ব্রেকিং:
"গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ।" "বিশিষ্ট সাংবাদিক, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের শোক।"
  • বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৯

  • || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩

গাজীপুর কথা

মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকার

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২২  

মুজিবনগর সরকার গঠন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। একে কেউ বলেন প্রবাসী সরকার, কেউ বলেন অস্থায়ী সরকার, আবার কেউবা বলেন বিপ্লবী সরকার। প্রকৃতপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম সরকার। বাংলার শোষিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত জনতার মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সমর্থনের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন ছিল মুজিবনগর সরকারের স্মরণীয় সাফল্য। স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় মরণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বাংলার সূর্যসন্তানেরা।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলেও শপথ গ্রহণ করে ১৭ এপ্রিল, বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে। এ সরকারের প্রধান (রাষ্ট্রপতি) হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারই নামানুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ হয় মুজিবনগর এবং অস্থায়ী সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত মুজিবনগর ছিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারের রাজধানী। দেশি-বিদেশি শতাধিক সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত সময়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। মঞ্চে থাকা চেয়ারগুলোর মধ্যে একটি খালি রাখা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য। সেখানে Declaration of Independence (স্বাধীনতার মূল ঘোষণা আদেশ) পাঠ করেন গণপরিষদের স্পিকার ইউসুফ আলী। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘... এবং যেহেতু সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়াছে সেই ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমাদের সমন্বয়ে গণপরিষদ গঠন করিয়া পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য মনে করি, সেইহেতু আমরা বাংলাদেশকে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করিতেছি এবং উহার দ্বারা পূর্বাহ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করিতেছি।’
প্রথমে কুরআন তিলাওয়াত হয়। তারপর বাংলাদেশের মানচিত্রশোভিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলো। স্থানীয় চার তরুণ পরিবেশন করেন জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’
মুজিবনগর সরকার ছিল জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সরকার। মুক্তিযুদ্ধের ওপর এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ে বাংলার যে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, তার ঠিক ২১৪ বছর পর অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আরেক আম্রকাননে বাংলার সেই অস্তমিত সূর্য আবারও উদিত হয়।

গাজীপুর কথা
গাজীপুর কথা