• রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৪ ১৪২৮

  • || ১২ সফর ১৪৪৩

রেলে পণ্য আমদানি বেড়েছে বেনাপোলে

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২১  

বেনাপোল-পেট্রাপোল রুটে ভারত থেকে স্থলপথের সাথে পাল্লা দিয়ে রেলে পণ্য আমদানি বেড়েছে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে রেলপথে আমদানি হয়েছে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৯ মেট্রিক টন পণ্য। এসময় রেল ভাড়া বাবদ সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩১ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩০ টাকা।

২০১৯-২০ অর্থবছরে এ পথে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার ৭৩ দশমিক ৯ মেট্রিক টন। যা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৮ কোটি ৮৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

আমদানি ও রাজস্ব আহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে স্থলপথের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রেলপথেও পণ্য আমদানি হচ্ছে। তবে বন্দরের রেল ইয়ার্ড না থাকায় পণ্য রাখতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বন্দরে দুটি রেল ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। চলছে বেনাপোল থেকে পেট্রাপোল পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইনের সম্প্রসারণ কাজ। এসব কাজ শেষ হলে এপথে বাণিজ্য আরও বাড়বে। 

আগে রেলপথে পাথর ও জিপসাম জাতীয় পণ্য আমদানি হলেও বর্তমানে গার্মেন্টস, কেমিকেল ও খাদ্যদ্রব্যসহ সব ধরনের পণ্য আসছে। সর্বশেষ গত ২৪ জুলাই ১০টি কনটেইনারে দুইশ’ মেট্রিক টন তরল মেডিকেল অক্সিজেন নিয়ে আসে ভারতীয় রেলওয়ের বিশেষ ট্রেন ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘বেনাপোল-পেট্রোপোল বন্দরে স্থলপথে ব্যবসার ক্ষেত্রে ভারতের পেট্রাপোল কালিতলা ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেটের কাছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছিল। প্রায় সময় সিরিয়ালের নামে ট্রাকপ্রতি তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জোর করে চাঁদা আদায় করা হতো।’

তিনি বলেন, গত বছরের মার্চ মাসে ওই সিন্ডিকেটের অত্যাচার আরও বেড়ে যায়। এতে দেশের বাজারে বাড়তে থাকে আমদানি খরচ। দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে গত বছরের ৪ জুন থেকে রেলে সব ধরনের পণ্য আমদানি বাণিজ্যের অনুমতি দেয় সরকার। তাতে খরচ কম আর পণ্য পরিবহন নিরাপদ হওয়ায় দিন দিন ব্যবসায়ীরা রেলপথের দিকে ঝুঁকে পড়েন। 

আগে মাসে চার থেকে পাঁচটি ওয়াগানে পণ্য আমদানি হলেও বর্তমানে প্রতিদিন কার্গো রেল, সাইডোর কার্গো রেল এবং পার্সেল ভ্যানে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী ও সরকার দুই পক্ষই লাভবান হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভারতীয় ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেট জিম্মি করে রেখেছিল। এখন ব্যবসায়ীরা অনেকটা সিন্ডিকেট মুক্ত। বর্তমানে রেলপথে সব ধরনের পণ্য আমদানি সচল রয়েছে। এতে গত বছরের তুলনায় এ বছর আমদানি বাড়ার পাশাপাশি রেলখাতে সরকারের চার গুণ রাজস্ব বেশি আদায় হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো: আজিজুর রহমান বলেন, কন্টেইনারের মাধ্যমে আমদানি বাণিজ্য শুরু হওয়ায় বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এতে সময় ও খরচ যেমন কমেছে তেমনি নিরাপত্তাও বেড়েছে। ভারত থেকে স্থলপথের পাশাপাশি রেলযোগে মালামাল এলে দেশের রেলখাতও উন্নয়ন হবে।

গাজীপুর কথা
গাজীপুর কথা