ব্রেকিং:
করোনা আপডেট বাংলাদেশ ২০/১০/২০২০: করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৮ জনের মৃত্যু এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬৯৯, নতুন ১৩৮০ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩৯১৫৮৬ জন। নতুন ১৫৪২ জনসহ মোট সুস্থ ৩০৭৭৮১ জন। একদিনে ১৩৬১১ টি সহ মোট নমুনা পরীক্ষা ২১৯২৩২৫ টি।
  • বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৬ ১৪২৭

  • || ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সর্বশেষ:
পদ্মা সেতুতে বসলো ৩৩তম স্প্যান, ৫ কি.মি. দৃশ্যমান বাংলাদেশকে দারিদ্র মুক্ত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন তালিকাভুক্ত করলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মবার্ষিকীতে স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত বাংলা ব্যান্ড জগতের জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব আইয়ুব বাচ্চুর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ দেশের সবচেয়ে বড় সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন শিগগিরই কক্সবাজারের চেয়ে ১৮টি উন্নত সেবা ভাসানচরে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যানের ফিটিং সম্পন্ন বাংলাদেশ করোনার ৩ কোটি ভ্যাকসিন পাবে : স্বাস্থ্য সচিব বাংলাদেশ থেকে কৃষি শ্রমিক নেবে ইতালি গাজীপুরে পূজা উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন কাপাসিয়ায় অসহায় ও দুস্থ মহিলাদের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে গাজীপুরে ২৪ ঘন্টায় নতুন ১০ জন করোনায় আক্রান্ত গাজীপুরে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেয়ায় জেল জরিমানা কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিজয় কাপাসিয়ায় আলোচিত বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রদল নেতা আটক
৬০

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মানে অগ্রগতি

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২০  

প্রতিদিন বহির্বিভাগে শতশত রোগীর চিকিৎসা, চলছে ভর্তিকৃত রোগীর যথাযথ সেবা, সেই সাথে নিয়মিত চলছে গর্ভবতী নারীদের বিনামূল্যে ডেলিভারি ও অপারেশন। নিয়মিতই ২২ ধরনের ল্যাব পরীক্ষার সাথে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতার ফলস্বরূপ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে দ্বিতীয় হয়েছে, সেবা সূচকের মানে প্রথম। ডিরেক্টর জেনারেল হেলথ সার্ভিস থেকে সম্প্রতি হাসপাতালগুলোর র‌্যাংকিংয়ের ফলাফলে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

হাসপাতালটি ৫০ বেডের হলেও ৩১ বেডের জনবল দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। পূর্ণ জনবল পেলে আরো বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তৃনমুল স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৮৩ সালে নির্মানের পর শিল্পায়নের প্রসার ও শহরায়নের ফলশ্রুতিতে সেবা গ্রহীতার সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে ২০১২ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই বর্তমানে সেবার মান ও সার্বিক চিত্র আগের তুলনায় ব্যাপক পরিবর্তিত হয়েছে। হাসপাতালের প্রত্যেকটি রুম, ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সুসজ্জিত করা হয়েছে। হাসপাতালের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নতুন বেসিন স্থাপন করা হয়েছে। রোগীদের বসার জন্য সুসজ্জিত টাইলসের মাধ্যমে বসার স্থাপনা তৈরি করা হয়। এ ছাড়াও দেখা যায়, ক্যাম্পাসের ভেতরে বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ পালন উপলক্ষে ফলদ ও ঔষধি গাছের বাগান তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতালটির বহির্বিভাগে কিশোর-কিশোরীদের সুচিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য সুসজ্জিত এডোলেন্ট কর্নার স্থাপন করা হয়। শিশু বাচ্চাদের জন্য আইএমসিআই কর্নার স্থাপন করার মধ্য দিয়ে শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। করোনা রোগীদের আলাদা কর্নার খুলে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
 
পৌর এলাকার লোহাগাছ গ্রামের সত্তরোর্ধ আব্দুল লতিফ মিয়া কাটা পা নিয়ে গত সপ্তাহে ভর্তি হয়েছেন এ হাসপাতালে । তিনি বলেন , আমি ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পেয়েছি। হাসপাতালের পরিবেশ আগের চেয়ে এখন অনেক পরিচ্ছন্ন। কোনো নোংড়া ময়লা-আবর্জনা নেই।

উপজেলার রাজাবাড়ি এলাকার কফিল উদ্দিনের স্ত্রী জুয়েনা খাতুন (৩৫) বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে সিজারিয়ান ডেলিভারির মাধ্যমে একটি সুস্থ্য পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ সুচিকিৎসার মাধ্যমে সফলভাবে তার ডেলিভারি করা হয়েছে। এতে মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ্য আছেন।
 
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফাতেহ আকরাম দোলন জানান, হাসপাতালটিতে করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসকের সহায়তায় বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ পর্যন্ত করোনা নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৪৫০ জনের, এতে ৬২৫ জন পজিটিভ হয়েছেন। সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৬০০ জন। মারা গেছেন পাঁচজন। করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২৫ বেডের আইসোলেশন সেন্টারের মাধ্যমে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় ভূষণ দাস জানান, এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি আবারও অপারেশন থিয়েটার চালু করেছি। বাইরে থেকে অনুমতি এনে সিজার অপারেশন করা হচ্ছে। ডেলিভারি কার্যক্রম চলছে। এ ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ইতোমধ্যে দুই শতাধিক দরিদ্র মায়ের বিনামূল্যে ডেলিভারি হয়েছে। হাসপাতালের একটা মাত্র এক্স-রে মেশিন তা-ও আবার নষ্ট হয়ে ছিল ৷ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা নতুন ভাবে চালু হয়েছে। প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হাসপাতালে অত্যাধুনিক মেশিন আনা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সচারাচর আল্টাসনোগ্রাম সেবা খুব কমই পাওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সেবার জন্য আল্টাসনোগ্রাম শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে অ্যানেস্থিশিয়া চিকিৎসকের প্রয়োজন। এটা না থাকায় নিয়মিত অপারেশন করা যাচ্ছে না। হাসপাতালের সমস্যার সমাধান এবং জনবল বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনপত্র দেওয়া হয়েছে। যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করি। এ উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সবার সার্বিক সহযোগিতা চাই।

গাজীপুর কথা
গাজীপুর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর