সোমবার  ০৫ ডিসেম্বর ২০২২,   অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৯,  ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

বড়ভাইয়ের বিরুদ্ধে পর পর ৭ মামলা!

প্রকাশিত: ১৮:৪৯, ২৩ নভেম্বর ২০২২

বড়ভাইয়ের বিরুদ্ধে পর পর ৭ মামলা!

বড়ভাইয়ের বিরুদ্ধে পর পর ৭ মামলা!

গাজীপুর কাপাসিয়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড়ভাইকে মিথ্যা পর পর সাতটি মামলা দিয়েছেন তার নিজের ছোটভাই। আরও মামলা করার হুমকি দেন তিনি।

ছোটভাই রহিম মোল্লা ওরফে মামলাবাজ কাজলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আপন বড়ভাই মনিরুজ্জানের। তারা উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দড়ি মেরুণ গ্রামের মৃত ওয়ারেজ আলীর ছেলে।

অভিযোগে জানা যায়, ওয়ারেজ আলী মৃত্যুর আগে ২৭১ শতাংশ জমি দুই ছেলে মনিরুজ্জামান, কাজল, দুই মেয়ে হোসনে আরা ও বিলকিস বেগমের মধ্যে জমি বণ্টন মূলে দখলদার রেখে যান। কিন্তু বড়ভাই মনিরুজ্জামান হঠাৎ প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী হলেই তার জমি দখলের ফন্দি আঁটেন ছোটভাই কাজল। 

এরই কৌশল হিসেবে ভাই মনিরুজ্জামান, তার স্ত্রী মিনারা বেগম, মেয়ে ফাহিমা, পুত্রবধূ সাবিনা ইয়াসমিন, মেয়ের জামাই উমায়ের আল হাবীব ও বেলাল হোসেনসহ তাদের একে একে দেওয়া হয় আটটি মামলা। টাকার বিনিময়ে একই ব্যক্তিরা অধিকাংশ মামলার সাক্ষীদাতা। 

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় ভূমি রেকর্ড ও জমি জরিপ অধিদপ্তরে ডি-ম্যান পদে কর্মরত কাজলের নামে রয়েছে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ। নিজ গ্রামে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করেছেন আলিশান বাড়ি। গাজীপুর মহানগর তেলিপাড়ায় রয়েছে দামি প্লট। কালীগঞ্জের চুপাইর শ্বশুরবাড়িতে ক্রয় করেছেন একাধিক বিঘা জমি।

এ বিষয়ে মিনারা বেগম বলেন, স্বামীর প্যারালাইসিস হওয়ার পর থেকেই তার জমি জোর দখলের চেষ্টা চালায় দেবর কাজল। কোটি কোটি টাকায় নির্মিত আলিশান বাড়ি, প্লট ও জমি থাকার পরও আমার স্বামীর সম্পত্তি কেন জোর দখলের চেষ্টার কারণ জানতে চাইলেই পরিবারের সবাইকে একে একে দেওয়া হয় মিথ্যা মামলাগুলো। এমনকি মামলা থেকে রেহাই পাননি অসুস্থ স্বামী, সন্তান ও মেয়ের জামাই।

উমায়ের আল হাবীব জানান, চাচা শ্বশুর কাজল আমার শ্বশুর অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তার জমি জোর করে দখলের চেষ্টা করে। এর কারণ জানতে চাইলে আমাকে এবং আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দেওয়া হয় পাঁচটি মামলা। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে যেসব মামলা দেওয়া হয়, তাতে ইমাম ও শিক্ষক হিসেবে আমি লজ্জিত।

এ ব্যাপার রহিম মোল্লা কাজল বলেন, দুটি মামলা প্রসেসিংসহ সাতটি মামলা চলমান আছে। আমার পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে আরও মামলা করা হবে। 

সামান্য বেতনের চাকরি করে কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন জানতে চাইলে সব কথা আপনাকে বলতে হবে না। আমার সম্পদের তদন্ত হয়ে গেছে বলে ফোন কেটে দেন তিনি। পরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।