• সোমবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১১ ১৪২৮

  • || ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গাজীপুর কথা

৮ মাস পর চালু ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০২১  

করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ৮ মাস পর বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল রুটে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ যাত্রীবাহী ট্রেনটি বৃহষ্পতিবার (২ ডিসম্বর) থেকে পুনরায় চালু হল। তবে সেবার মান কমিয়ে দেয়ায় অসন্তোষ ঝরে পড়ে যাত্রীদের কণ্ঠে।

ট্রেনটি এদিন দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে নির্ধারিত ১৮৮ যাত্রী নিয়ে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনের উদ্দেশ্যে বেনাপোল থেকে ছেড়ে যায়। যাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রেল কর্মকর্তারা। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক তুষার কুমার বিশ্বাস, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ও বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

যশোর অঞ্চলের মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি উদ্বোধন করেন। সে সময় থেকেই ইন্দোনেশিয়ার তৈরী ৮৮৬ আসন বিশিষ্ট ট্রেনটি চলাচল করে আসছিল। ১২টি বগির মধ্যে কেবিনে ছিল ৪৮ আসন, এসি চেয়ার আসন ছিল ৭৮টি। বাকি ৭৬০টি নন এসি চেয়ার আসন ছিল।

কিন্তু বর্তমান যে ট্রেন দিয়ে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ পুনরায় চালু করা হয়েছে, তাতে যাত্রী সেবার মান সন্তোষজনক নয়। এখনকার ট্রেনটি ভারতের তৈরী এবং ট্রেনে কোন এসি বগি নেই। ৮টি বগিতে ৪৮টি কেবিন আসন আছে। বাকি ৭৪৫টি নন এসি চেয়ার আসন। ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে নন এসি চেয়ার প্রতি আসন ৪৮৫ টাকা ও কেবিন প্রতি আসন ১১১৬ টাকা। পুনরায় চালু হওয়া ট্রেনটিতে এসি আসন না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করছেন যশোরসহ বেনাপোলের যাত্রী সাধারণ। 

ট্রেনের যাত্রী হাবিব চৌধুরী জানান, ব্যবসায়ীক কাজে প্রতিমাসে ৪/৫ বার ঢাকা যেতে হয়। বেনাপোল এক্সপ্রেস চালু হওয়ার পর থেকে আমি ঢাকায় প্লেনে না গিয়ে ট্রেনে চলাচল শুরু করি। অনেকদিন পর আজ পুনঃরায় ট্রেনটি চালু হওয়ার পর ষ্টেশনে এসে ট্রেনটিতে এসি নেই শুনে অবাক হলাম। 

তিনি বলেন, বেনাপোলে নানা শ্রেণির মানুষ চাকুরি করার সুবাদে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে হয়। কাস্টমস ও বন্দরের অনেক কর্মকর্তা এসি ট্রেনে চলাচল করতো। এখন এসি ট্রেন না থাকলে আগের মতোই ভোগান্তি হবে বেনাপোল-ঢাকা চলাচলকারী যাত্রীদের। এখন আবার আমার মতো যাত্রীদের ঢাকায় যেতে হলে যশোর থেকে এসি ট্রেনে উঠতে হবে অথবা বিমানে যেতে হবে। এতে আমাদের খরচ বাড়ার সাথে সাথে নানা ভোগান্তির শিকার হবো।

বেনপোল ষ্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, করোনার ভাইরাসের কারণে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার পুনরায় চালু হয়েছে। আগে এ রুটে যে ট্রেনটি চলতো সেটা ইন্দোনেশিয়ার তৈরী। আর এখন যেটা চলছে সেটা ভারতের তৈরী। আগের ট্রেনে এসি আসন ছিল। এখন এসি কেবিন আছে কিন্তু এসি চেয়ার আসন নেই। ট্রেনটি পূর্বের ন্যায় সপ্তাহে ছয় দিন চলবে। ট্রেনটি বেনাপোল থেকে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে ঝিকরগাছা, যশোর, মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা, পোড়াদহ, ভেড়ামারা, ঈশ্বরদী হয়ে ঢাকা কমলাপুর স্টেশনে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে পৌঁছবে। ওখান থেকে রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে পরের দিন সকাল ৮টায় বেনাপোল পৌঁছবে। 

রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক তুষার কুমার জানান, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ রোধে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিন পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবারও চালু হলো। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে। 

গাজীপুর কথা
গাজীপুর কথা