ব্রেকিং:
করোনা আপডেট বাংলাদেশ ২৬/০৯/২০২০: করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৬ জনের মৃত্যু এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১২৯, নতুন ১১০৬ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৭৮৭৩ জন। নতুন ১৭৫৩ জনসহ মোট সুস্থ ২৬৮৭৭৭ জন। একদিনে ১০৭৬৫ টি সহ মোট নমুনা পরীক্ষা ১৮৯৮৭৭৫টি।
  • রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৭

  • || ০৯ সফর ১৪৪২

সর্বশেষ:
২৬ সেপ্টেম্বর, বাঙালীর জাতীয় জীবনে একটি কালো অধ্যায়, জারি করা হয় কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতদের ৫ লাখ টাকা করে সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পিএসসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ দেশব্যাপী রাস্তা নির্মাণে মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে ইউরোপে বাড়ছে রপ্তানি সম্ভাবনা গাজীপুরে ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১১ জন করোনা আক্রান্ত জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ স্মরণে ই-পোস্টার প্রকাশিত কালীগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় রোগীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর অভিযোগ জনগণকে ভালোবেসে তাদের সেবায় কাজ করতে হবে : চুমকি নাগরী ইউনিয়ন উপনির্বাচনে মনোনয়ন দাখিল করলেন আ’লীগের প্রার্থী গাজীপুরে অবস্থিত ডুয়েটে ভিসির রুটিন দায়িত্বে অধ্যাপক আসাদ দুর্গম চরাঞ্চলে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে বিদ্যুৎ
৯৬

মৃত্যুশয্যায় সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সেনাপ্রধানের প্রশ্ন,স্ত্রী’র উত্তর

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

মুসলিম বীর যোদ্ধারা একসময় গোটা বিশ্ব দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। তাদের তরবারির ঝলকানি দেখে কম্পিত হয়ে উঠত কাফিরদের অন্তরাত্মা। 

মুহূর্তেই শক্তিশালী অমুসলিম রাষ্ট্র পদানত হয়ে যেত তাদের কাছে। এমনই একজন বীর যোদ্ধা মহাবীর খালিদ বিন ওয়ালিদ। যিনি ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপ্রধান।

মৃত্যুশয্যায় সাহাবি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) দূর্বল কন্ঠে তার স্ত্রীকে বিছানায় পাশে বসতে বললেন। খুব প্রয়োজনীয় একটি প্রশ্নের উত্তর জানা যে বাকি রয়ে গেছে তার!

যার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ১০০ টিরও বেশি যুদ্ধে অংশ নিয়েছে এবং কোনোটাতেই পরাজয় বরণ করেনি। তার রণকৌশল আজো বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণের সময় পাঠ্য হিসাবে শিখানো হয়! তাঁর নামে মুসলিম দেশগুলোতে আজো অনেক ব্রিগেড, যুদ্ধবিমান ও নৌযানের নামকরণ করা হয়।

এই সেই খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) যাকে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) ‘সাইফুল্লাহ’ উপাধি দিয়েছিলেন, যার মানে আল্লাহর তরবারি। এই সেই খালিদ যিনি মুসলিম বাহিনীর সেনাপ্রধান হিসেবে তুখোড় বিজয়ী আর ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় তৎকালীন খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এর নির্দেশে বিনা বাক্য ব্যয়ে সেনাপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সাধারণ সৈনিক হিসেবে লড়াই করা শুরু করেন।

নেতার নেতৃত্ব মানতে হবে, এতো ইসলামে ভীষণ জোড় দিয়ে বলা। নেতার নির্দেশের প্রতি আনুগত্য একজন সত্যিকার বীরের মহত্ব।
স্ত্রীকে খালিদ (রা.) বললেন, ‘প্রিয়তমা স্ত্রী, আমি বেশিক্ষণ বাঁচবো বলে মনে হচ্ছে না। একটা আফসোস এই বিদায় বেলায় ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে, তুমি কি উত্তর দিতে পারো’? খালিদ বিন (রা.)-কে স্ত্রী বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে মহাবীর, কি প্রশ্ন আপনার মনে’? ৫৭ বছরের খালিদ বললেন, ‘তুমি আমার সারাটা শরীর পরীক্ষা করে দেখো, এমন কোনো স্থান কি আমার শরীরে আছে যেখানে শত্রুর তরবারীর আঘাত নেই’? দীর্ঘক্ষণ পরীক্ষা করে স্ত্রী উত্তর দিলেন, ‘না, আল্লাহর রাস্তায় আপনি এতো বেশি যুদ্ধ করেছেন যে শত্রুর আঘাত আপনার সারাটা শরীরেই আছে’। খালিদ বিন ওয়ালিদ(রা.) তখন দুঃখ নিয়ে বললেন, ‘আল্লাহর কসম, প্রতিটা জিহাদে আমার নিয়ত থাকতো যেনো আমি ময়দানে শত্রুর আঘাতে মারা যাই, তাতে যেনো শহিদের মর্যাদা পাই। কিন্তু আফসোস! দেখো আজ যুদ্ধের ময়দানে মৃত্যু না হয়ে আমার মৃত্যু হচ্ছে আমারই বিছানায়! আমায় কি আল্লাহ শহিদদের মাঝে রাখতে চান না’?

স্বামীর আফসোস দেখে স্ত্রী কিছুক্ষণ মৌন রইলেন। এরপর করলেন সেই বিখ্যাত উক্তি, ‘আপনার নাম স্বয়ং রাসূল (সা.) রেখেছিলেন ‘সাইফুল্লাহ’- এমন কোনো তরবারী কি দুনিয়ায় আছে যেটা আল্লাহর তরবারীর মোকাবিলা করতে পারে? তাইতো ময়দানে আপনার মৃত্যু হয়নি কারণ আল্লাহ তাঁর তরবারী মাটিতে লুটিয়ে যেতে দেননি’। ভীষণ খুশি হলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ(রা.), বুঝতে পারলেন আল্লাহর ইচ্ছা এবং কিছুক্ষণ পরে শান্তিতে বেহেস্তের রাস্তায় চলে গেলেন।

আমরা অনেকেই সম্রাট জুলিয়াস সিজারের গুনগান করি, আলেকজান্ডারের ঘটনা মন দিয়ে শুনি, নেপোলিয়ানকে শ্রেষ্ঠ বলি। অথচ নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে গবেষণা করলে সবাই একবাক্যে স্বীকার করবে যে জেনারেল খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বগুণ, বীরত্ব আর রণকৌশলের সামনে অন্য যেকোনো সেনানায়কই তুচ্ছ। খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) মূলত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা।

গাজীপুর কথা
ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর