ব্রেকিং:
করোনা আপডেট বাংলাদেশ ০৫/জুলাই/২০২০ : করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৫৫ জনের মৃত্যু এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০৫২, নতুন ২৭৩৮ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৬২৪১৭, মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭২৬২৫ জন, একদিনে ১৩৯৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা।
  • সোমবার   ০৬ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২২ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪১

সর্বশেষ:
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাউন্সিল গঠন চামড়াশিল্প রক্ষায় আসছে একগুচ্ছ প্রণোদনা ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ঢাবিতে পুরোদমে অনলাইন ক্লাস ত্রাণ পেয়েছে ৭ কোটি ৩৫ লাখ মানুষ চলতি মাসেই জুনের বেতন পাবেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ডের লকডাউন প্রত্যাহার অনলাইনে পশুর হাটের উদ্যোগ গাজীপুর জেলা প্রশাসনের শ্রীপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ
১২২

বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রেলসেতু `হার্ডিঞ্জ` ব্রিজের অজানা গল্প

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২০  

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রেলসেতু। ২৪ হাজার ৪০০ শ্রমিক-কর্মচারীর পাঁচ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই ব্রিজ। পাবনা জেলার পাকশী রেলস্টেশনের দক্ষিণে পদ্মা নদীর ওপর এই সেতু অবস্থিত। তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নাম অনুসারে এই সেতুর নামকরণ করা হয়।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার। ব্রিজের ওপর দুটি ব্রডগেজ রেললাইন রয়েছে। ১৯০৮ সালে ব্রিজ নির্মাণের মঞ্জুরি পাওয়ার পর ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যার রবার্ট উইলিয়াম গেইলস হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রধান প্রকৌশলী রবার্ট শুধু ব্রিজের নকশা প্রণয়ন করেন। ব্রিজের প্রথম প্রকল্প প্রণয়ন করেন স্যার এস এম রেলডলস। এই ব্রিজে রয়েছে ১৫টি মূল স্প্যান। মূল স্প্যান ছাড়াও দুপাশে রয়েছে তিনটি করে অতিরিক্ত ল্যান্ড স্প্যান। ব্রিজ নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল রেইথ ওয়ালটি অ্যান্ড ক্রিক। সে সময় পদ্মা ছিল প্রমত্তা ও ভয়াল। ব্রিজ নির্মাণের বড় সমস্যা ছিল নদীর গতি নিয়ন্ত্রণ করে ব্রিজের নিচ দিয়ে স্থায়ীভাবে প্রবাহিত করা। ব্রিজটি নির্মাণের শত বছর পরও বিশ্বের প্রকৌশলীদের কাছে এটি বিস্ময়কর হয়ে আছে। 

শতবর্ষের ঐতিহ্য বহনকারী ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত পাবনার হার্ডিঞ্জ রেলওয়ে ব্রিজ- শুধু স্থাপনা নির্মাণ কৌশলের সাথেই নয়, এর ইতিহাসযুক্ত হয়েছে স্বাধীনতাযুদ্ধের সাথে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উত্তর-দক্ষিণবঙ্গের সাথে পাকহানাদার বাহিনীর রেলওয়ে যোগাযোগ বন্ধ করতে ভারতীয় মিত্রবাহীনির একটি বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বোমার আঘাতে ধ্বংস হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের স্প্যানের একটি অংশ। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর। কুষ্টিয়া-ভেড়ামারা এবং পাবনার পাকশী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান ছিল। পাক হানাদার বাহিনী এই খবর জানার পর তাদের সমর শক্তি বৃদ্ধি করতে রেলওয়ে ব্রিজ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিলে তৎকালীন ইপিআর এর ওয়ারলেস থেকে বিষয়টি অবহিত করা হয় বলে জানা যায়। এই খবর পাওয়ার পর মিত্র বাহিনীর একটি যুদ্ধ বিমান থেকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের উপর বোমা নিক্ষেপ করা হলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১২ নম্বর স্প্যান ভেঙ্গে পড়ে। যোগাযোগ বিচ্ছন্ন হয়ে যায়। রণকৌশলে মুক্তিযোদ্ধারা আরও এগিয়ে যায়। জানা যায়, বোমা আঘাতে ১২ নম্বর গাডার স্প্যানটি ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। 

দেশ স্বাধীনের পরে ভারত সরকারের সহযোগিতায় প্রথম হার্ডিঞ্জ ব্রিজের স্প্যান নির্মিত হয়। আর ঝুলে থাকা স্প্যাানটি ভেঙ্গে সরিয়ে নেবার চেষ্টা করা হয়। দুটি পন্টুন পদ্মা নদী বক্ষে রেখে ভাঙ্গা স্প্যান কেটে দেয়া হলে সেটি পন্টুনে পড়লে পন্টুন স্প্যানের লোহার ভার বহন করতে না পেরে দু'ভাগে সরে যায় আর বিশাল আকৃতির ১২ নম্বর স্প্যানটি তলিয়ে যায় পদ্মা নদী বক্ষে। ভারতের প্রকৌশলীরা স্প্যান তৈরী করলে সেটি আগের ডিজাইন মত না হওয়ায় পরে মূল নকশা অনুযায়ী ব্রিটিশ প্রকৌশলীরা পূর্বের আদলে স্প্যান তৈরী করে দেয়। ১৯৭৫ সালে নতুন করে সেটি প্রতিস্থাপন করা হয়। ওই বছরের ৫ আগস্ট হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়। 

পদ্মা নদী বক্ষের পানি কমে যাওয়ায় দীর্ঘ  ৪৪ বছর পরে জেগে উঠে পাকশীর পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া সেই স্প্যানটি। তবে এটি সেখান থেকে আর সরানো যাচ্ছে না। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ আর পরে নির্মিত লালন শাহ সড়ক সেতুর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ১২ নম্বর স্প্যানের অংশটি নদীর বুক থেকে ২০১৬ সালে জেগে উঠে মনে করিয়ে দিচ্ছে, স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের সাথে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে থাকরে কথা।

২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে পদ্মার লক্ষ্মীকুণ্ডা প্রান্তে নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেদের জাল পানির নিচে আটকে যায়। কয়েকজন জেলে পানিতে ডুব দিয়ে জাল ছাড়াতে গিয়ে প্রকাণ্ড একটি বস্তুর সন্ধান পান। তারা জাল ছাড়িয়ে সেখান থেকে চলে আসেন। নদীতে পানি শুকিয়ে এলে সেখানে বড় আকৃতির একটি লৌহখণ্ড দেখতে পাওয়া যায়। মজবুত লোহার প্রতিটি স্প্যানের ওজন ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন। এগুলোর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৩৬০ ফুট। এত বিশাল আকৃতির স্প্যান নদী থেকে ওঠানোর মতো যন্ত্রপাতি বর্তমানে রেলওয়ের নেই। ভেঙে পড়ার পর থেকে স্রোতে স্প্যানটি সেতু থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ভেসে গেছে।

মুক্তিযোদ্ধারা ও এলাকাবাসী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসাবে এই স্প্যান সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

তথ্য সূত্র: উইকিপিডিয়া ও রেলওয়ে।

গাজীপুর কথা
ঐতিহ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর