• সোমবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১১ ১৪২৮

  • || ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গাজীপুর কথা

গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নে কম্বল বিতরণ

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০২২  

বয়সের ভারে একা চলতে পারেন না অবলা রাণী দাস (৯৫)। বিধবা হয়েছেন প্রায় ৫০ বছর আগে। ছেলের অভাব অনটনের সংসারে গরম কাপড়ের জন্য কষ্ট পোহাচ্ছিলেন চলতি শীতে। কম্বল বিতরণের খবর শুনে আজ বুধবার অবলা দাস অনুষ্ঠান স্থলে আসেন ৪০ বছর বয়সী নাতির হাত ধরে। কম্বল হাতে পেয়ে খুশিতে কেঁদে ফেলেন তিনি। পরে উপরে দুহাত তুলে বলেন, ‘শীতে বহুত কষ্ট করতাছিলাম। আইজ থাইক্যা আরামে ঘুমাইম পারমু। ভগবান বসুন্ধরার মালিকরে যুগ যুগ বাঁচাইয়া রাখুক। বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করুক’।

শুধু অবলা দাস নন, কম্বল পেয়ে তার মত খুশি ৪ শতাধিক শীর্তত নারা-পুরুষ। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় ও কালের কণ্ঠ শুভসংঘের আয়োজনে বুধবার দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ভাষা শহীদ কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুকুল কুমার মল্লিক। উপস্থিত ছিলেন সদর ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আশরাফুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিজয় দাস, চিত্রশিল্পী ভাষ্কর কুয়াশা বিন্দু, গাজীপুর শুভসংঘের শুভাপতি ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন হিশাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, সদস্য আর এইচ টুটুল, রায়হান, হৃদয় শীল, সিফাত, আলভি, প্রকাশ, মাহদি প্রমুখ।

কম্বল পেয়ে বৃদ্ধ হরিপদ শীল (৮০) বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে সন্তানকে হারিয়েছি। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে। কোনদিন কোনো সহায়তা পাইনি। একটা কম্বলের জন্য কত মানুষের কাছে গেছি, পাইনি। গরম কাপড়রের অভাবে দুইডা নাতনি নিয়া কষ্ট করতাছিল। বসুন্ধরার মালিকের দেয়া কম্বল দাদা-নাতির অনেক উপকার হল’।

বক্তব্যে অধ্যাপক মুকুল কুমার মল্লিক বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপ এর আগেও শীত, বন্যা, এবং করোনারকালীর লকডাউনে সারা দেশের দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। চলতি শীত মৌসুমের শুরু থেকে তারা শীতার্ত মানুষের পাশে থেকে হাজার হাজার কম্বল দিয়ে যাচ্ছে। সমাজের সব বিত্তবানের বসুন্ধরা গ্রুপের মত দরিদ্র মানুষের পাশে এগিয়ে আসলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। মহৎ কাজের অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে চলেছে বসুন্ধরা গ্রুপ’।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পুলিশ পরিদর্শক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আজ চার শতাধিক মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে বসুন্ধরা। এমন সুন্দুর মুহুর্ত অতীতে আর দেখিনি। মানবতার কল্যানে তাদের কাজ স্মরণীয় হয়ে থাকবে’।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বিজয় দাস বলেন, ‘বসুন্ধরার গ্রুপের মালিকের প্রতি আজ আমরা বাড়িয়াবাসী ঋণী হয়ে গেলাম। বাড়িয়া একটি অবহেলিত গ্রাম। অতীতে কেউ এখানে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়নি।’

গাজীপুর কথা
গাজীপুর কথা