ব্রেকিং:
করোনা আপডেট বাংলাদেশ ২৬/১১/২০২০: করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৭ জনের মৃত্যু এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫২৪, নতুন ২২৯২ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪৫৬৪৩৮ জন। নতুন ২২৭৪ জনসহ মোট সুস্থ ৩৭১৪৫৩ জন। একদিনে ১৭৫৩২টি সহ মোট নমুনা পরীক্ষা ২৭১৩২০২টি।
  • শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

সর্বশেষ:
সৌদি সহায়তায় ৮ বিভাগে ‘আইকনিক মসজিদ’ নির্মিত হবে: প্রধানমন্ত্রী বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের আর নেই, প্রধানমন্ত্রীর শোক ২৭ নভেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর জন্মদিন বছরে প্রতি উপজেলা থেকে এক হাজার কর্মী যাবে বিদেশ ২৭ নভেম্বর, শহীদ ডা. মিলন দিবস মা-বাবার পাশে চিরশায়িত ডিয়েগো ম্যারাডোনা
১৪৩

যে ছবির আপত্তিকর মুহূর্ত মনে রাখতে চান না মাধুরী

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২০  

ক্যারিয়ারের শুরুতেই সানি দেওল এবং জ্যাকি শ্রফের মতো সুপারস্টারের সঙ্গে কাজের সুযোগ। বক্স অফিসেও হিট। তা সত্ত্বেও মাধুরী দীক্ষিত নাকি এই ছবিটি মনেই রাখতে চান না। কোন সে ছবি? কেনই বা তা নিয়ে কথাবার্তায় বিশেষ উৎসাহী নন মাধুরী?
অনেকই জানেন, এক সময় বলিউডে রাজত্ব করেছেন মাধুরী দীক্ষিত। যে সময় নায়ককেন্দ্রিক ছবি হতো, সে সময় একার হাতে টেনে তুলেছেন বহু সাদামাটা ফিল্মকে। তবে স্টারডমের চূড়ায় পৌঁছানোর আগে কম স্ট্রাগল করতে হয়নি মাধুরীকে। সেই স্ট্রাগল পর্বের একটি ছবি নিয়ে নাকি এখনো আফসোস করেন তিনি। 

১৯৮৪ সালে বলিউডে ডেবিউ হলেও ক্যারিয়ারের গোড়ায় আর পাঁচটা বলি-হিরোইনের মতোই স্ট্রাগল করতে হয়েছে মাধুরীকে। হীরেন নাগের ছবি ‘অবোধ’তে তাকে প্রথম দেখা গিয়েছিল বড় পর্দায়। তাপস পালের বিপরীতে আনকোরা মাধুরীর উত্থান ঝড়ের গতিতে হয়নি। বরং ’৮৪’ এর সেই ফিল্মের পর বেশ কষ্ট করে বলিউডে নিজের জমি পোক্ত করতে হয়েছে মাধুরীকে।

বলিউডে অভিষেকের পর বেশ কয়েকটা ছবিতে কাজ করলেও বছর চারেক বড়সড় হিট দিতে পারেননি মাধুরী। সেই স্ট্রাগলিং পর্বে অবশ্য সুযোগ পেয়েছেন ‘দয়াবান’র মতো ছবি করার। ফিরোজ খানের সেই ফিল্মে সাহসী দৃশ্যে দেখা গিয়েছিল মাধুরী এবং বিনোদ খন্নাকে। সালটা ১৯৮৮। সে বছরের ২১ অক্টোবর রিলিজ করেছিল।

‘দয়াবান’র বোল্ড সিন এবং পাওয়ারফুল পারফরম্যান্সের জোরে বলিউডে চর্চায় থাকলেও মাধুরীর ক্যারিয়ারে স্টারডমের ছোঁয়া লাগেনি তখনো। ক্যারিয়ারের শুরুতেই সে সময় মাধুরী সুযোগ পেয়েছিলেন উমেশ মেহরার সঙ্গে একটি ছবি করার। লোভনীয় স্টারকাস্ট। রয়েছেন সে সময়কার তারকারা সানি দেওল এবং জ্যাকি শ্রফ। তবে নায়িকার ভূমিকায় নয়। তাতে রয়েছেন কিমি কাতকর। মাধুরী তাতেও রাজি হয়েছিলেন সেই ছবি করতে।

সানি-জ্যাকির সঙ্গে সে সময় কাজ করাটা বড় সুযোগ হিসেবেই দেখেছিলেন মাধুরী। ইন্ড্রাস্ট্রিতেও ভালো জমি করে নিতে পারবেন ভেবেই হয়তো তাতে রাজি হয়েছিলেন। তবে এই ছবিটিই আর কখনই মনে রাখতে চাননি মাধুরী।

উমেশ মেহরার সেই ছবিটি ছিল ‘বর্দী’। তবে শুটিং শেষ হলেও নানা ডামাডোলে তা রিলিজ হচ্ছিলো না। এক সময় তো প্রযোজকও বদল হল। সেই সময়ই মাধুরীর হাতে এসেছিল ‘তেজাব’। এন চন্দ্রার সেই ছবিই মাধুরীকে একধাক্কায় স্টারডমের তুঙ্গে তুলে দেয়। সালটা ১৯৮৮। সে বছরের নভেম্বরে ‘তেজাব’ রিলিজের পর মাধুরীর ‘এক, দো, তিন... ’ গানের তালে মেতেছিল ৮ থেকে ৮০। সেই ফিল্মের হিরো অনিল কাপুরের সঙ্গে তো একেবারে জুটি তৈরি হয়ে গিয়েছিল বলিউডে।

‘তেজাব’ রিলিজ করলেও উমেশ মেহরার ‘বর্দী’ তখনো পর্দায় দেখা যায়নি। এদিকে মাধুরীর তখন স্টারডম আকাশছোঁয়া। বাজারদরও তুমুল। সেই সাফল্যে গা ভাসাতেই বোধহয় ‘বর্দী’র প্রযোজক তড়িঘড়ি ছবি রিলিজে সিদ্ধান্ত নেন। ‘তেজাব’ রিলিজ মাস দুয়েক পরেই রিলিজ করে ‘বর্দী’। ১৯৮৯’র ৬ জানুয়ারি।

‘বর্দী’ রিলিজের পর দেখা গেল, মাধুরীর রোল এতটাই কাটছাঁট করা যে তাকে ক্যামিয়ো বলা ছাড়া উপায় নেই। কেন? সেন্সর বোর্ড নাকি সে সময় ওই ছবির দৈর্ঘ্য দেখে এতোদিন তা রিলিজে বাধা দিয়েছিল। ফলে রোলে কাটছাঁট!

সেন্সর বোর্ডের সিদ্ধান্তে ‘বর্দী’র যে দৃশ্যগুলো বাদ পড়েছিল, তাতে মাধুরীর বড়সড় অংশ ছিল এবং তাতেই কাঁচি পড়েছিল। ফলে পার্শ্বচরিত্র থেকে মাধুরীর রোল একেবারে ক্যামিয়োতে পরিণত হয়েছিল।

‘তেজাব’র সাফল্যর পর পরই ‘রাম লখন’ রিলিজ করে। সালটা ১৯৮৯। সে বছরের জানুয়ারিতে সুভাষ ঘাইয়ের এর মতো পরিচালকের ‘রাম লখন’ মাধুরীকে স্টারডমের এক নয়া উচ্চতা দেয়। এরপর বলিউডে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি মাধুরীকে। তবে ‘বর্দী’ নিয়ে সে সময় বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিলেন তিনি।

সুপারস্টার নায়িকা মাধুরীকে জ্যাকির সঙ্গে ‘বর্দী’তে বোল্ড সিনে দেখা গিয়েছিল। ওই ফিল্মে সুপারস্টার মাধুরী ছিলেন একেবারেই পিছনের সারিতে। মাধুরীর নামের জোয়ারে ছবি হিট করলেও তার ক্যামিয়ো দেখে ভক্তরাও বোধ হয় হতবাক হয়েছিলেন। অবাক হয়েছিলেন তার সাহসী দৃশ্যেও।

স্টারডমের তুঙ্গে ওঠা মাধুরী নিজের ক্যারিয়ারের এমন একটা সময়ে ‘বর্দী’র জন্য ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন, যে সময় তিনি ছবি বাছাবাছি করার মতো জায়গায় ছিলেন না। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই যে তার ভাগ্য বদলে যাবে, তা কে জানতো!

নয়া স্টারডমের পর মাধুরীর কাছে একাধিক দরজা খুলে গিয়েছিল। ছবি বাছাইয়ের সুযোগ ছিল। যেকোনো প্রজেক্টকে ফিরিয়ে দেয়ারও সাহস এসে গিয়েছিল। ছবি বাছাবাছির ক্ষেত্রেও তার কথাই শেষ কথা হয়ে গিয়েছিল। তবে কেরিয়ারের শুরুতে সেই সাহস বোধ হয় তিনি চাইলেও করতে পারতেন না। ফলে ‘বর্দী’ নিয়ে এখনো বোধহয় আফসোস যায়নি। ওই ছবিকে মনেও রাখতে চান না মাধুরী।

গাজীপুর কথা
বিনোদন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর