শুক্রবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩,   আশ্বিন ১৪ ১৪৩০,  ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

দুঃখ ভুলে রঙিন বিদায়

প্রকাশিত: ২৩:৪৪, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

দুঃখ ভুলে রঙিন বিদায়

ছবি: সংগৃহীত

চারদিকে রং বেরঙের সাজসজ্জা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শিক্ষার্থীদের জটলা। কেউ ক্যামেরার সামনে পোজ দিচ্ছেন, কেউবা ব্যস্ত সেলফিতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। শিক্ষার্থীরাও সেজেছেন নিজের মতো করে। 

ঘড়ির কাঁটায় সময় যখন সকাল সাড়ে ১০টা। তখনই নাচ-গান, আনন্দ-উল্লাস আর রং মাখামাখির মাধ্যমে জমে উঠে ক্যাম্পাসের জয় বাংলা চত্বর। যেন সমস্ত ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে রঙের ছোঁয়া। কংক্রিটের ঢালাই করা রাস্তাগুলোও রঙে রঙিন আবরণ ধারণ করেছে।

বলছিলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইআর) চতুর্থ ব্যাচের বিদায়ী আয়োজনের কথা। 

মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কেক কেটে ‘র‌্যাগ ডে’র উদ্বোধন করেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. গোলাম মহিউদ্দিন। পরে ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। 

 

নাচ-গান, আনন্দ-উল্লাস আর রং মাখামাখির মাধ্যমে জমে উঠে ক্যাম্পাসের জয় বাংলা চত্বর।

নাচ-গান, আনন্দ-উল্লাস আর রং মাখামাখির মাধ্যমে জমে উঠে ক্যাম্পাসের জয় বাংলা চত্বর।

দীর্ঘ সময় বিভাগটিতে পার করে শেষ মুহূর্তে এসে আবেগে ভেঙে পড়েন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, ঘোরাঘুরি, ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন নিয়ে ব্যস্ততা। কখন যে সময় চলে যায় কেউ টেরই পেলেন না। পাঁচ বছর পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেজে ওঠে বিদায়ের ঘণ্টা। সময়ের ভেলায় ভেসে যখন শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি রেখায় দাঁড়ালেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের জমা হওয়া বর্ণাঢ্য ও স্মৃতিময় ঘটনা যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

৪র্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী রবিউল হোসাইন গোথি বলেন, ক্যাম্পাসে আড্ডা, ঘোরাঘুরি, ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে পার হয়েছে জীবনের সব থেকে সেরা দিনগুলো। বিদায়ের ঘণ্টা বেজে উঠেছে আমাদের। সবকিছুকে ভীষণ মিস করব। দেখতে দেখতে কখন এতো বছর কেটে গেলো বুঝতেই পারলাম না। মনে হচ্ছে এইত সেদিন ইন্সটিটিউটে নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে এসেছিলাম। ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী হিসেবে সারাজীবন গর্ববোধ করব। এই ইন্সটিটিউট আমাকে পূর্ণতা দিয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী তাহসিন চৌধুরি বলেন, সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যা শিখেছি তা কাজে লাগাতে হবে। বিদায় নিচ্ছি ঠিকই তবে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হয়ে থাকবে।

 

স্টেজ মাতাতে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড ‘সরলা’।

স্টেজ মাতাতে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড ‘সরলা’।

ইন্সটিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ জোনায়েদ বলেন, আজ প্রিয় এই আঙিনা থেকে বিদায় ৪র্থ ব্যাচের সিনিয়রদের বিদায় জানিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। আমরা আশা করছি, সুন্দর এক আয়োজনের মধ্য দিয়েই এটা করতে পেরেছি। আমরা তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করছি। সেই সঙ্গে অতীতের ন্যায় সামনেও তাদের পাশে চাই। 

বিকেলে সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় গান-নাচ। এছাড়া স্টেজ মাতাতে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড ‘সরলা’। সব শেষে ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আড্ডা ও স্মৃতিচারণ করেন বিদায়ী শিক্ষার্থীরা। যেখানে সবাই একই সুরে গেয়েছেন পুরনো দিনের গান। আর গানে গানে হারিয়ে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথমদিকের দিনগুলোতে। এছাড়া সিনিয়রদের সঙ্গে শেষ সময়ে একসঙ্গে উপভোগ করেছেন জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও। 

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, কোভিডজনিত কারণে সেশনজটের জন্য সব ব্যাচ সময়মতো বের হতে পারে না। তবুও এই উৎসবে তারা নেতিবাচক সব স্মৃতি ভুলে বিভাগের সবার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়। শিক্ষাজীবন শেষে তাদের এখন কর্মজীবনে প্রবেশের সময়। সুন্দর আগামীর জন্য তাই শুভ কামনা রইল।