ব্রেকিং:
দেশে ২৪তম দিনে ১ লাখ ৯৮৩ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এরমধ্যে পুরুষ ৬১ হাজার ৩৫৪ জন ও নারী ৩৯ হাজার ৬২৯ জন। এ পর্যন্ত ৩৬ লাখ ৮২ হাজার ১৫২ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৩ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ জন ও নারী ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৭২৯ জন। ভ্যাকসিন নিতে নিবন্ধন করেছেন ৪৯ লাখ দুই হাজার ৯৪৮ জন। করোনা আপডেট বাংলাদেশ ০৬/০৩/২০২১: করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১০ জনের মৃত্যু এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪৫১, নতুন ৫৪০ জন সহ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৭২৪ জন। নতুন ৮২২ জন সহ মোট সুস্থ ৫ লাখ ১ হাজার ৯৬৬ জন। একদিনে ১৩ হাজার ৮২টি সহ মোট নমুনা পরীক্ষা ৪১ লাখ ৩১ হাজার ১১৩টি।
  • রোববার   ০৭ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ২৩ ১৪২৭

  • || ২৩ রজব ১৪৪২

সর্বশেষ:
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কমনওয়েলথের অনুপ্রেরণাদায়ী ৩ নারী নেতার একজন শেখ হাসিনা ইউনেস্কোতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন বাংলাদেশের অসাধারণ সাফল্যের প্রশংসা করলেন ইতালির রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশকে এক কোটি ৯ লাখ ডোজ টিকা দেবে জাতিসংঘ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাল রেলের ৮ ব্রডগেজ ইঞ্জিন মেট্রোরেলের জন্য রেলকোচের প্রথম চালান পাঠিয়েছে জাপান ঢাকা-জলপাইগুড়ি ট্রেন চালু হচ্ছে ২৬ মার্চ করোনা টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৪৫ লক্ষাধিক মানুষ

ভাস্কর্য ও শিল্পকর্মের প্রেক্ষাপট এবং ইসলামের দৃষ্টিতে ভাস্কর্য

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২০  

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের সঙ্গে মূর্তি উপাসনার কোনো সম্পর্ক নেই। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জাতীয় হিরোদের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাদের স্মরণীয় করে রাখার জন্য, পূজা করার জন্য নয়।

১. সাহাবীদের সময়কাল থেকে কোনো ভূখণ্ডে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ভাস্কর্য বা মূর্তি ভাঙ্গার ঘটনা ঘটেনি। গুটিকয়েক বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পরবর্তীতেও এ ধারা অব্যাহত ছিল।

২. ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে বিশ্বের ১৮ জন আইন প্রণেতার ভাস্কর্য স্থাপন করা হয় যার একটি ছিল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর। সে ভাস্কর্যের এক হাতে ছিল কোরআন, অন্য হাতে তরবারি। আজহারিসহ অনেক মাওলানা সাহেব গর্বের সঙ্গে এটি উল্লেখ করেন।

৩. ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের কোর্টে রাসুল (সাঃ) এর ভাস্কর্য ছিল। পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মিশরের রাষ্ট্রদূত ভাস্কর্যের মুখমণ্ডল সমান করে দেয়ার দাবি করে আপত্তি তুলেছিল।

৪. তৈমুর লংয়ের ছেলে শাহরুখ মির্জার শাসনামলে লিখিত 'মেরাজ নামা'য় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ছবি আঁকা হয়েছিল, যা লাইব্রেরি অব ফ্রান্সে সংরক্ষিত আছে।

৫. ইরানে কাজার ডাইনাস্টির শাসনামলে পঞ্চ পাঞ্জতনের কাহিনী প্রকাশিত হয়েছিল চিত্রকর্মের মাধ্যমে।

৬. তুরস্কের ব্রিজম্যান আর্ট গ্যালারিতে ওসমানিয়া খেলাফতের সময়কার পেইন্টিং আছে যেখানে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ছবি আঁকা হয়েছে।

৭. পাকিস্তানে জিন্নাহর ভাস্কর্য রয়েছে বহু স্থানে। লাহোরে বেনজীর ভুট্টো ও লাজপত রায়ের ভাস্কর্য রয়েছে। ইরান, ইরাক, মরক্কো ও তুরস্কে শতাধিক ভাস্কর্য রয়েছে। মানুষের ভাস্কর্য আছে কুয়েত, কাতার ও দুবাইয়েও। সম্ভবত আফগানিস্তান ছাড়া সকল মুসলিম দেশেই ভাস্কর্য রয়েছে।

৮. সৌদি আরবে কি ভাস্কর্য নেই? সৌদি আরবে উটের ভাস্কর্য রয়েছে, সৌদি আরবের জেদ্দা মিউজিয়ামে ভাস্কর্য রয়েছে। সেখানে আয়োজিত মেলায় স্ট্যাচু অব লিবার্টির রেপ্লিকা ও শয়তানের ভাস্কর্যের প্রদর্শনী হয়েছিল।

যে উদাহরণগুলো দেওয়া হয়েছে তাতে মহানবী (সাঃ) এর ভাস্কর্য ইসলাম-সম্মত কিনা তা নিয়ে তেমন কোনো আপত্তি ওঠেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্যে ‘অন্যতম শ্রেষ্ঠ আইন প্রণেতা’ উল্লেখ করে আল্লাহর আইনকে মানুষের আইন বলা হয়েছে। এতে সম্মান দেয়া হয়েছে নাকি বিতর্ক তোলা হয়েছে তা বোঝার মতো বোধও অনেকের নেই।


ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ভাস্কর্য

কোরআনের কোথাও ছবি আঁকা বা ভাস্কর্য তৈরিকে নিষিদ্ধ বলা হয়নি। মূর্তি বা যেসব জড়বস্তুকে উপাসনা করা হয় তাকে আরবিতে বলা হয় ওয়াসান বা সানাম (বহুবচনে আওসান বা আসনাম)। এর সমার্থক শব্দ হচ্ছে মাবুদ, আল মাবুদ, সুরা, তাগুয়া ইত্যাদি। অন্যদিকে ভাস্কর্যকে বলা হয় তামাসিল/তিমসাল/তামসাল যার ইংরেজি হচ্ছে মেমোরিয়াল, মনুমেন্ট বা স্ট্যাচু। মূর্তি ও ভাস্কর্যের পার্থক্য উপাসনার কারণে। অন্যদিকে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে তাসবীরকে।

কোরআনে সুরা সাবার ১৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

‘তারা সোলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী উপাসনালয় ও দুর্গ, ভাস্কর্য, হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত।....”

ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে যে বিধিনিষেধ ছিল না তার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত রয়েছে। আবু বকর (রাঃ) এর শাসনামলে আমর বিন আসের মিশর অভিযানে ফারাও ও স্ফিংস ভাস্কর্য অক্ষত ছিল। সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসের ইরাকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সময়ও কোনো মূর্তি ভাঙ্গা হয়নি।

জাদুঘরে ভাস্কর্য অনুমোদনে ফতোয়া

ভাস্কর্য নিয়ে আপত্তি তোলার সূচনা হয় মূলত ১১ শতাব্দী থেকে ইবনে খুদামা ও ইবনে তাইমিয়ার সূত্র ধরে। বর্তমানে সৌদি আরব (জেদ্দা) সহ প্রায় সকল মুসলিম দেশেই ভাস্কর্য বা ভাস্কর্যের মিউজিয়াম রয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রদত্ত ফতোয়ায় বলা হয়, সুরা আন'আম এর ১১ ও সুরা আলে ইমরানের ১৩৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বিশ্ব ভ্রমণ করে দেখতে ও শিখতে বলেছেন। তাই ভাস্কর্য দেখে ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করা যাবে। এছাড়া মিশরের স্ফিংস ও ফেরাউনের মমিকে কোরআনে বর্ণিত আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়ছে।

আগের শরীয়তে কি ভাস্কর্য জায়েজ ছিল?

অনেকের মতো মামুনুল হকও কোরআনে ভাস্কর্য সংশ্লিষ্ট আয়াতের প্রেক্ষাপটে বলেছেন, আগের শরীয়তের অনেক কিছু রদ করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে- তিনি আগের শরীয়ত কোথায় পেয়েছেন? কোরআনে বা হাদিসে কি একে আগের শরীয়তের বিধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে? সোলায়মান (আ:) সংশ্লিষ্ট আয়াত কোথায় রদ করা হয়েছে? এর সূত্র তিনি দিতে পারবেন না।

আগের শরীয়ত বলতে যদি বাইবেল বোঝানো হয় তাহলে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বাইবেলের ওল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্টেও উপাসনার জন্য মূর্তি তৈরি করা নিষেধ রয়েছে। সুরা মায়েদার ১১০ নম্বর আয়াতে ঈশা (আঃ) কর্তৃক মাটি দিয়ে পাখি সদৃশ তৈরি করে আল্লাহর হুকুমে জীবিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, কেউ কেউ দাবি করেছেন এই আয়াতে নাকি মূর্তি তৈরি নিষিদ্ধ হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। একজন নবী হারাম কাজ করবেন তা কীভাবে কেউ চিন্তা করতে পারে জানি না! বিভিন্ন বিষয়ে এ জাতীয় হাস্যকর ফতোয়ার তালিকা করলে মহাগ্রন্থ হবে।

তর্কের খাতিরে শরীয়তের বিধান রদের কথা মেনে নিলে মানে দাঁড়ায় এই যে, মুসা (আঃ) ও ইব্রাহিম (আঃ) এর সময়ে ভাস্কর্য নিষিদ্ধ ছিল, সোলায়মান (আঃ) ও ঈশা (আঃ) এর সময়ে আবার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আসলেই যদি এমন হতো তাহলে সুস্পষ্টভাবেই নির্দেশ দেয়া হতো, যা মদ, জুয়া, সুদ ইত্যাদি বিষয়ে দেয়া হয়েছে।

হাদিসে নিষিদ্ধ তাসবীর প্রসঙ্গ

হাদিসে যে বিষয়টি নিষেধ করা হয়েছে তা হচ্ছে তাসবীর। একে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করতে হলে ছবি, ক্যামেরা, ভিডিও সবকিছুকেই হারাম হিসেবে গণ্য করতে হবে। তবে বাংলা বা উর্দু/হিন্দির তাসবীর অর্থ ও আরবির অর্থ এক নয়।

আরবি ব্যাকরণ অনুসারে তাসবীর হচ্ছে ক্রিয়া (বাবে তাফয়িলের মাসদার) অর্থাৎ তাসবীর বলতে ছবি বা চিত্রকর্ম তৈরি করাকে বোঝায় যা উপাসনা করার জন্য তৈরি করা হয়। উপাসনাকে বিবেচনা করেই তাসবীর নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেই ইবনে আব্বাস বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সাঃ) কর্তৃক তাসবীর নিষিদ্ধের কথা উল্লেখ করার পর গাছপালা ও প্রকৃতির ছবি আঁকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

উপাসনার কারণে নিষিদ্ধ ছিল বলেই মাথা ছাড়া ছবি বা প্রাণহীন কিছুর ছবি/চিত্র/শিল্পকর্ম জায়েজ এই মর্মে হাদিস পাওয়া যায়।

ইসলামের বিধিবিধানের ক্ষেত্রে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রেক্ষাপট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিচ্ছিন্ন আয়াত বা হাদিস উল্লেখ করে কেউ ইসলামের বিরোধিতা করে, কেউ ধর্ম ব্যবসা করে। ইসলামের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে তাওহীদ এবং আল্লাহর ইবাদত।

প্রি-ইসলামিক আরবে মূর্তি পূজার প্রচলন ছিল। তখন ঘোড়া, সিংহ, ঈগল ইত্যাদি পশুপাখীর মূর্তিকে দেবতা হিসেবে গণ্য করা হতো। মুহাম্মদ (সাঃ) একত্ববাদের প্রতি ঈমান সুদৃঢ় করার জন্য জীবজন্তুর ছবি আঁকা, মূর্তি তৈরি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কঠোরভাবে নিষেধ করেন যেন কেউ পূজার পথে ফিরে না যায়। যেমন: ইসলামের প্রথম যুগে কবর জেয়ারতও নিষিদ্ধ ছিল।

রাসুল (সাঃ) যখন অনুধাবন করলেন যে কবরকে উপাসনালয়ে পরিণত করা হবে না, তখন তিনি কবর জেয়ারতের অনুমতি দেন। অনুরূপভাবে কাবায় থাকা মূর্তিগুলোকে ভাঙার আদেশ দেয়া হলেও চূড়ান্তভাবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও দেব-দেবীর মূর্তির ক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করার অনুমোদন দেয়া হয়নি।

তাসবীর নিষিদ্ধ করার যে হাদিসগুলো রয়েছে তার সময়কাল বিবেচনা করলে রাসুল (সাঃ) এর ইন্তেকালের দুই বছর আগের হাদিসটি উল্লেখযোগ্য: (আবু দাউদে বর্ণিত ৪১ নং কিতাবের হাদিস নং ৪৯১৪ (কিতাবুল আদাব: ৬২)।

রাসুল (সাঃ) তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে হযরত আয়েশার (রাঃ) হাতে কিছু পুতুল দেখেন। পুতুলগুলোর একটি ছিল ঘোড়া, যার ডানা কাপড় দিয়া বানানো হয়েছে। রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞাসা করেন, ‘ডানাওয়ালা ঘোড়া?’

উত্তরে আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘আপনি কি শোনেননি যে সোলায়মানের ডানাওয়ালা ঘোড়া ছিল?’

এ প্রসঙ্গে আয়েশা বলেন, ‘এতে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এমন অট্টহাসি হাসলেন যে আমি ওনার মাড়ির দাঁত দেখতে পেলাম।’

গাজীপুর কথা