ব্রেকিং:
করোনা আপডেট বাংলাদেশ ০৮/আগস্ট/২০২০: করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩২ জনের মৃত্যু এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৬৫, নতুন ২৬১১ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৫৫১১৩, নতুন ১০২০ জনসহ মোট সুস্থ ১৪৬৬০৪ জন, একদিনে ১১৭৩৭ টি সহ মোট নমুনা পরীক্ষা ১২৪৯৫৬০ টি।
  • রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭

  • || ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
আজ জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে সপ্তাহব্যাপী প্রদশর্নী শুরু আজ একাদশের ভর্তি শুরু হচ্ছে আজ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর: প্রধানমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব নারী সমাজের প্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি বঙ্গমাতার জন্মদিনে ১৩০০ নারীকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার মাহিন্দা রাজাপাকসেকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন আদিবাসী শব্দ ব্যবহার না করতে তথ্য বিবরণী জারী করেছে সরকার কালিয়াকৈরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল গাসিক মেয়রের নির্দেশে বন্যার্তদের ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন কাউন্সিলররা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিবসে কাপাসিয়ায় সেলাই মেশিন বিতরণ
৭৩

২৩ দিনেই ২০০ কোটি ডলার রেমিটেন্স

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২০  

মহামারীর মধ্যে রেমিটেন্সের গতিতে ছেদ তো পড়েইনি, বরং তা আরও বেড়েছে।
চলতি জুলাই মাসের ২৩ দিনেই প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

এই অঙ্ক অতীতের যে কোনো মাসের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো মাসেই এত বেশি রেমিটেন্স দেশে আসেনি।

এর আগে এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল গত জুন মাসে; ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

এত রেমিটেন্স আসার ভিন্ন দিকও দেখছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর।

তিনি  বলেন, সামনের মাসগুলোতে কী হবে, সেটাই চিন্তার বিষয়।

“কোরবানির পর অগাস্ট মাস থেকেই রেমিটেন্স কমে যাবে। এই মহামারীকালে পরিবার-পরিজনের প্রয়োজনে সর্বশেষ জমানো টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। অনেকে আবার দেশে ফিরে আসার চিন্তাভাবনা করছে; তাই যা কিছু আছে সব আগেই দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এ সব কারণেই রেমিটেন্স বাড়ছে।”

“বিদেশে অনেকেরই এখন কাজ নেই। অনেকেই দেশে চলে এসেছেন। নতুন করে কেউ কোনো দেশে যাচ্ছেন না। যারা বিভিন্ন দেশে আছেন তাদের একটি অংশ যদি দেশে চলে আসে, তাহলে ভবিষ্যতে রেমিটেন্স আসবে কোত্থেকে” প্রশ্ন রাখেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান মনসুর।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা ১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ বা রেমিটেন্স। দেশের জিডিপিতে এই রেমিটেন্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

এবার করোনাভাইরাস মহামারীতে মার্চ থেকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ওলটপালট হয়ে যাওয়ায় রেমিটেন্সও কমে গিয়েছিল। কিন্তু এপ্রিল থেকে রেমিটেন্সে ঊর্ধগতির ধারা চলছে।

রেমিটেন্সের গতি ধরে রাখতে গত অর্থ বছরে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল সরকার। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেও এই ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেশি রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। ১ অগাস্ট ঈদ উদযাপিত হবে। তার আগ পর্যন্ত অর্থাৎ জুলাই মাসের পুরোটা সময় ধরে রেমিটেন্সের এই উল্লম্ফন অব্যাহত থাকবে।

জুলাই মাসে মোট রেমিটেন্সের অঙ্ক ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে বলে আশা করছেন সিরাজুল ইসলাম।

রেমিটেন্সে ভর করে ঈদের আগেই রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন (তিন হাজার ৭০০ কোটি) ডলার ছুঁইছুঁই করছে। সোমবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার রেমিটেন্সের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের ১৬ দিনে (১ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই) ১৩৬ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ২৩ জুলাই শেষে (১ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই) সেই রেমিটেন্স ১৯৬ কোটি ১২ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

“মাসের আরও এক সপ্তাহ বাকি। ঈদের আগে এই এক সপ্তাহে কম করে হলেও আরও ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ডলার রেমিটেন্স আসবে। সে হিসাবেই বলছি, এই মাসে রেমিটেন্স ২ দশমিক ২৫ ডলার ছাড়িয়ে যাবে,” বলেন সিরাজুল ইসলাম।

গত বছরের জুলাই মাসের পুরো সময়ে ১৫৯ কোটি ৭৬ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট এক হাজার ৮২০ কোটি ৩০ লাখ (১৮.২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা।

এই অঙ্ক আগের ২০১৮- ১৯ অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট ১৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন রেমিটেন্স এসেছিল।

রেমিটেন্সের পাশপাশি বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি ও এআইআইবির ঋণ সহায়তাও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে বলে জানান আহসান মনসুর।

গত তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) এই দাতা সংস্থাগুলোর প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ-সহায়তা যোগ হয়েছে রিজার্ভে।

এক বছর আগে গত বছরের ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তার তিন সপ্তাহ আগে ৩ জুন এই রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে।

গাজীপুর কথা
অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর