত ফাতেমার চেয়ে অন্য কাউকে কথাবার্তা ও আলোচনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র সাদৃশ্য দেখিনি। যখন তিনি নবীজির কাছে আসতেন, নবীজি দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানাতেন, স্নেহ মমতায় তার হাতে চুমু দিতেন এবং নিজের আসনে তাকে বসতে দিতেন। (তিরমিযী, আল মস্তাদরাক হাকেম, খন্ড: ৩য়, পৃ: ১৫৪)

আরো এরশাদ হয়েছে, যখনি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ফাতেমার কাছে যেতেন হজরত ফাতেমা নবীজির প্রতি পরম শ্রদ্ধা ও সম্মানে দাঁড়িয়ে যেতেন নবীজিকে চুম্বন করতেন এবং নিজের জায়গায় বসাতেন। (তিরমিযী, মুস্তাদরাক হাকেম, খন্ড: ৩য়, পৃ: ১৫৪)

উপরোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, বড়রা ছোটদের প্রতি স্নেহ মমতায় দাঁড়িয়ে যাওয়া তাদের হাতে চুমু দেওয়া জায়েজ ও সুন্নাত।

ফাতেমা (রা.)-এর শাদী মুবারক

মওলা আলীর (রা.) সঙ্গে খাতুনে জান্নাতের দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ হওয়া আল্লাহর নির্দেশেই হয়েছিল। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা আমাকে আদেশ করেছেন, আমি ফাতেমার বিবাহ যেন আলীর সঙ্গে দিই। (তাবরানী, হাদীস :১০৩০৫)

হজরত ইমাম ইউসূফ বিন ঈসমাঈল নিবহানী (রা.)’র বর্ণনামতে দ্বিতীয় হিজরিতে মহররম মাসে অন্য বর্ণনায় জিলহজ্ব মাসে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় হজরত ফাতেমার বয়স হয়েছিল ১৫ বৎসর ছয় মাস, হজরত আলী (রা.)’র বয়স ২১ বৎসর ৫মাস। নবীজি হজরত ফাতেমা (রা.)কে বললেন ওহে আমার প্রিয় কন্যা, আমি আমার বংশের সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তির সাথে তোমার বিবাহ দিয়েছি। (জুরকানী)

হজরত আলী (রা.) হজরত ফাতেমার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তার জীবদ্ধশায় অন্য কাউকে শাদী করেনি। নবীজি এ বিয়েতে ১টি খাট, দুটি তোষক, ১টি চাদর, বালিশ, পানির মশক, লোটা উপহার স্বরূপ দিয়েছিলেন। বিয়ের মোহরানা ছিল পাঁচশত দিরহাম। (মুসলিম শরীফ, আনোয়ারুল হাদীস, পৃ: ৩৩২ কৃত: মুফতি জালাল উদ্দিন আহমদ আমজাদী)

তিনি ছিলেন বীর

মক্কার কাফের গোষ্ঠী নামাজে-সিজদারত অবস্থায় উটের নাড়িভুঁড়ি এনে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহির ওয়া সাল্লামের ঘাড়ে রেখে দিল, ৩০-৪০ কেজি ওজনের চাপে যখন প্রিয়নবী (সা.)-এর নাভিশ্বাস উঠল। তখন হজরত ফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহা কিশোরী হয়েও সাহসিকতার সঙ্গে সে নাড়িভুঁড়ি সরিয়ে দিয়েছেন। এই তো সেই ফাতেমা, যিনি ওহুদ ময়দানে পাহাড়ের পাদদেশে যখন কাফেরদের প্রচণ্ড আক্রমণে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রক্তাক্ত। তখন তারই সহযোদ্ধা রক্ত বন্ধ করার জন্য খেজুরের চাটাই পুড়িয়ে তার ছাই দিয়ে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গায়ে প্রলেপ দিয়েছিলেন।

মানবদরদি আদর্শ নারীর বিরল উপমা

হজরত ইমাম হাসান ও হোসাইন রাদিআল্লাহু আনহুমার শৈশবে খুব জ্বর হল। কোনো ওষুধে জ্বর কমছে না। অবস্থা বেগতিক দেখে হজরত আলী রাদিআল্লাহু ও ফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহা তিনটি নফল রোজার নিয়ত করেছেন। বিভিন্ন ব্যস্ততায় মান্নতের রোজা পালন করতে দেরি হয়ে গেল। তারা সিদ্ধান্ত নিলেন, রোজা রাখবেন। কিন্তু ঘরে সাহরি খাওয়ার কিছুই ছিল না। সামান্য কিছু খেয়ে রোজা রাখলেন।

হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহু সারা দিন খেটে মাত্র কয়েকটি রুটি তৈরি করার যব পেলেন। ইফতারের আগে রুটি তৈরি হল। হজরত হাসান ও হোসাইনকে দুটি দিয়ে দু’জনে দুটি রুটি নিয়ে ইফতারের জন্য বসলেন, এমন সময় এক মিসকিন এসে করুণ স্বরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ঘরে কে আছে গো, আমি কয়েকদিন খাওয়া পাইনি। ক্ষুধার জ্বালায় আমার জীবন যাচ্ছে। থাকলে কিছু দিন? হজরত আলী কিছুই বললেন না, কারণ ফাতেমা তো না খেয়ে রোজা রেখেছে।

হজরত ফাতেমা হজরত আলীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, আপনি যদি রাজি হন, তা হলে এ অসহায় মিসকিনটাকে রুটি দুটি দিয়ে আমরা সবর করি। আল্লাহতায়ালা কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘ওয়া আম্মাস সায়িলা ফালা তানহার’ কেউ চাইলে তাকে ফিরিয়ে দিও না। হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহু হজরত ফাতেমা যাহরা রাদিআল্লাহু আনহার মানবপ্রেম দেখে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে রুটি দুটি মিসকিনের হাতে তুলে দিলেন।

দ্বিতীয় দিনে সামান্য কিছু খেয়ে রোজা রাখলেন। এ দিনে সামান্য কিছু গম জোগাড় করে রুটি তৈরি করে ইফতার করতে বসলেন, এমন সময় এক এতিম অসহায় এসে কেঁদে বলল, আমি কয়েকদিন খাইনি, যদি থাকে কিছু দিন। উপোবাস থেকে রোজা রেখে সারা দিন খেটে ইফতার করতে বসে এ ধরনের অবস্থায় পড়লে আমরা কী করতাম? আহলে বাইতে রাসূলের চরিত্র ও ধৈর্য ছিল উম্মতের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ।

হজরত ফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহা বললেন, আল্লাহর ওয়াস্তে চেয়েছে আমরা ধৈর্য ধরি, রুটি তাকে দিয়ে দিন। হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহু রুটি দুটি তাকে দিয়ে দিলেন। তৃতীয় দিনও সামান্য কিছু খেয়ে রোজা রাখলেন। তিন দিনের উপোস থাকার পর হজরত আলী আর চলতে পারছেন না। তার পরও অনেক কষ্টে কিছু যব পেলেন। রুটি তৈরি হল। তিন দিন পর ক্লান্ত-শ্রান্ত অবস্থায় ইফতার করতে বসেছেন, এমন সময় একজন কয়েদি না খেয়ে কাঠ হয়ে গেছে।

ঘরের দরজায় এসে করুণ সুরে বলল, আমি কয়েদি ছিলাম, মাটির নিচের গর্তে আমাকে বহু দিন রেখে দেয়া হয়েছে। খাওয়া দেয়া হয়নি। ক্ষুধায় আমার জীবন যাচ্ছে। আমাকে খাওয়া দিন। হজরত ফাতেমা যাহরা রাদিআল্লাহু আনহা হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুকে বললেন, এ ক্ষুধার্থ ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেয়া যায় না। এই বলে রুটিগুলো কয়েদিকে দিয়ে দিলেন। লাগাতার তিন দিন না খেয়ে রোজা শেষ করলেন। আল্লাহতায়ালা রাতেই আয়াত নাজিল করলেন, ‘আল্লাহর মুহাব্বতে যারা মিসকিন, এতিম ও কয়েদিদের খাবার দেয়, আর বলে আমরা এ খাওয়া শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য খাওয়াই, তাতে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ চাই না। নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রবকে ভয় করি। সেদিন ভয়ংকর ও কষ্টকর (সূরা আদ দাহার, আয়াত ৮-১০)।

হজরত ফাতেমা (রা.)-এর ইবাদত বন্দেগী

হজরত ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনার জীবনাদর্শ ছিলো নবীজির বাস্তব প্রতিচ্ছবি, নামায, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ, তাহলীল, ইবাদত বন্দেগীতে তিনি ছিলেন অনন্য অসাধারণ গুণাবলী ও আদর্শের বাস্তব নমুনা। শেরে খোদা মওলা আলী (রা.) বর্ণনা করেছেন, হজরত ফাতেমা (রা.) খাবার রান্না করা অবস্থায়ও কুরআনুল করীম তিলাওয়াত করতেন। হজরত সালমান ফারসী (রা.) বর্ণনা করেন, একদা প্রিয় নবীজির নির্দেশে হজরত ফাতেমা (রা.)’র ঘরে গিয়ে দেখলাম, হজরত ইমাম হাসান ও হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) দুজনই নিদ্রারত, খাতুনে জান্নাত তাদেরকে পাখা করছেন, আর জবান মুবারক দিয়ে পবিত্র কুরআন মজীদ তিলাওয়াত করছেন। [কিমিয়ায়ে সা’দাত, ইমাম গাজ্জালী (র.)]

হজরত ইমাম হাসান (রা.) বর্ণনা করেন, আম্মাজানকে দেখেছি তিনি ঘরের মসজিদের মিহরাবে সারারাত নামাযে লিপ্ত থাকতেন, তিনি সকল মুসলিম নরনারীর জন্য অধিক পরিমান দোয়া করতেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম মমতাময়ী আম্মাজান! আপনি নিজের জন্য কোন দোয়া করছেন না? জবাব দিলেন প্রিয় বৎস! প্রথমে প্রতিবেশী তারপর পরিবার। (অর্থাৎ যেন আমার আব্বাজানের উম্মতের জন্য ক্ষমা নসীব হয়।) এটাই ছিল হজরত ফাতেমার দুআ। (মদারেজুন নবুওয়াত, খন্ড:২য়, পৃ: ৭৯০)

বিশ্বের চারজন মহীয়সী রমনী

প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, চারজন নারী সমগ্র নারী জাতির মধ্যে সর্বোত্তম। হজরত মরিইয়ম বিনতে ইমরান, হজরত আছিয়া বিনতে মুযাহিম (ফিরআউনের নেককার স্ত্রী), হজরত খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ, হজরত ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাদের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে হজরত ফাতেমাতুজ যাহরা (রা.)। (দুররুল মনসুর, খন্ড:২য়, পৃ: ২৩, কানযুল উম্মাল, খন্ড: ৬, পৃ: ২২৭)

পরলোকগমন

হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ হজরত ফাতেমাকে বলেছিলেন, আমার পরিবারের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে। (ফাদ্বারিলুস সাহাবা, হাদীস: ১৩৪০)

নবীজির ওফাতের পর হজরত ফাতেমা সবচেয়ে বেশী শোকাহত ও ব্যথিত হয়েছিলেন, হজরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি অধিকাংশ সময় ক্রন্দনে অতিবাহিত করতেন। কখনো তার মুখে আর হাসি দেখা যায়নি। নবীজির ওফাতের ৬ মাস পর ৩ রমজানুল মুবারক ১১ হিজরিতে মঙ্গলবার রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

হজরত আলী (রা.) অথবা হজরত আব্বাস (রা.) জানাযা পড়িয়েছেন। তার অসীয়ত অনুযায়ী রাতেই তাকে জান্নাতুল বাক্বীতে দাফন করা হয়। (মদারেজুন নবুওয়ত, খন্ড:২, পৃ: ৭৯০)।

আল্লাহ সমগ্র নারী জাতিকে খাতুনে জান্নাত হজরত ফাতেমা (রা.) এর আদর্শ নসীব করুন।