ব্রেকিং:
করোনা আপডেট বাংলাদেশ ২৭/১১/২০২০: করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২০ জনের মৃত্যু এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫৪৪, নতুন ২২৭৩ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪৫৮৭১১ জন। নতুন ২২২৩ জনসহ মোট সুস্থ ৩৭৩৬৭৬ জন। একদিনে ১৬৩৭৮টি সহ মোট নমুনা পরীক্ষা ২৭২৯৫৮০টি।
  • শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৭

  • || ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

সর্বশেষ:
সৌদি সহায়তায় ৮ বিভাগে ‘আইকনিক মসজিদ’ নির্মিত হবে: প্রধানমন্ত্রী বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের আর নেই, প্রধানমন্ত্রীর শোক ২৭ নভেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর জন্মদিন বছরে প্রতি উপজেলা থেকে এক হাজার কর্মী যাবে বিদেশ ২৭ নভেম্বর, শহীদ ডা. মিলন দিবস মা-বাবার পাশে চিরশায়িত ডিয়েগো ম্যারাডোনা
১০১

এক শাড়ির দাম দেড় লাখ টাকা, ৯০০ বছরের ঐতিহ্য এই পরিবারের

গাজীপুর কথা

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২০  

সুক্ষ্ম কাজে ঠাসা এই শাড়ি। দেখতে ভারী লাগলেও আসলে তা খুবই হালকা। এক একটা শাড়ির ওজন মাত্র ৪৫০ গ্রাম। এই শাড়িগুলোরই একেকটির দাম নূন্যতম দেড় লাখ টাকা। বহু মেহনত করে এক পরিবার দীর্ঘ ৯০০ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় এই ধাঁচের শাড়ি তৈরি করে আসছে।

মহামূল্যবান এই শাড়ির কদর বিশ্বজোড়া। নাম পাটন পাটোলা। সারা বিশ্বে ভারতের এই শিল্পের জনপ্রিয়তা আকাশ ছোঁয়া। বিশ্বের বিলাসবহুল পোশাকের সঙ্গে একই সারিতে বসানো হয় এই পাটন পাটোলা শাড়িকে।

 

পাটোলা শাড়ির বুনন কাজ চলছে

পাটোলা শাড়ির বুনন কাজ চলছে

পাটন পাটোলার কাহিনী শুরু হয় ৯০০ বছর আগে। বলা হয় রাজা কুমারপালার হাত ধরেই এর আত্মপ্রকাশ। গুজরাটের পাটন জেলা থেকেই সূত্রপাত এই শিল্পের। তাই এমন নাম। 

পাটনের রাজা কুমারপালার অত্যন্ত পছন্দের ছিল এই ধরণের পোশাক। তিনি মন্দিরে প্রার্থনা করার আগে রোজ নিত্য নতুন পাটোলা ফ্যাব্রিকের পোশাক পরতেন।রাজার বিশ্বাস ছিল, পাটোলা শাড়ি শুদ্ধতার প্রতীক। এই পোশাক পরে প্রার্থনা করলে অশুভ কিছু ঘটবে না।

 

৯০০ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় এই পরিবার পাটোলা শাড়ির কারিগর

৯০০ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় এই পরিবার পাটোলা শাড়ির কারিগর

তখন অবশ্য গুজরাটের পাটন জেলায় এই পাটোলা শিল্প গড়ে ওঠেনি। মূলত মহারাষ্ট্রের জালনার কারিগরদের কাছ থেকে তা আমদানি করতেন রাজা।

কুমারপালা পরে জানতে পারেন, তার কাছে বিক্রি করার আগে জালনার রাজা সেগুলোকে বিছানার চাদর হিসেবে ব্যবহার করতেন। তারপরই সেই জেলা থেকে সেগুলো বিক্রির উদ্দেশে অন্যত্র পাড়ি দিত।

 

সুক্ষ্ম কাজে ঠাসা পুরো শাড়ি

সুক্ষ্ম কাজে ঠাসা পুরো শাড়ি

এটা জানার পর রাজার সম্মানে আঘাত আসে। মহারাষ্ট্র এবং কর্নাটক থেকে ৭০০ পাটোলা শিল্পীর পরিবারকে নিজের রাজ্যে নিয়ে চলে আসেন। তাদের পুনর্বাসন দেয়া হয় পাটন জেলায়। তখন থেকে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে গুজরাটের পাটন পাটোলা।

খুব জটিল পদ্ধতিতে তৈরি এই পোশাক বানাতে সময় লাগে অন্তত সাত মাস। তবে আশ্চর্যের বিষয়, রাজা এই পোশাক নিয়ে এতটাই নাছোড়বান্দা ছিলেন যে, প্রতিদিনই একটা করে নতুন পোশাক পরতেন প্রার্থনার আগে।

 

কাস্টমাইজড শাড়ির তৈরিতে সময় লাড়ে দুই বছর

কাস্টমাইজড শাড়ির তৈরিতে সময় লাড়ে দুই বছর

এই শাড়ি বুননের পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল। সিল্ক সুতোয় বোনা হয় শাড়ি। যেকোনো সাধারণ কারিগরের পক্ষে তা করা প্রায় অসম্ভব। শাড়ি ছিঁড়ে যাবে, তবু রং যাবে না- এই শাড়ি নিয়ে গুজরাটে এমন কথাই প্রচলিত।

এক একটা শাড়ি বুনতে সময় লাগে অন্তত সাত মাস আর একটা কাস্টমাইজড শাড়ি বুনতে সময় লাগে অন্তত দুই বছর। সে কারণে আসল পাটোলা শাড়ির দামও আকাশ ছোঁয়া। দাম শুরু হয় দেড় লাখ টাকা থেকে।

 

পাটোলা শাড়িতে এক মডেল

পাটোলা শাড়িতে এক মডেল

পাটোলা শিল্পীদের যে ৭০০ পরিবার ছিল, তাদের মধ্যে একটি পরিবার ছাড়া অন্যেরা সবাই ধীরে ধীরে নানা পেশায় চলে গিয়েছেন। গুজরাট বা বলা যায় ভারতে এখন একমাত্র সালভি পরিবারই ৯০০ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় এই কাজ করে আসছে।

এই পরিবারই একমাত্র পুরনো পদ্ধতিতে এবং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক দ্রব্যের ব্যবহার করে পাটোলা শাড়ি বুনে থাকেন। হলুদ, এক বিশেষ ধরনের গাছের শিকড়, গাঁদা ফুল, বেদানা ইত্যাদি ব্যবহার করেই শাড়ির মধ্যে ফুটিয়ে তোলা হয় নানা রং।

 

বর্তমানে একটি পরিবারই টিকে রয়েছে এই শিল্পের ঐতিহ্য রক্ষায়

বর্তমানে একটি পরিবারই টিকে রয়েছে এই শিল্পের ঐতিহ্য রক্ষায়

তাই সৌখিন মানুষদের ভীড় জমে এই পরিবারের কাছে মূল্যবান এই শাড়ির অর্ডার দিতে। চাইলেই তো আর হাতের মুঠোয় পাওয়া যায় না শাড়িগুলো। এজন্য অপেক্ষা করতে হয় সাত মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত। এ যেন রাজকীয় শাড়ি! 

গাজীপুর কথা