ব্রেকিং:
করোনা আপডেট বাংলাদেশ ৩০/১০/২০২০: করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৯ জনের মৃত্যু এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯০৫, নতুন ১৬০৪ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪০৬৩৬৪ জন। নতুন ১৪২২ জনসহ মোট সুস্থ ৩২২৭০৩ জন। একদিনে ১৪১৪১টি সহ মোট নমুনা পরীক্ষা ২৩২৪৭৩০ টি।
  • শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১৫ ১৪২৭

  • || ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সর্বশেষ:
করোনায় সশস্ত্রবাহিনী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে: প্রধানমন্ত্রী আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ৪১শ কোটি ডলার ছাড়াল রিজার্ভ শিগগিরই ঢাকায় আসছেন এরদোয়ান ৮ ব্যক্তি ১ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী সব জেলায় ১০ নভেম্বর থেকে ই-পাসপোর্ট ১ নভেম্বর থেকে খুলে দেয়া হচ্ছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়লো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি
৭২

ফিরে দেখা: দেড় হাজার সেনা সদস্য হত্যার রক্তাক্ত অধ্যায়

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর, ১৯৭৭। বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কিত ও রক্তাক্ত  এক অধ্যায়। ৪৩ বছর আগে যে হত্যা ও রক্তপাতের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন সামরিক এক নায়ক জিয়াউর রহমান; সেই স্মৃতি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে। ১৫৬ জন যাত্রীসহ একটি জাপানি বিমান ছিনতাই করা হয়। ছিনতাইকারীরা বিমানটিকে ঢাকায় অবতরণ করায়। এই ছিনতাই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়। সেটা দমনে নির্মম হন জিয়া। বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালানো শুরু হয়েছিল এই দিন থেকেই। ২৯ তারিখ থেকে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল। এর ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর মুক্তি দেয়া হয়েছিল ৫ জনকে। কিন্তু এর মধ্যেই বগুড়া সেনা নিবাসে শুরু হয় গোলযোগ। জিয়ার বিরুদ্ধে ফুসে থাকা সেনা সদস্যরা বিদ্রোহ করে। বিদ্রোহ দমনে নির্বিচারে হত্যার পথ বেছে নেন জিয়া।

১ অক্টোবর বিমান ছিনতাইকারীদের দাবি অনুযায়ী, জাপানের জেলে আটক ছয়জন বন্দি রেড আর্মি এবং ৬০ লাখ ডলারসহ অপর একটি জাপানি বিমান ঢাকায় আসে। মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি পায় অধিকাংশ জিম্মি। এ সময় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সেনা বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। সেনা সদস্যদের মধ্যে চলে গুলি এবং পাল্টা গুলি। ঢাকা বিমান বন্দরে কর্তব্যরত অবস্থায় বিমান বাহিনীর ১১ জন কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর ১০ সদস্য নিহত হন। আহত হন ৪০ সেনা সদস্য। এরপর জিয়া শুরু করেন নির্মূল অভিযান।

বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের অনেককে তাৎক্ষণিক হত্যা করা হয়। অনেককেই আটক করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। এরপর এক প্রহসনের বিচার মঞ্চস্থ হয়। কোনো রকম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয় হাজার খানেক সেনা সদস্যদের। শুধু কারাগারে গিয়ে তাদের রায়ের অংশ পড়ে শোনানো হতো। এর পরপরই ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হতো। একাধিক গবেষণায় দেখা যায়, জিয়া সেনাবাহিনীতে তার ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে এবং সেনাবাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধা শূন্য করতেই ইতিহাসের নৃশংসতম এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। এই সময় কত সেনা কর্মকর্তা জিয়ার নির্মমতায় মৃত্যু বরণ করেছিলেন, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তবে লারউইন লিফ্রসুইজ তার এক গবেষণায় দাবি করেন যে, দেড় হাজার থেকে দুই হাজার সেনা সদস্যকে বিচারের নামে হত্যা করা হয়েছিল। এটাকে অনেক গবেষক ঠান্ডা মাথার ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ক্ষমতায় থাকার জন্য এভাবে সেনা সদস্য হত্যা ছিল এক নজীর বিহীন বর্বরতা।

গাজীপুর কথা
ইতিহাস বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর