• মঙ্গলবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১২ ১৪২৮

  • || ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গাজীপুর কথা

মালয়েশিয়ার বাজারে ‘সিরামিক পণ্য’ পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০২১  

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে মালয়েশিয়ায় সিরামিক পণ্য বিপণন শুরু করেছে ‘মুন্নু মালয়েশিয়া এসডিএন.বিএইচডি’। এ উপলক্ষে বুধবার (১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মাধ্যমে সিরামিক পণ্য বাজারজাত ইস্যুতে বিস্তর আলোচনা করেন মুন্নু মালয়েশিয়া এসডিএন.বিএইচডির সিইও ও ডিরেক্টর মাহবুব আলম এবং কে-লিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল এসডিএন বিএইচডিরের ডিরেক্টর ও যুগ্ম মহাসচিব বিএমসিসিআই দাতো' গুনাহলাম সুব্রামানিয়াম।
আলোচনা শেষে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্যের উদ্বোধন করেন হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- হাইকমিশনের কাউন্সিলর (শ্রম), মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও কাউন্সিলর (বাণিজ্যিক), মো. রাজিবুল আহসান।
আলোচনায় হাইকমিশনার বলেন, রফতানি বাজার হিসেবে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। মালয়েশিয়াতে রফতানি বাজার অধিকতর সম্প্রসারিত হলে আসিয়ানভুক্ত অন্যান্য দেশেও রফতানি দ্বার উন্মোচিত হবে বলে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়াতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কূটনীতি জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ হাইকমিশন নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পণ্য রফতানিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাঁধা দূরীকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ, মালয়েশিয়ার ডিউটি ফ্রি কোটা-ফ্রি (ডিএফ কিউএফ) লিস্টে বাংলাদেশকে অন্তর্ভূক্তকরণ, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মেলা ও ইভেন্টে অংশগ্রহণ। এছাড়া মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে নিয়মিত রোডশো ও ব্রান্ডিং-অনুষ্ঠান আয়োজন ইত্যাদি।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ মালয়েশিয়া। দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যেখানে মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশের মোট রফতানি ছিল ২৩২.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সেখানে রফতানি বাজার ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়ে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৭৭.২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুইদেশের বাণিজ্য ক্রমবর্ধমানভাবে প্রসারিত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমূহের মধ্যে ভারতের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হয়ে উঠছে বাংলাদেশ।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রফতানি হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ২৩২.৪২, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২১১,৫২, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ১৯১,০৫, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ১৪০.০৯, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ১৩৫.৬৪, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ১০০.১১।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মালয়েশিয়ার বাজারে সিরামিকের পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, হিমায়িত মাছ, কাঁকড়া, পাট ও পাটজাত পণ্য, মসলা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, আলু, টেবিলওয়্যার ও হালাল খাদ্যপণ্য রফতানি হচ্ছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ও কৃষিজাত পণ্য সবচাইতে বেশি রফতানি হয়েছে মালয়েশিয়ায়।
একইভাবে মালয়েশিয়া থেকে পণ্য আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৪০৬.৭০, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৯০৩.১০, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে, ২০৮৪.১০, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে, ১২৮৭.৫০, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে, ৯৫২,৩০, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১০১৭,৫০, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ১৪১০,৪০ শতাংশ মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করেছে বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, আমদানীজাত পণ্যগুলো হল- ভোজ্যতেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য (গ্যাসোলিন), ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, রাসায়নিক, ইস্পাত, রাবার, আসবাব ইত্যাদি।

গাজীপুর কথা
গাজীপুর কথা