ব্রেকিং:
করোনা আপডেট বাংলাদেশ ২৭/০২/২০২১: করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ০৫ জনের মৃত্যু এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪০০, নতুন ৪০৭ জন সহ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৫৮৩১ জন। নতুন ৬০৯ জন সহ মোট সুস্থ ৪৯৬১০৭ জন। একদিনে ১২৩৪৮টি সহ মোট নমুনা পরীক্ষা ৪০৩০৬১৬টি।
  • শনিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭

  • || ১৬ রজব ১৪৪২

সর্বশেষ:
এ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী করোনার টিকা পেতে এ পর্যন্ত ৪১ লাখ নিবন্ধন জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিত হচ্ছে আজ চট্টগ্রামে পুলিশ সুপারের কার্যালয় উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রশংসা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশে বেভারেজ পণ্য উৎপাদন করবে ডেনমার্ক ও শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার কর্মী নেবে সিঙ্গাপুর, রোমানিয়া গাজীপুরের কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে আশার ঝলক বন্ডের বাজার রমরমা ॥ রেকর্ড পরিমাণ লেনদেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ঠেকাতে বলেছেন হাইকোর্ট ডুয়েটে ‘রিসার্চ প্রোপোজাল,পাবলিকেশন অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন’ কর্মশালা ভালুকায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আঞ্চলিক শাখা কমিটি গঠিত কাপাসিয়ায় ঘর পেল অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২ পরিবার

যুদ্ধাহত সুন্দরবন

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২০  

প্রতিবার একটা করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস) আসে আর আমি হতাশ চোখে সুন্দরবনের দিকে তাকিয়ে থাকি। তাকে বলি, পারবি ত ভাই? বাংলা মা কে যে রক্ষা করতে হবে! তুই ছাড়া মায়ের সন্তান কারোই এই যুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা নাই। সুন্দরবন খুব অসহায় ভঙ্গিতে একটা হাসি দেয়।
উত্তর দেয়, কিভাবে?
ঢাল নাই, তলোয়ার নাই, সৈনিক নাই, জীর্ণশীর্ণ কিছু প্রজা (বনে থাকা পশুপাখি) আর এই নুয়ে পড়া আমি! আর কত!
আমি বলি, পারতে যে হবে ভাই।
সুন্দরবন আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উত্তর দেয় ঠিক আছে, চেষ্টা করব।
আমি আশ্বস্ত হই, আমি জানি সে পারবে। আমার বিশ্বাস সে পারবে।
হটাৎ একটা বাঘ এসে বলল, ছিহ, লজ্জা করে না তোমাদের?
এতটুকু বিবেক নাই তোমাদের? তোমরা মানুষ?
এই মানুষকেই কি আল্লাহ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব বানিয়েছিলেন?
সারাবছর বন ধ্বংস করে, আমাদের বাস্তুচ্যুত করে এখন ভিক্ষা চাইতে লজ্জা করছে না?
তোমাদের কারণে একদিন আমাদের ভিক্ষা দেয়ার ক্ষমতাও থাকবে না, সেদিন তোমরা নিজেরাই ভিক্ষা করে খেও। অভিশাপ দিলাম আমি তোমাদের।

আমার জবাব দেবার কোনো ভাষা ছিল না, মাথা নিচু করে ফিরে আসছিলাম। মাঝপথে হাঁটা থামিয়ে সুন্দরবনের দিকে তাকালাম। সে আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে একটা মুচকি হাসি দিলো। কিন্তু তার চোখে আবারও সেই অসহায়ত্বের ছায়া।

আমি ফিরে এলাম, রাতে খুব বাজে একটা দুঃস্বপ্নে ঘুম টা ভেঙে গেল। সুন্দরবন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে, আমি দৌড়ে তার কাছে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসলাম। আমার হাত ধরে সে কাতরাতে কাতরাতে বলল, পারলাম নারে ভাই, আর সইলো না এই যুদ্ধাহত শরীরে। তোমাদের দেবালয়, জনপদ রক্ষার দায়িত্ব এখন তোমাদেরই নিতে হবে, আমি চললাম। সেই বাঘটা দৌড়ে এসে আমার গায়ে ঘৃণাভরে একদলা থুতু ছিটিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ করতে করতে চলে গেল। আমি উদ্ভ্রান্তের মত এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে লাগলাম, কোনো উপায়ে যদি সুন্দরবনকে বাঁচানো যায়। সেই থেকে আমি উদ্ভ্রান্তের মতে ছুটে চলছি কিন্তু সুন্দরবনের জন্য কিছুই করতে পারিনি।

যাইই হোক, আমফান ঘূর্ণিঝড়কালীন সময়েও হয়তো সুন্দরবন আমাদের রক্ষা করে যাবে, ঠিক নিধিরাম সর্দারের মত। কিন্তু কতদিন করবে তা আমরা জানি না। কারণ তার কোনো পরিচর্যা আমরা করি না, বরং বছরের পর বছর বন ধ্বংস করি, বাঘ মারি, চোরাচালান করি।
তাও সে প্রতিদানের আশায় না থেকে কেবল দিয়েই যাচ্ছে।
কতদিন দিবে?
প্রকৃতির বিচার বড় নিষ্ঠুর।
যেদিন সুন্দরবন প্রতিদান চেয়ে বসবে, সেদিন ১৮ কোটি মানব পুঁতে দিলেও প্রতিদান হবে না।

গাজীপুর কথা