ব্রেকিং:
করোনা আপডেট বাংলাদেশ ২০/০৯/২০২০: করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২৬ জনের মৃত্যু এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯৩৯, নতুন ১৫৪৪ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩৪৮৯১৬ জন। নতুন ২১৭৯ জনসহ মোট সুস্থ ২৫৬৫৬৫ জন। একদিনে ১১৫৯১টি সহ মোট নমুনা পরীক্ষা ১৮২১২৭০টি।
  • সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৬ ১৪২৭

  • || ০৩ সফর ১৪৪২

সর্বশেষ:
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সকলেই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে : প্রধানমন্ত্রী অনলাইনে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ৩৬ টাকা ৪০ উপজেলায় অ্যাপে আমন ধান কিনবে সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা এরদোয়ানের মহানগরের হায়দরাবাদ এলাকায় রমনী কুমার বিদ্যালয়ের ৬তলা ভিত স্থাপন গাজীপুরে ২৪ ঘন্টায় নতুন ৩ জন করোনায় আক্রান্ত গাজীপুরে আলাদা দু’টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ২ গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সেজেছে বর্ণিল ফুলে ফুলে এলইডি বাতিতে আলোকিত হচ্ছে ডিএনসিসির সড়ক দেড় হাজার মেট্রিক টন ভারতীয় পেঁয়াজ এসেছে আইনমন্ত্রীর মহানুভবতায় বিক্রি করা সন্তান ফিরে পেলেন মা শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে আসছে নানা কর্মসূচি
১৭৯

বাংলাদেশের নড়াইলের জামাই ছিলেন প্রণব মুখার্জি

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২০  

ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি হলেও প্রণব মুখার্জির আরো একটা পরিচয় আছে। বাংলাদেশের নড়াইল জেলার সদর উপজেলার ভদ্রবিলা গ্রামের জামাই তিনি।

ভদ্রবিলা গ্রামের মেয়ে শুভ্রা মুখার্জি। ছোটবেলায় যাকে আদর করে ডাকা হতো ‘গীতা’ বলে। নড়াইলের সেই ‘গীতা’ নামের মেয়েটিই ভারতবাসীর কাছে ‘শুভ্রা মুখার্জি’ নামে পরিচিত। যিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী। গ্রামের সাধারণ মেয়ে থেকে তিনি হয়ে যান ভারতের রাষ্ট্রপতির স্ত্রী।

 

 

শুভ্রা মুখার্জির জীবনী থেকে জানা যায়, ১৯৪৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নড়াইলের ভদ্রবিলা গ্রামে বাবা অমরেন্দ্র ঘোষ ও মা মীরা রানী ঘোষের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শুভ্রার শৈশবের প্রথম দিকটা নড়াইলের ভদ্রবিলা গ্রামে নিজবাড়িতে (পিত্রালয়) কাটলেও পরবর্তীতে মামাবাড়ি তুলারামপুরে চলে যান। মামাবাড়ি থেকে স্থানীয় চাঁচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরে ১৯৫৫ সালের দিকে মায়ের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় চলে যান শুভ্রা।

৯ ভাই-বোনের মধ্যে শুভ্রা ছিলেন দ্বিতীয়। পরবর্তীতে তার অন্য ভাই-বোনেরা ভারতে চলে গেলেও নড়াইলের ভদ্রবিলা গ্রামে বসবাস করছেন শুভ্রার ভাই কানাই লাল ঘোষ। ভদ্রবিলার পৈতৃক ভিটা ও জমিজমা দেখাশোনা করেন তিনি (কানাই লাল)। শুভ্রার মামাতো ভাইয়েরা বসবাস করছেন তুলারামপুর গ্রামে। প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বিয়ের পর নড়াইলের মেয়ে ‘গীতা ঘোষ’ পরিচিতি পান ‘শুভ্রা মুখার্জি’ হিসেবে। 

 

 

কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী শুভ্রা পেশায় ছিলেন শিক্ষক। গাইতে পারতেন রবীন্দ্রসংগীতও। লিখেছেন ‘চোখের আলোয়’, ‘চেনা অচেনায় চীন’, ‘INDIRA GANDHI IN MY EYES’  (আমার চোখে ইন্দিরা গান্ধী) প্রবন্ধ গ্রন্থসহ গল্প ও ফিচার। 

শুভ্রা মুখার্জি ‘চোখের আলোয়’ গ্রন্থে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, তার (শুভ্রা) বয়স তখন ১৪, প্রণব মুখার্জির বয়স ২২ বছর। সেই বয়সে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। শুভ্রা ও প্রণব মুখার্জির দুই ছেলে অভিজিৎ মুখার্জি ও সুরজিৎ মুখার্জি এবং মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি মুন্নি। ভারতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত তারা।

শুভ্রা মুখার্জির মামাতো ভাই নড়াইলের তুলারামপুর গ্রামের কার্তিক ঘোষ জানান, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মামা শ্বশুরবাড়ি আমাদের তুলারামপুর গ্রাম। বিশেষ করে গীতা দিদির শৈশব কেটেছে আমাদের বাড়িতেই। দিদি তুলারামপুরে থেকে চাঁচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েছেন দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত। তারপর চলে যান ভারতে। 

কার্তিক বলেন, ১৯৯৫ সালে মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি মুন্নিকে নিয়ে দিদি আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। তবে, সে সময় সঙ্গে ছিলেন না আমাদের জামাইবাবু প্রণব মুখার্জি। পরে ২০১৩ সালের ৫ মার্চ জামাইবাবুকে (প্রণব মুখার্জি) সঙ্গে করে নড়াইলের ভদ্রবিলার বাড়িতে আসেন গীতা দিদি।

 

 

তুলারামপুর এলাকার ৯৬ বছরের বায়োবৃদ্ধ এক নারী বলেন, ছোটবেলায় গীতা আমাদের ঘাটেই (পুকুর) গোসল করতো। সমবয়সীদের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠত। বাগানে আম কুড়াতো। নড়াইলের বিভিন্ন পেশার মানুষ বলেন, গীতা (শুভ্রা) নিজের মেধা, মনন, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে গ্রামের সাধারণ মেয়ে থেকে হলেন ভারতের রাষ্ট্রপতির স্ত্রী। ভারতের রাইসিনা হিলের (ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন) ফাস্টলেডি, অনন্য সাধারণ নারী।

উল্লেখ্য, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও অস্ত্রোপচার, এরমধ্যেই প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমণ। জোড়া ধাক্কা সামলাতে পারলেন না ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি। সোমবার দিল্লির আর্মি হসপিটাল রিসার্চ অ্যান্ড রেফারালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন স্বাধীনতা উত্তর সর্বভারতীয় রাজনীতির সফলতম বাঙালি প্রণব মুখার্জি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো প্রায় ৮৪ বছর। এর আগে, ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট নয়াদিল্লির একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তার স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জি।

গাজীপুর কথা
সারাদেশ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর