ব্রেকিং:
করোনা আপডেট বাংলাদেশ ০৮/আগস্ট/২০২০: করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩২ জনের মৃত্যু এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৬৫, নতুন ২৬১১ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৫৫১১৩, নতুন ১০২০ জনসহ মোট সুস্থ ১৪৬৬০৪ জন, একদিনে ১১৭৩৭ টি সহ মোট নমুনা পরীক্ষা ১২৪৯৫৬০ টি।
  • রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭

  • || ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
আজ জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে সপ্তাহব্যাপী প্রদশর্নী শুরু আজ একাদশের ভর্তি শুরু হচ্ছে আজ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর: প্রধানমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব নারী সমাজের প্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি বঙ্গমাতার জন্মদিনে ১৩০০ নারীকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার মাহিন্দা রাজাপাকসেকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন আদিবাসী শব্দ ব্যবহার না করতে তথ্য বিবরণী জারী করেছে সরকার কালিয়াকৈরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল গাসিক মেয়রের নির্দেশে বন্যার্তদের ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন কাউন্সিলররা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিবসে কাপাসিয়ায় সেলাই মেশিন বিতরণ
৮৩

প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য হারিকেন বিলুপ্তির পথে

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২০  

গ্রামীণ জীবনে অন্ধকার দূর করতে একমাত্র অবলম্বন ছিল হারিকেন। হারিকেন জ্বালিয়েই বাড়ি উঠানে বা বারান্দায় পড়াশোনা করতো শিক্ষার্থীরা। রাতের বেলায় পথ চলার জন্য ব্যবহৃত ছিল হারিকেন। হারিকেনের জ্বালানি আনার জন্য প্রতি বাড়িতেই থাকতো কাচের বিশেষ ধরনের বোতল। সেই বোতলে রশি লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হতো। হাটের দিনে সেই রশিতে ঝুলানো বোতল হাতে যেতে হতো হাটে। এ দৃশ্য বেশি দিনের নয়। পল্লীবিদ্যুতায়নের যুগে এখন আর এমন দৃশ্য চোখে পড়ে না।

প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য কুপি বাতি (টেমি) ও হারিকেন এখন শুধুই স্মৃতি। যেখানে গ্রাম বাংলার প্রতি গৃহের অতি প্রয়েজনীয় কুপি ও হারিকেন আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। গ্রামের আমাবষ্যার রাতে মিটি মিটি আলো জ্বালিয়ে মানুষের পথ চলার স্মৃতি এখনও তাড়া করে।
চলচ্চিত্রের প্রথম আমলের ছবিগুলোর দিকে এক নজর তাকালেই তার নমুনা পাওয়া সম্ভব। যেখানে সিনেমার নায়িকা তার ভালোবাসার মানুষটিকে অন্ধকার রাতে খুঁজে পেতে কুপি হারিকেন নিয়ে ছুটে আসে।

আবার বাংলার সাহিত্যের অন্যতম ‘ডাক হরকরা’ গল্পের নায়ক তার এক হাতে হারিকেন আর অন্য হাতে বল্লম নিয়ে রাতের আধারে ছুটে চলে তার কর্ম পালনে। একটা সময় ছিল যখন বাহারি ধরনের কুপি ও হারিকেন ছিল মানুষের অন্ধকার নিবারণের অবলম্বন।
কিন্তু কালের বির্বতনে কুপি বাতি ও হারিকেনের স্থান দখল করে নিয়েছে বিজ্ঞান প্রযুক্তি বৈদ্যুতিক বাল্ব, সৌরবিদ্যুৎ, চার্জার লাইটসহ মোমবাতি আরও অনেক কিছুই। ফলে ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় এই নির্দশনটিও।

এই কুপি ও হারিকেনগুলো ছিল বাহারি ডিজাইনের। এর মধ্যে মাটি, লোহা, কাঁচের বোতল আবার পিতলের তৈরি কুপিও ছিল। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী লোকজন কুপি ও হারিকেন কিনে সেগুলো ব্যবহার করতেন।

বাজারে সাধারণত ছোট বড় দুই ধরনের কুপি ও হারিকেন পাওয়া যেতো। কুপি হতে বেশি আলো পাওয়ার লক্ষ্যে ছোট কুপিগুলোর জন্য কাঠ, মাটি বা বাঁশের তৈরি গাছা (স্ট্যান্ড) ব্যবহার করা হতো। এই গাছগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের। কিন্তু বর্তমানে গ্রাম বাংলার ডিজিটাল বিদ্যুতের ছোয়ায় কুপি ও হারিকেনের কদর হারিয়ে গেছে। রিকশাগুলোর নিচে রাতের আঁধারে হারিকেনের ব্যাপক ব্যবহার ছিল এখনও প্রায় ভ্যান ও রিকশাগুলোতে এই আলোর ঝিলিক চোখে পড়ে।

বিদ্যুৎ না থাকলেও অবশিষ্ট সময় মানুষ ব্যবহার করেছে বিভিন্ন ধরনের চার্জার লাইট ও মোমবাতি। গ্রাম বাংলার আপামোর লোকের কাছে কুপি ও হারিকেনের কদর হারিয়ে গেলেও এখনও অনেকে আকড়ে ধরে আছেন কুপি ও হারিকেনের স্মৃতি। একসময় কুপি বাতি  (টেমি) ও হারিকেন দেখতে যেতে হবে যাদুঘরে। প্রযুক্তির আধুনিকতা আর উন্নত জীবন-যাপন প্রনালীর কারণে দিন দিনই মানুষের মাঝে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যার ফলে এক সময়ের অন্ধকার দূর করার একমাত্র অবলম্ভন হারিকেন বিলুপ্তির পথে।

প্রবীণদের মতামত এক সময় কুপি বাতি (টেমি) ও হারিকেন দেখতে যেতে হবে জাদুঘরে। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেও না হারিকেনের ইতিহাস। চায়না, জাপানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ খুব দ্রুতই চার্জ সংরক্ষনকারী আলোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। এক সময় হয়তো চিরতরে বিলুপ্ত হবে হারিকেন।

গাজীপুর কথা
ঐতিহ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর