ব্রেকিং:
করোনা আপডেট বাংলাদেশ ১৯/০১/২০২১: করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২০ জনের মৃত্যু এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৯৪২, নতুন ৭০২ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫২৯০৩১ জন। নতুন ৬৮২ জন সহ মোট সুস্থ ৪৭৩৮৫৫ জন। একদিনে ১৫০৯৭টি সহ মোট নমুনা পরীক্ষা ৩৪৮৫২৫৭টি।
  • বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৭ ১৪২৭

  • || ০৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সর্বশেষ:
দুর্নীতি, মাদক ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ভারত থেকে ২০ লাখ টিকা আসছে বুধবার এইচএসসির ফল প্রকাশে সংসদে বিল উত্থাপিত আরও ৯১ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পেল ৬৩ প্রতিষ্ঠান অভিনেতা মজিবুর রহমান দিলু মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৯০ শতাংশ সরকারি সেবা ডিজিটালাইজড করা হবে : প্রতিমন্ত্রী পলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বার্জার পেইন্টস টঙ্গীতে দুস্থ লোকদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন কালিয়াকৈরে বিভিন্ন জলাশয়ে দেখা মিলছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জন্ম নিল উঠপাখির ৪ ছানা
২২০

ভয়াবহ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২০  

বাংলাদেশ বড় ধরণের ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে দাঁড়িয়ে। গত চারশ’ বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্বাংশে দুটি ভূ-গাঠনিক প্ল্যাটে শক্তি সঞ্চয়ের ফলে এ আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
৮ থেকে ৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড হয়ে যেতে পারে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট শহর। কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের একদল গবেষক এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন নেচার জিও সায়েন্স জার্নালে।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক এই বিজ্ঞান সাময়িকিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ভূ-গাঠনিক প্ল্যাটে শক্তি সঞ্চয়ের ফলাফল হল ভূমিকম্প। ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা-এই তিনটি গতিশীল ফ্ল্যাটের সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশ ভয়ঙ্করভাবে ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ।

গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক হুয়ায়ূন আখতার বলেন, পূর্ব-পশ্চিমে আড়াইশ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে প্রচুর পরিমাণে শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। আমাদের মডেলে আমরা দেখেছি ৮.২ থেকে ৯ মাত্রা ভূমিকম্প হওয়ার মতো শক্তি এখানে রয়েছে।

ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী প্লেট ও সাব-প্লেট দিয়ে গঠিত। এ রকম দুটি প্লেটের মাঝখানে যে ফাঁক থাকে তাকে বলা হয় ফল্ট লাইন। প্লেটগুলো গতিশীল। দুটি চলন্ত প্লেটের ফল্ট লাইনে পরস্পর সংঘর্ষ হলে অথবা হঠাৎ ফল্ট লাইনে শূন্য অবস্থার সৃষ্টি হলে ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশ অবস্থান করছে ভারতীয়, ইউরেশীয় ও মিয়ানমারের টেকটনিক প্লেটের মধ্যে।

ভূমিকম্প নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডিজাস্টার ফোরামের তথ্য মতে, গত ১০ বছরে দেশে ৮৫ বার ভূমিকম্প হয়েছে। এসময় নিহত হয়েছেন ১৫ জন। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ৬ জন এবং ২০১৬ সালে ৭ জন। এক্ষেত্রে শহরাঞ্চলে ভবন নির্মাণ বিধি না মানায় এ ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

এছাড়া ঢাকা সিটি করপোরেশনের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে খোদ ঢাকায় তিন লাখ ২৬ হাজার ভবনের মধ্যে ৭২ হাজার ভবনই তাৎক্ষণিক ধসে পড়বে।

বুয়েটের গবেষকদের ভূমিকম্প ঝুঁকির মানচিত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৪৩ শতাংশ এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে (জোন-১), ৪১ শতাংশ এলাকা মধ্যম (জোন-২) ও ১৬ শতাংশ এলাকা নিম্ন ঝুঁকিতে (জোন-৩) রয়েছে।

জোন-১-এ রয়েছে- পঞ্চগড়, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সম্পূর্ণ অংশ এবং ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের অংশবিশেষ। রাজশাহী, নাটোর, মাগুরা, মেহেরপুর, কুমিল্লা, ফেনী ও ঢাকা রয়েছে জোন-২-এর অধীনে। জোন-৩-এর মধ্যে রয়েছে বরিশাল, পটুয়াখালী এবং সব দ্বীপ ও চর। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে ভূমিকম্প হলে এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। এমনকি ভারতে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর বাংলাদেশেও কিছুদিন পর ভূমিকম্প হয়েছে।

নেচার জিও সায়েন্স জার্নালে বলা হয়, প্রায় ১৬ কোটির বেশি মানুষের এ দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এবং তা বাড়ছে দ্রুততার সঙ্গে। দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী অববাহিকা এবং তা সমুদ্র উচ্চতার কাছাকাছি। এর ফলে বাংলাদেশ সুনামি হুমকিতে রয়েছে। ভূমিকম্প হলে নদীগুলোর তীর লাফিয়ে লাফিয়ে গতিপথের পরিবর্তন ঘটাবে। বড় বড় ব্রিজ ও বহুতল বিশিষ্ট ভবনগুলো ধসে পড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, দেশের বাইরে কাছাকাছি ও দেশের ভেতরে ভূমিকম্পের উৎস থাকায় যে কোনো সময় বাংলাদেশে ভূমিকম্প হতে পারে। আমাদের ঢাকা একটি অপরিকল্পিত ও জনবহুল নগরী। বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ঢাকার অবস্থান ভূমিকম্পের উৎস থেকে ৫০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে হলে ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক হতে পারে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, পাকা বিল্ডিং যত হবে, এবং সেটার যদি গুণগত মান ঠিক না হয় তাহলে মানুষ হতাহত অনেক বেশি হববে। একইসঙ্গে রিপোর্ট বলছে, আমরা ৯০ শতাংশ দুর্বল মাটিতে বিল্ডিং তৈরি করি।

তাই এখনই ভবন নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণে নিয়ম মানার নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। সেই সঙ্গে জনসাধারণের মধ্যে ভূমিকম্প নিয়ে আতংকিত না হয়ে, সচেতনতা গড়ে তোলার পরামর্শও দেন তারা ।

গাজীপুর কথা
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর