ঢাকা,  সোমবার  ২২ জুলাই ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

অর্শ রোগ সারায় কনকচূড়া

প্রকাশিত: ১৭:০৩, ৭ জুলাই ২০২৪

অর্শ রোগ সারায় কনকচূড়া

অর্শ রোগ সারায় কনকচূড়া

এই ফুলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি নাম নিয়ে। অনেকেই ফুলটিকে চেনেন রাধাচূড়া নামে। আদতে রাধাচূড়া গুল্ম শ্রেণির দুর্বল কাণ্ডের উদ্ভিদ। তা ছাড়া রাধাচূড়া ফুলের রকমফেরও রয়েছে। প্রস্টম্ফুটনকালও দীর্ঘ। কিন্তু কনকচূড়া ফুলের একটিই রং। ফুলগুলো উজ্জ্বল সোনালি বা কমলা রঙের কিন্তু দূর থেকে হলুদ দেখায়, ফোটে নির্দিষ্ট সময়ে। বেশিদিন থাকে না।

কনকচূড়া আমাদের দেশি বৃক্ষ নয়। নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা দৈনিক অবজারভার পত্রিকায় এই ফুলের নাম প্রস্তাব করেছিলেন কনকচূড়া। ধীরে ধীরে কনকচূড়া নামটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং বাংলা নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। কনকচূড়ার আকৃতি বিরাট। এর বৈজ্ঞানিক নাম peltophorum pterocarpum। এটি লেগুমিনোসি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত উদ্ভিদ।

কনকচূড়া গাছ প্রায় ২০ মিটার উঁচু হয়। এরা শাখায়িত পত্রমোচী, বড় গাছ। পাতা কালচে সবুজ ও রুক্ষ। প্রধান কাণ্ড খাড়া, ধূসর বর্ণ ও মসৃণ। পাতা দ্বি-পক্ষল, যৌগিক। শাখার আগায় দীর্ঘ মঞ্জরিতে হলুদ ফুল হয়। গ্রীষ্মের শুরুর ফুল খুবই সুন্দর। শুধু বর্ণে নয়; ফুলের মৃদু সুগন্ধেও এ গাছ অনন্য এবং এ সুগন্ধ দূরবাহী হওয়ায় গাছের শাখায় শাখায় মৌমাছি ভিড় করে। এদের ফল তামাটে। Peltophorum অর্থ ঢালবাহী, ঢালের মতো ফলের আকৃতির জন্য এই নামকরণ।

ফুলের পর গুচ্ছ গুচ্ছ ফলে গাছ ভরে উঠে। বীজ ১-৩টি। বসন্তে মুকুলিত হওয়ার আগেই এদের কচি পাতার সবুজে গাছ সম্পূর্ণ ভরে যায়। পত্রাক্ষ রোমশ এবং পত্রিকার ফুল গাঢ় হলুদ, মৃদু সুগন্ধি এবং শাখায়িত মঞ্জরি ঊর্ধ্বমুখী। গ্রীষ্মের শুরু প্রস্ফুটনের কাল। কনকচূড়ার ফল শিমের মতো, কৃষ্ণচূড়ার ফলের মতো বিশালাকৃতির নয়। দুই থেকে ছয় সেন্টিমিটার লম্বা হয় ও রং তামাটে। ফুলের মতো ফলও প্রচুর হয় বীজ থেকে সহজেই চারা জন্মে। ছায়াতরু হিসাবেও কনকচূড়া সমাদরযোগ্য।

কনকচূড়া কৃষ্ণচূড়ার চেয়ে লম্বা ও শক্তপোক্ত গাছ, ঝড়–বাতাসে ছোট ছোট ডালপালা ভাঙলেও বড় ডালের ক্ষতি হয় না, কৃষ্ণচূড়ার মতো আস্ত গাছটাই উপড়ে পড়ে না। সারা বর্ষাকালে কয়েক বার বিক্ষিপ্তভাবে ফুল ফোটে। কনকচূড়া বাংলাদেশসহ শ্রীলঙ্কা, আন্দামান, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়ায় জন্মে।

কনকচূড়ার ভেষজগুণ: 

১. কনকচূড়ার মূলসহ পাতা দুধের সাথে মিশিয়ে ভালোভাবে সিদ্ধ করুন। এই ক্বাথ সকাল বিকেল সেবন করলে অর্শ রোগ ভালো হয়।

২. কনকচূড়ার পাতা ভালোভাবে সিদ্ধ করে সকাল-বিকেল সেবন করলে পুরোনো আমাশয়ে উপকার পাওয়া যায়।

৩. মাড়িতে ক্ষত দেখা দিলে কনকচূড়ার মূল সিদ্ধ করে, এই পানি দিয়ে কুলকুচি করলে মাড়ির ক্ষত ভালো হয়।

৪. কনকচূড়ার মূল সিদ্ধ করে সকাল বিকেল সেবন করলে রক্তপিত্ত ভালো হয়।