শনিবার  ২০ আগস্ট ২০২২,   ভাদ্র ৪ ১৪২৯,  ২২ মুহররম ১৪৪৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

যে বাজারের ক্রেতারা সব চলতি পথের পথিক

প্রকাশিত: ১৭:৫১, ১৮ জুন ২০২২

যে বাজারের ক্রেতারা সব চলতি পথের পথিক

পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর বাড়তি ফল, শাকসবজি নিয়ে রাস্তার পাশে বসেছেন গ্রামবাসী।

কেউ আম, জাম, লিচু, কাঁঠালসহ নানা ফল নিয়ে, আবার কেউ সবজি নিয়ে বসে আছেন ব্যস্ত রাস্তার পাশে। চলতি পথে এসব দেখে কেউ গাড়ি থামিয়ে, কেউবা যাত্রাবিরতি দিয়ে কিনছেন এসব পণ্য। ব্যস্ত সড়ক বা চলাচলে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে বেশ জমজমাট পরিবেশ।

এই বাজারের সব বিক্রেতা স্থানীয় বাসিন্দা। আর ক্রেতারা সব চলতি পথের পথিক। গ্রামের বাসিন্দারা পরিবারে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর যতটুকু বাড়তি থাকে, তাই বিক্রি করতে বসে পড়েন সড়কের পাশে। চলতি পথের ক্রেতারা একটু তাজা জিনিস পেতে ভিড় করেন এখানে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর নগরের টঙ্গী-জয়দেবপুর সড়ক ধরে যেতেই উত্তর ধীরাশ্রম এলাকায় চোখে পড়ে এই অস্থায়ী বাজারটি। বিশেষ কোনো স্থাপনা নেই। রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে সারি বেঁধে বসে আছেন গ্রামের লোকজন। তাঁদের সামনে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, লেবু ও কিছু শাকসবজি। ক্রেতা পাওয়ার আশা থাকলেও নেই সেভাবে হাঁকডাক। অনেকে রাস্তা দিয়ে যাওয়া সময় বাজারটি দেখে থামছেন। ঘুরে ঘুরে দোকান নিয়ে বসা গ্রামবাসীর কাছ থেকে নানা কিছু কিনছেন।

কাঁঠাল বিক্রেতা মো. আলী আকবর স্থানীয় উত্তর ধীরাশ্রম গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় নির্মাণশ্রমিক। নিজের গাছে এবার অনেক কাঁঠাল ধরেছে। পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর অনেক কাঁঠাল রয়ে গেছে। তাই কাঁঠাল নিয়ে বসেছেন তিনি। তিনি বলছিলেন, ‘হঠাৎ কইর‍্যাই এক লগে অনেক কাডল পাইক্কা গেছে। বাড়ির লোকজনও আর খাইতে পারছে না। হেললাইগ্যা কিছু কাডল বেচতে সড়কে বইছি। দেহি ক্রেতা পাওন যায় কি না।’

একইভাবে দোকান নিয়ে বসা আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারটি অস্থায়ী। সখের বসেই গ্রামের লোকজন নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে এখানে বসেন। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় তাদের দোকান। এর মাঝে বিক্রি শেষ হলেই বাজারটি উঠে যায়।

শাহীন আলম নামের এক কলা বিক্রেতা বলেন, ‘এখানে সবকিছু টাটকা। একদম গাছ থেকে পাড়া। কোনো ফরমালিন বা মেডিসিন ব্যবহার করা হয় না। আমরা সখের বসেই ফলের সময় এইহানে বসি। রাস্তা দিয়া যাওয়ার সময় অনেকেই আমাগোর কাছ থ্যাইকা জিনিস কিনা নিয়া যায়। আমাগোরও কয়ডা ট্যাকা আয় অয়। আমাগোর মূল ক্রেতাই চলতি পথের লোকজন।’

এসব বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই দেখা গেল কয়েকজন গাড়ি থামিয়ে দোকানগুলো থেকে ফলমূল কিনছেন। তাঁদের একজন রাজধানীর খিলখেতের বাসিন্দা মো. আমিনুল ইসলাম। গাজীপুর আদালতে কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এ সময় তিনি গাড়ি থামিয়ে কেনাকাটা করেন। অস্থায়ী এই বাজার থেকে ২টি কাঁঠাল ও তিন কেজি জাম কেনেন।

কথা হলে আমিনুল বলেন, ‘ঢাকায় ফেরার পথে হঠাৎ তাকাতেই দোকানগুলোর দিকে চোখ পড়ল। দেখে মনে হলো জিনিসগুলো সতেজ। তাই গাড়ি থামিয়ে কিছু জিনিস কিনে নিচ্ছিলাম। সাধারণত শহরে টাটকা জিনিস পাওয়া যায় না। এখানে গ্রামের লোকজন যেহেতু অল্প অল্প করে জিনিস নিয়ে বসেছেন, তাই এসব টাটকা ও সতেজ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’