ঢাকা,  শনিবার  ২০ জুলাই ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

কেন্দ্রের নজর গাজীপুরে, প্রতিদিনই আসছেন কেন্দ্রীয় নেতারা

প্রকাশিত: ১১:২৫, ৪ মে ২০২৩

কেন্দ্রের নজর গাজীপুরে, প্রতিদিনই আসছেন কেন্দ্রীয় নেতারা

সংগৃহিত ছবি

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই কারণেই গাজীপুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৬৫ লাখ জনসংখ্যা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে। দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশ ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে কেন্দ্রীভূত। ঢাকার পরেই সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কাজ করে গাজীপুরে। বিশ্বব্যাংকের ‘অ্যাগলোমারেশন ইকোনমি’ বলে যেখানে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কেন্দ্রীভূত হয়ে শিল্প ও মানুষ পাশাপাশি অবস্থান করে, গাজীপুরও তেমন। কৃষি থেকে শিল্পে রূপান্তরিত অর্থনীতিতে রাজনৈতিক ভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে গাজীপুর। আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে যখন যে সরকার এসেছে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।

ঢাকার সন্নিকটে অবস্থিত গাজীপুর জেলাকে ২০১০ সালের ১৬ মার্চ বিশেষ শ্রেণির জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠার পর আগামী ২৫ মের নির্বাচন হবে গাজীপুর সিটির তৃতীয় নির্বাচন।

গাজীপুর জেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৬৩। এর মধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৩, নারী ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮১২ এবং হিজড়া (কারেকশন : তৃতীয় লিংগ) ভোটার ১৮ জন।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৯ মে। ইতিমধ্যে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয় টিম গঠন করেছে।

এই টিমে দলনেতা করা হয়েছে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীকে। টিমের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক।

বাকি সদস্যরা হলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সিমিন হোসেন রিমি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম কামাল হোসেন, আইন সম্পাদক অ্যাড. নজিবুল্লাহ হিরু, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক জাহানারা বেগম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বেগম শামসুন নাহার, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।

আগামী ৬ মে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক গাজীপুর মহানগরে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খানের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের কথা। তাই বেশ নড়েচড়ে বসেছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

বুধবার বাংলাদেশের আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম জোয়ার্দার সৈকত ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন খসরু ইতিমধ্যে পূর্ব প্রস্তুতিমূলক মত বিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো. কামরুল আহসান সরকার রাসেল, সুমন আহমেদ শান্ত, এসএম আলমগীর ও লিটন উদ্দিন সরকার।

কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনে চাপ কেমন জানতে চাইলে মহানগর যুবলীগ নেতা লিটন উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমরা চাই কেন্দ্র থেকে সবাই আসুক, আমরা গাজীপুর আওয়ামী লীগ ঐকবদ্ধ, মাত্রই ৪৫ নং ওয়ার্ডের জামাইবাজার, ক্যামব্রিজ স্কুল প্রাঙ্গণে মত বিনিময় আমাদের ঐক্য নিয়েই আলাপ হচ্ছিল। আমাদের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আজমত উল্লা খানের বিজয় নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরবে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ।’

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সমন্বয় টিমের দলনেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া গাজীপুর সিটি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও দলের মধ্যে বিভেদ তৈরি কারীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং একই দিনে কেন্দ্রের একটি অংশ সাবেক মেয়র জাঙ্গাহীরকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের আভাসও দিয়েছে। অন্যদিকে, গাজীপুর সিটি নির্বাচনের প্রচার ও নির্বাচনী কাজে অংশ না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলকে ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।