ব্রেকিং:
"গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ।" "বিশিষ্ট সাংবাদিক, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের শোক।"
  • বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৯

  • || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩

গাজীপুর কথা

অন্তরাল থেকে আবার প্রকাশ্যে জাহাঙ্গীর আলম

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ১২ মে ২০২২  

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে গত বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথমে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হন গাজীপুরের তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এর কয়েকদিন পর ২৫ নভেম্বর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকেও তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নানা দুর্নীতি আর অনিয়মের অনেক অভিযোগ আনে বরখাস্তের আদেশে। এরপরই গাজীপুরের এক সময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী রাজনীতিক জাহাঙ্গীর নিজেকে গুটিয়ে নেন সব ধরনের সভা, সমাবেশ মিটিং মিছিল থেকে। এমনকি নেতাকর্মী থেকে শুরু করে ঘনিষ্ঠজনদের থেকেও নিজেকে আড়াল করে অন্তরালে চলে যান তিনি। সেই অন্তরাল জীবন থেকে আবার এই আলোচিত নেতা প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে একটি ঘরোয়া আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। আর এতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সব হারিয়ে একা হয়ে যান তিনি। কিন্তু গত রোজার শুরু থেকে জাহাঙ্গীর প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেন ইফতার মাহফিল দিয়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও স্বজনদের জানাজায়ও অংশ নিতে দেখা যায় তাকে। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নিজের সমর্থকদের জড়ো করার পাশাপাশি তাদের উদ্দীপ্ত করতে এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বক্তব্য দেন তিনি। এসব বক্তব্যে জাহাঙ্গীরের ভাষ্য ছিল, ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে তাকে। তবে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আশাবাদী নিজের ফেরার ব্যাপারে। এখনো জনগণ তাকে চায় বলে দাবি করেন তিনি।

জানা গেছে, রোজায় গাজীপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের ইফতার মাহফিলে অংশ নেন জাহাঙ্গীর আলম। প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিলে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি কর্মকর্তারা। গত ১৯ এপ্রিল ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ডিজিটাল সার্ভিলেন্স (সিসি ক্যামেরা) কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন সাময়িক বরখাস্ত এই মেয়র। ২২ এপ্রিল শ্রমজীবী শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ ও বিভিন্ন গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনসহ ৪৫টি শ্রমক সংগঠনের সঙ্গে নিজ বাড়িতে মতবিনিময় ও ইফতারে অংশ নেন। গত ২৩ এপ্রিল জাহাঙ্গীর যান নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ গ্রাম কানাইয়ায়। সেখানে একটি মতবিনিময় সভায় তার দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে এসেছে। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার মেয়র পদ আছে। আমার মেয়রের সব দায়িত্বও আছে। আমাকে তদন্তের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তদন্ত করতে হয় ৩০ দিনে। সেটা আজকে ছয় মাস হইছে। ছয় মাসের মধ্যে তারা আমার একটা লাউ-বেগুনও পায় নাই। আমি আমার ঘরে ঘুমাই।’

কানাইয়ার ভিডিওটি ফেসবুকে আসার পর ২৪ এপ্রিল রাতে রাজধানীর উত্তরায় গাজীপুরের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের বাসভবনে কাউন্সিলরদের একটি অংশের জরুরি সভা হয়। সেখানে জাহাঙ্গীরের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে আলোচনা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। মেয়র পদ থেকেও তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। ধীরে ধীরে তার দুর্নীতির আমলনামা তদন্তে বেরিয়ে আসছে। অথচ তিনি হঠাৎ করে প্রকাশ্যে এসে বিতর্কিত মন্তব্য করে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় লিপ্ত আছেন।

এসব বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এলাকার মানুষের পালস আমার পক্ষে রয়েছে। জনগণই আমার শক্তি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। স্বপদে ফেরার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

গাজীপুর কথা
গাজীপুর কথা