• শুক্রবার   ২০ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪২৯

  • || ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩

গাজীপুর কথা

গাজীপুরে অস্তিত্ব হারাচ্ছে খাল, বর্ষায় জলাবদ্ধতা

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২২  

গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় খাল রয়েছে পাঁচ থেকে ছয়টি। কিন্তু শহরকেন্দ্রীক দুইটি খাল দখল হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে অল্প বৃষ্টিতেই গাজীপুর শহরসহ অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রধান প্রধান সড়কে জমে থাকা পানি দ্রুত কমে গেলেও ছোট সড়কগুলোতে পানি তিন থেকে চার ঘণ্টা থাকে। এতে এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে পড়তে হয় দুর্ভোগে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, গাজীপুরের জলাবদ্ধতার এই সমস্যা অনেক বছর ধরে। শহরের দুইটি খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বাসাবাড়ির আবর্জনা আটকে শহরের বিভিন্ন স্থানে খালগুলো ভরাট হচ্ছে। 

সরেজমিন স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কামারঝুড়ি ও কলমেশ্বর এলাকা থেকে বোর্ডবাজার হয়ে কুনিয়া, বড়বাড়ি থেকে উত্তর খাইলকৈর, দক্ষিণ খাইলকৈর দিয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল চলে গেছে তুরাগ নদীতে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া, মোগরখাল, বড়বাড়ি এলাকার জয়বাংলা রোড এলাকার সড়কগুলোতে মাত্র এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি থেমে গেলেও এসব এলাকা থেকে কয়েক ঘণ্টা লাগে পানি চলে যেতে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকার ছোট ছোট সড়ক এবং গলিতে আধাঘণ্টার ভারী বর্ষণেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। 

এলাকাগুলো হচ্ছে গাজীপুরের চান্দনা, ভোগড়া, নজলজানি, মোগরখাল, জয়বাংলা রোড, কামারঝুড়ি, কলমেশ্বর, বোর্ডবাজার, কুনিয়া, বড়বাড়ি, উত্তর খাইলকৈর, দক্ষিণ খাইলকৈরসহ আশপাশের এলাকা। 

মোগরখাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে মহানগরের লক্ষাধিক মানুষ। খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। এক সময়ের ৩০ ফুট প্রস্থের এ খাল বর্তমানে পাঁচ থেকে সাত ফুট পর্যন্ত সরু হয়ে গেছে।  খালে পানি নেই।  খালটি প্রায় শত বছরের পুরনো। খালটি জল্লারপাড়, পূর্ব চান্দনা ও মইরান হয়ে হায়দরাবাদ খালে যুক্ত হয়েছে। আর হায়দরাবাদ খালটি বিভিন্ন পথ অতিক্রম করে টঙ্গী নদীবন্দরের কাছে বালু নদে পড়েছে। এ খাল এখন শুধুই বিষাক্ত তরল বর্জ্যের নালা। 

এলাকায় গড়ে ওঠা হাজারো কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে খালটি এখন পরিপূর্ণ। পথচারী ও তীরবর্তী মানুষ বিষাক্ত তরল বর্জ্যের পানির উৎকট গন্ধে অতিষ্ঠ। 

জয়বাংলা রোড এলাকার বাসিন্দা মারুফ চৌধুরী বলেন, কয়েকটি শিল্পকারখানার মালিকরা খালের জমি নিজেদের দাবি করে দখল করে নিয়েছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। খালটি কতো প্রয়োজন তা এখন হয়তো বুঝা যাচ্ছে না। কিন্তু বর্ষায় এর প্রয়োজনীয়তা বুঝা যায়। যেসব স্থানে খালটি দখল হয়ে গেছে সেসব স্থানে পানি উঠে এলাকার বসতবাড়িতে ডুকে যায়। 

গাছা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্র জানায়, গাজীপুরের কলমেশ্বর থেকে দক্ষিণ খাইলকৈর হয়ে ওই এলাকা দিয়ে যে খালটি চলে গেছে সেটি এক সময় অনেক বড় ছিলো। খালে এস.এ দাগে জমির পরিমাণ ছিলো দুই একর ১৫৯ শতাংশ ও আর. এস দাগে জমি ছিলো চার একর ২৫৮ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশই দখল হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ মনির হোসেন খাল পরিদর্শন করে বলেন, গাজীপুরের মোগর খাল, হায়দরাবাদ খাল, বোর্ডবাজার ও খাইলকৈর এলাকার খালের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত কেমিক্যাল বয়ে নিয়ে যাচ্ছে আশপাশের নদে। বিষাক্ত ও উৎকট গন্ধের এলাকাবাসী নানা অসুখে জড়িয়ে পড়ছে।  খালগুলো দিন দিন দখলও হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে বর্ষায় এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
 
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল আহমদ সরকার বলেন, খালটি দখল হওয়ায় বর্ষায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীদের সঙ্গে নিয়ে খালটি উদ্ধার করা হবে। 

ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এর আগে কয়েকবার খাল উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। তবে এলাকাবাসী যেগুলো দখল করেছিলো সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। কিছু উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

গাজীপুর কথা
গাজীপুর কথা