ব্রেকিং:
"করোনায় তিনজনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১"
  • শুক্রবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৮

  • || ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

শ্রীপুরে বেঁচে যাওয়া সেই শিশু কেমন আছে

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০২১  

দুধের শিশুকে বুকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়েছিলেন নাদিরা বেগম। টুকরো টুকরো হয়ে মারা যান নাদিরা। মৃত্যুর খুব কাছ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় কোলে থাকা শিশু জাকিয়া জান্নাত। ট্রেনের নিচে পরে জান্নাতের বাম হাত থেতলে যায়। বর্তমানে সে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের ১০ম তলার ১ হাজার ৭ নম্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জাকিয়া জান্নাত নেত্রকোনার দর্গাপুর থানার বরবাট্টা গ্রামের জুয়েল রানার মেয়ে। সে শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকায় ভাড়া করা বাসায় বাবা-মায়ের সাথেই থাকত।
জান্নাতের দাদা তহিমুদ্দিন জানান, ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে পুত্রবধূ নাদিরা মারা যায়। গুরুতর আহত হয় কোলে থাকা জান্নাত। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি বিভাগের ডা. মাহমুদা খাতুন তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
জান্নাতের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসেন শ্রীপুরের সংবাদকর্মী আসাদুজ্জামান বিপু। তার সহায়তায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় অপারেশন হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জাকিয়ার ক্ষতবিক্ষত হাতটি রক্ষায় স্বচেষ্ট হন। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় তাকে। তৃতীয় দফার অপারেশনে পা থেকে মাংস এনে স্থাপন করা হয় হাতের ক্ষত স্থানে।
জান্নাতের দাদা আরও জানান, তিনি পেশায় দিনমজুর। জান্নাতের বাবা পোশাক কারখানায় স্বল্প বেতনে চাকরি করে। নাতনিকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে আছেন তিনি। পূর্ণ সুস্থ হতে আরও সময় লাগবে। স্বল্প আয় দিয়ে জান্নাতের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা এখন কষ্টকর। বিক্রি করার মতো ভিটেমাটিও নেই তাদের। শিশুটিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হৃদয়বান ও বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করেন তিনি।
সংবাদকর্মী আসাদুজ্জামান বিপু জানান, চিকিৎসকদের অক্লান্ত চেষ্টায় জান্নাত এখন সুস্থ হওয়ার পথে। থেতলে যাওয়া হাতটি এখন নাড়াচাড়া করতে পারে। এখন অনেকটাই নিরাপদ। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। দুটি হাত নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেবে সে এমনটাই চিকিৎসকরা প্রত্যাশা করেন।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে বন্ধুদের সহায়তা নিয়ে জান্নাতের চিকিৎসার জন্য সহায়তা করে আসছেন। চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের জন্য তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। শিশুটিকে সহায়তা করতে হৃদয়বান ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে শিশুটির মা নাদিরা বেগম তাকে কোলে নিয়ে আত্মহত্যা করতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল সড়কের শ্রীপুর স্টেশনের উত্তর পাশে কাটাপুল এলাকায় দ্রুত গতির ৪৯ আপ বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মা ট্রেনে কাটা পরে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় কোলে থাকা শিশু জাকিয়া জান্নাত।

গাজীপুর কথা
গাজীপুর কথা