ঢাকা,  সোমবার  ২২ জুলাই ২০২৪

Gazipur Kotha | গাজীপুর কথা

ঈদের দিন আহত হওয়া ৮৬ শতাংশই ‘মৌসুমি কসাই’

প্রকাশিত: ১৮:১৯, ১৭ জুন ২০২৪

ঈদের দিন আহত হওয়া ৮৬ শতাংশই ‘মৌসুমি কসাই’

.

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় কোরবানির গরু জবাইয়ের পর মাংস কাটাকাটি করছিলেন আসসান হাবিব। এমন সময় দায়ের কোপে তার পায়ের এক আঙুল কেটে পড়ে যায়। পরক্ষণেই তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আহত ব্যক্তি ছিলেন ‘একজন মৌসুমি কসাই’।

ঈদে পশু কোরবানির জন্য রাজধানীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৌসুমি কসাইদের আগমন ঘটে। দক্ষ একজন কসাই নিজের কাজের সহযোগিতার জন্য অদক্ষ ‘মৌসুমি কসাইদের সঙ্গে আনেন। বাড়তি টাকার আশায় অনেকেই দুই থেকে তিনদিনের জন্য ঢাকায় আসেন। তবে মৌসুমি কসাইরা পশু কোরবানির সঙ্গে নিজেদেরও বিপত্তি ডেকে আনেন। পূর্বে অভিজ্ঞতা না থাকায় পশু কাটার সময় নিজেই আহত হচ্ছেন।

পশু কোরবানির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সোমবার সকাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বেড়েছে রোগীদের আনাগোনা। চিকিৎসকরা বলছেন, নতুন এসব রোগীদের ৮৬ শতাংশই মৌসুমি কসাই।

এদিন ঢামেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে অন্তত ৬০ জন নতুন রোগী এসেছেন। তাদের কারও কেটেছে হাত, কারও পা। কারও আবার গরুর আঘাতে ভেঙেছে হাত-পা। এদের মধ্যে ৫২ জনই মৌসুমি কসাই।

জানা যায়, প্রতিবছর রাজধানীসহ সারা দেশে বিপুল সংখ্যক পশু কোরবানি দেওয়া হয়। মজুরি ভালো হওয়ায় পেশাদার কসাইয়ের পাশাপাশি এদিন মাংস প্রক্রিয়ার কাজ করেন নিম্ন আয়ের মানুষরা। তারাই মূলত মৌসুমি কসাই।

ঢামেকের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. অরিফ হোসেন জানান, নতুন রোগীদের মধ্যে ৮৬ শতাংশই মৌসুমি কসাই। সময় যত গড়াবে, এ ধরনের রোগীর সংখ্যা তত বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, আমার ধারণা, সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০ থেকে ২৫০ জন মৌসুমি কসাই গরু জবাইসহ কাটাকাটি করতে গিয়ে আহত হয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসবেন। কয়েকজনকে দেখলাম গরুর গুঁতা খেয়ে এসেছেন। হাত-পাও ভেঙেছে অনেকের।

সরেজমিন দেখা গেছে, জরুরি বিভাগের মধ্যে একের পর এক রোগী আসছেন। যাদের অধিকাংশই হাত-পা কাটা রোগী। কারও হাতের আঙুল কাটা পড়েছে। কারো আবার পা কেটে গেছে। জরুরি বিভাগের মধ্যে রোগীর চাপ এত বেশি যে, রোগীর স্বজনকে ভেতরে থাকতে দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। এসব রোগীদের কারো অস্ত্রোপচার করা লাগছে। কারো আবার হাত-পায়ের রক্ত পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

জরুরি বিভাগে আসা অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘একটু অসাবধানতা হলেই ক্ষতি হয়ে যায়। কারণ মাংস কাটার যন্ত্রগুলো ঈদের জন্য নতুন করে শান দেওয়া হয়। ফলে হাত পিছলে কিংবা একটু অসতর্কতাই হাত-পা কেটে যাচ্ছে। ভাগ্যে লেখা থাকলে হবেই।’