ব্রেকিং:
"গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ।" "বিশিষ্ট সাংবাদিক, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের শোক।"
  • বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৯

  • || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩

গাজীপুর কথা

১৪ মে, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতায় রক্তে লাল হয়েছিল বেলাই বিল

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২২  

১৯৭১ সালের ১৪ মে। এদিন পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতায় রক্তে লাল হয়েছিল গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়ার বেলাই বিল। সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রধান বাড়িয়া গ্রামে কতিপয় রাজাকারের সহায়তায় বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী চালায় নৃশংসতম গণহত্যা। তারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে দুই শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশু হত্যা করে। আর এ ঘটনায় আহত হয় কয়েকশ মানুষ। তারা গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় গাজীপুর জেলা শহরের (তৎকালীন জয়দেবপুর) ভাওয়াল রাজবাড়ী ছিল পাকিস্তানি সৈন্যদের সেনানিবাস বা ক্যান্টনমেন্ট। এখান থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরত্বের বাড়িয়া গ্রাম ছিল প্রত্যন্ত একটি এলাকা। হেঁটে বা নৌকা ছাড়া যাওয়ার আর কোনো উপায় ছিল না।
প্রত্যন্ত এলাকা বলে এ গ্রামটি নিরাপদ মনে করে হিন্দুপ্রধান এ গ্রামে অনেক আত্মীয়-স্বজন আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু সেখানেও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। বর্তমানে বাড়িয়া গ্রামে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে বাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ চলছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা বিজয় দাস স্বাধীনতার পর থেকেই বাড়িয়া গণহত্যার বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসতে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবিও ছিল তার। স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ শুরু করায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্য স্থানীয় বিজয় দাস জানান, ১৪ মে শুক্রবার দুপুরের দিকে কিছু রাজাকার নিয়ে জয়দেবপুর রাজবাড়ী সেনানিবাস থেকে দুই শতাধিক হানাদার পাকিস্তানি সৈন্য বাড়িয়া গ্রামে হামলা চালায়। গ্রামে ঢুকেই কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। তাদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে বাড়িয়া ও পাশ্ববর্তী কামারিয়া গ্রামে আশ্রিতসহ দুই শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশু নিহত হয়। আর আহত হয় কয়েকশ মানুষ। রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায় উভয় গ্রামের মাটি। মাটিতে পড়ে আহতরা মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে।
পাশ্ববর্তী বেলাই বিল সাঁতরে অথবা নৌকা-কোশা-ডিঙি দিয়ে পালানোর সময় তাদের ওপরও গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে নিহত-আহতদের রক্তে লাল হয়ে যায় বেলাই বিলের জল। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে অসংখ্য লাশ, ভাসতে থাকে বেলাই বিলের জলে।
সেদিন বালু নদী পার হয়ে যাওয়া বাবুল শীল ও কাবুল শীল জানান, পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় তাদের বাবা-মা, বড় ভাই, তিন ভাতিজি প্রাণ হারিয়েছিল। নিহত বিনোদা রানীর ছোট বোন কনকা রানী জানান, পাকিস্তানি বাহিনীর ভয়ে নৌকা নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের পরিবারের ৫ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। আব্দুল মতিন জানান, তাদের পরিবারের ৫ জন সদস্য একটি পাম্প মেশিনের নিচে আশ্রয় নিয়েছিল। পাম্প মেশিনকে কামান মনে করে পাকিস্তানি সৈন্যরা গুলি করে সবাইকে হত্যা করেছিল।

গাজীপুর কথা
গাজীপুর কথা