ঢাকা,  সোমবার  ২২ জুলাই ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

সিনেমার প্রচারণায় শিল্পীদের অনীহা: যা বলছেন নির্মাতারা

প্রকাশিত: ২০:৪৬, ৯ জুলাই ২০২৪

সিনেমার প্রচারণায় শিল্পীদের অনীহা: যা বলছেন নির্মাতারা

সিনেমার প্রচারণায় শিল্পীদের অনীহা: যা বলছেন নির্মাতারা

গেল কয়েকবছর ধরে দুই ঈদে মুক্তি পাচ্ছে একাধিক বাংলা সিনেমা। মুক্তির আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারণায় নামেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাঝে ব্যতিক্রমও দেখা যায়। সিনেমা মনের মতো না হওয়ায় প্রচারণা থেকে দূরে থাকেন কেউ কেউ। হতাশায় মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতারা। যা নির্মাতা ও শিল্পীর সম্পর্কে ধরায় চিড়। সিনেমার প্রচারণা নিয়ে শিল্পীদের অনীহা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছেন দেশের তিন চলচ্চিত্র নির্মাতা।  

‘দুই নয়নের আলো’ – খ্যাত নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। তিনি মনে করেন নির্মাতা ও শিল্পী উভয়ের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে প্রচারণায় থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শিল্পীদের সাঙ্গে প্রযোজনা সংস্থার কীভাবে চুক্তি হয় তা বিবেচ্য বিষয়। শিল্পীরা সিনেমার কাজ শেষ করে যদি মনে করে সিনেমা মন মতো হয়নি তখন প্রচারণায় অনীহা প্রকাশ করে। এটি পেশাদার মনোভাব নয়। চুক্তি করলে শেষ পর্যন্ত থাকা উচিত। শিল্পীদের দায় আছে। আবার পরিচালক–প্রযোজকদেরও দায় আছে। সিনেমা পছন্দ না হলে আগেই সরে যাওয়া উচিত। কমিটমেন্টের জায়গা থেকে সচেতন থাকা জরুরী। প্রোডাকশন হাউজেরও শিল্পীদের প্রচারণায় থাকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশিষ্ট নির্মাতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব মনে করেন প্রকৃত শিল্পী দূরে সরে থাকেন না। তিনি বলেন, যে সিনেমায় অভিনয় করলো, সিনেমাটি তার নিজের। তিনি প্রচারণা না করলে বিষয়টি ভালো দেখায় না। যারা আন্তরিক তারা দূরে থাকেন না। শিল্পীদের কথা ও কাজে মিল থাকা দরকার। বৈষয়িক স্বার্থপর শিল্পীর প্রয়োজন নেই। এমন শিল্পীকে বয়কট করা উচিত। সাধারণত যারা সিনেমার সাথে জড়িত নন তারাও প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন। একটি সিনেমার প্রচারণায় যদি ২-৪ জন দর্শকও আসে সেটি শিল্পীর লাভ। প্রচারণায় থাকা শিল্পীর দায়।

গুণী নির্মাতা ও প্রযোজক মনতাজুর রহমান আকবর ভিন্ন মত দিলেন। তিনি বলেন, এখনকার সিনেমার প্রচারণায় প্রায় সবাই যায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিল্পীরা যাচ্ছে। সিনেমাহলে ঘুরছে। সিনেমার প্রচার শিল্পীরাই করছে। শাকিব খানের মতো তারকা সিনেমার প্রচারণা করছে। অতীতের মতো পরিস্থিতি এখন নেই। আগে পরিচালক – প্রযোজকদের গুরুত্ব ছিলো বেশি। আমরাই সিনেমার প্রচারণায় থাকতাম। এখন পরিচালকদের চেয়ে শিল্পীদের গুরুত্ব বেশি। সিনেমা ব্যবসাসফল হলে নায়ক – নায়িকার লাভ। একটি সিনেমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাশে থাকা তার দায়িত্ব। ইদানিং যে ধারা শুরু হয়েছে, তাতে আগামীতে প্রচারণার বিষয়টি হয়তোবা চুক্তিতে থাকতে হবে। 

সবশেষে বলা যায়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সিনেমার প্রচারণার বিকল্প নেই। সিনেমা সংশ্লিষ্টদের বের করতে হবে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর নিত্য নতুন কৌশল। প্রয়োজনে শিল্পীদের সাথে চুক্তির সময়ই বলে দিতে হবে মুক্তির পর তাদের করণীয় সম্বন্ধে। এতে করে পারস্পরিক বোঝাপড়াও থাকবে অটুট।